জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় প্রাণহানির ঘটনায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচারকাজ শেষে তা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছে ট্রাইব্যুনাল।
আগামী ১ জুলাই ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি শুরুর আগেই চলতি জুন মাসের মধ্যে এই দুই নেতার মামলার রায় ঘোষণা হবে বলে প্রত্যাশা করছে প্রসিকিউশন।
বুধবার (১০ জুন) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এসময় এই দুই নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই দুই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়ে রায়ের জন্য অপেক্ষামান রয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আমাদের ট্রাইব্যুনালে জাসদের হাসানুল হক ইনু এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ- এই দুজনের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে দুটি মামলা হয়েছিল। এই দুটি মামলাতেই আমরা সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। দুটি মামলাতেই কুষ্টিয়াতে তাদের সংশ্লিষ্টতা এবং ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেস্পন্সিবিলিটি’ ছিল।”
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সঙ্গে এই দুই নেতার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, “তারা কেন্দ্রীয়ভাবে শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও সকল সিদ্ধান্তের সাথে সহযোগী ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যখন দেখামাত্র গুলির নির্দেশনার কথা বলেছিলেন, তখন মাহবুবউল আলম হানিফ তার পাশে ছিলেন।”
আন্দোলন দমাতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে আমিনুর ইসলাম বলেন, “পরবর্তীতে যখন আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের মধ্যে একটি কথোপকথন হয়, সেখানে আনিসুল হক সাহেব বলেছিলেন যে, ‘কারফিউ দিয়ে সব শেষ করে দিতে হবে’। তারই ধারাবাহিকতায় কারফিউ জারি হয় এবং বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।”
কুষ্টিয়ায় ৫ আগস্ট ছয়জন নিহতের ঘটনায় এই দুই নেতার ভূমিকা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “হাসানুল হক ইনু এবং মাহবুবউল আলম হানিফ কুষ্টিয়ায় স্ব স্ব রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আন্দোলন দমনের জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাদের দিকনির্দেশনা পেয়ে নেতাকর্মীরা তৎকালীন পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে, যাতে ছয়জন নিহত হয়। তারা দুজনেই সেখানকার তৎকালীন ডিসি ও এসপির সাথে কথা বলে কঠোরভাবে আন্দোলন দমনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।”
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা তাদের বিরুদ্ধে তিনটি করে চার্জ এনেছিলাম- ১৭ জুলাই, ২৭ জুলাই ও ৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে। সাক্ষীরা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন। হাসানুল হক ইনুর কেস আগেই সাম-আপ হয়ে সিএভি (রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ) রাখা হয়েছে। আজকে মাহবুবউল আলম হানিফের আর্গুমেন্ট ও সামিং-আপ শেষ হয়েছে, এটিও সিএভিতে রাখা হয়েছে।”
চলতি মাসেই রায়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল বাৎসরিক ছুটি ভোগ করবে। আমরা আবেদন করেছি ছুটিতে যাওয়ার আগেই যেন এই দুটি মামলার জাজমেন্ট প্রচার করা হয়। তিনটি চার্জ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আমরা দুজনেরই সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছি।”
গত ১৪ মে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এই মামলায় একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনু।
ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে নিজের নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া, শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে আন্দোলনকারীদের দমনে গুলির নির্দেশ দেওয়া, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের গুলির নির্দেশ দেওয়া ইত্যাদি।
অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক আজ বুধবার (১০ জুন) শেষ হয়েছে।
এদিন আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আমির হোসেন। পরে যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
হানিফ ছাড়া এই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চারজনই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে, ৭ জুন হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে প্রসিকিউশন। এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয় ১১ মে। গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তার জেরার মধ্য দিয়ে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরদিন ৬ অক্টোবর তা আমলে নেওয়া হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় প্রাণহানির ঘটনায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচারকাজ শেষে তা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছে ট্রাইব্যুনাল।
আগামী ১ জুলাই ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি শুরুর আগেই চলতি জুন মাসের মধ্যে এই দুই নেতার মামলার রায় ঘোষণা হবে বলে প্রত্যাশা করছে প্রসিকিউশন।
বুধবার (১০ জুন) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এসময় এই দুই নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই দুই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়ে রায়ের জন্য অপেক্ষামান রয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আমাদের ট্রাইব্যুনালে জাসদের হাসানুল হক ইনু এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ- এই দুজনের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে দুটি মামলা হয়েছিল। এই দুটি মামলাতেই আমরা সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। দুটি মামলাতেই কুষ্টিয়াতে তাদের সংশ্লিষ্টতা এবং ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেস্পন্সিবিলিটি’ ছিল।”
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সঙ্গে এই দুই নেতার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, “তারা কেন্দ্রীয়ভাবে শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও সকল সিদ্ধান্তের সাথে সহযোগী ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যখন দেখামাত্র গুলির নির্দেশনার কথা বলেছিলেন, তখন মাহবুবউল আলম হানিফ তার পাশে ছিলেন।”
আন্দোলন দমাতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে আমিনুর ইসলাম বলেন, “পরবর্তীতে যখন আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের মধ্যে একটি কথোপকথন হয়, সেখানে আনিসুল হক সাহেব বলেছিলেন যে, ‘কারফিউ দিয়ে সব শেষ করে দিতে হবে’। তারই ধারাবাহিকতায় কারফিউ জারি হয় এবং বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।”
কুষ্টিয়ায় ৫ আগস্ট ছয়জন নিহতের ঘটনায় এই দুই নেতার ভূমিকা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “হাসানুল হক ইনু এবং মাহবুবউল আলম হানিফ কুষ্টিয়ায় স্ব স্ব রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আন্দোলন দমনের জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাদের দিকনির্দেশনা পেয়ে নেতাকর্মীরা তৎকালীন পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে, যাতে ছয়জন নিহত হয়। তারা দুজনেই সেখানকার তৎকালীন ডিসি ও এসপির সাথে কথা বলে কঠোরভাবে আন্দোলন দমনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।”
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা তাদের বিরুদ্ধে তিনটি করে চার্জ এনেছিলাম- ১৭ জুলাই, ২৭ জুলাই ও ৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে। সাক্ষীরা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন। হাসানুল হক ইনুর কেস আগেই সাম-আপ হয়ে সিএভি (রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ) রাখা হয়েছে। আজকে মাহবুবউল আলম হানিফের আর্গুমেন্ট ও সামিং-আপ শেষ হয়েছে, এটিও সিএভিতে রাখা হয়েছে।”
চলতি মাসেই রায়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল বাৎসরিক ছুটি ভোগ করবে। আমরা আবেদন করেছি ছুটিতে যাওয়ার আগেই যেন এই দুটি মামলার জাজমেন্ট প্রচার করা হয়। তিনটি চার্জ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আমরা দুজনেরই সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছি।”
গত ১৪ মে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এই মামলায় একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনু।
ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে নিজের নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া, শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে আন্দোলনকারীদের দমনে গুলির নির্দেশ দেওয়া, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের গুলির নির্দেশ দেওয়া ইত্যাদি।
অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক আজ বুধবার (১০ জুন) শেষ হয়েছে।
এদিন আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আমির হোসেন। পরে যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
হানিফ ছাড়া এই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চারজনই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে, ৭ জুন হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে প্রসিকিউশন। এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয় ১১ মে। গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তার জেরার মধ্য দিয়ে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরদিন ৬ অক্টোবর তা আমলে নেওয়া হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন