রক্তে কেনা মাটি
আসাদ মান্নান
গাছগুলো পাতাহীন শূন্যতায় নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে
বিরহের হাত ধরে বিধবার শাড়ি পরে আছে;
চারিদিকে আগুনের কৃষ্ণচূড়া গ্রীষ্মের খোঁপায়;
বাতাসে নিঃশ্বাস ফেলে মৃত্যুবাহী অলীক ড্রাগন;
পড়ন্ত গোধূলি মুখে মাতৃহীন এক অন্ধ কবি
গায় গান রাখালিয়া শৈশবের চরের বাতানে;
গরুগুলো হাম্বা রবে সমুদ্রের কোলাহল চাটে:
সবুজ নদীর পাড়ে ডিম পাড়ে মার্কিন কুমির|
একে একে ফিরে যাচ্ছে জননীর প্রিয় সন্তানেরা!
মৌনতার তাঁত কলে তৈরি হচ্ছে মৃতের পোশাক—
ভূপতিত বীরবাহু চিরঘুমে শায়িত লঙ্কায়;
হাজার বেহুলা নাচে নগ্ন রূপে অলকাপুরীতে;
জনম দুঃখিনী এ বাংলার নির্বোধেরা কী আনন্দে
মার্কিন দাসত্ব দামে বিক্রি করে রক্তে কেনা মাটি!
উন্মত্ত পৃথিবী
রবীন্দ্র গোপ
তাপদগ্ধ পৃথিবী কখনো আগুন উগলে দেয়
কখনো আবার বরফ উগলে দেয় উন্মত্ততা
গলিত লাভায় পুড়ে ছারখার মানব সভ্যতা
এ এক অলৌকিক কাণ্ড লণ্ডভণ্ড ধ্বংসযজ্ঞ
সুনামি নেংটো উন্মত্ত পৃথিবী ধ্বংসলীলা|
কৃষ্ণচূড়া ঝরে যায় ফুলের সৌন্দর্য হারায় প্রকৃতি
অনন্ত আঁধার আকাশ দিগন্তে নীল ঢেকে দেয়
হাহাকার চারদিকে বুকের ভেতর জ্বলন্ত শ্মশান
সাক্ষাৎ ধ্বংস দেবতা নৃত্য রসের খেলায় মত্ত
এ কোন অস্ফুট পৃথিবীতে আমাদের বেঁচে থাকা|
উড়ে যায় পাখি থেমে যায় গান নক্ষত্র খামার
পিপাসা ও ভুলে গেছে পাখি যেন কিছু নেই কেউ
সারারাত বিদ্যুৎ চমকে কেঁপে ওঠে এই বুঝি
শেষ তখনো তোমাকে শুধু তোমাকেই মনে পড়ে|
ফেব্রুয়ারি, মার্চ, ডিসেম্বর
অসীম বিভাকর
অন্ধকার ঘন হয়ে আসে;
অন্ধকার পুঁতে যায় বীজ মূর্খের বিশ্বাসে|
ভাঙা দালানের অসমাপ্ত ক্রোধ
ঢেকে দেয় বোধের চাতাল;
ভ্রান্তি বাড়ে কুয়াশার প্রবল উচ্ছ্বাসে|
লুকানো আধুলিগুলো উঁকি দিয়ে দেখে ছেঁড়া জামা,
শিশির রাখে না পা সকালের ঘাসে|
সংশয়ের আড়াল ছিন্ন করে হারানো আখ্যান
ফিরে কি আসবে না আর হরিণের মতো?
নিমগ্ন শিশুর পাঠে নিরাময় হবে না কি আর
অভিমানী সন্ধ্যার ক্ষত?
হারায় যখন বৃক্ষের কোমলতা,
ডুবে যায় চর,
তখনই ঠিক কথা বলে ওঠে
ফেব্রুয়ারি মার্চ এবং ডিসেম্বর|
তোমার জন্য
নাহিদ পারভেজ
তোমার জন্যে জেগেছি
অগণিত রাত,
বিনিময়ে আমাকে রোজ
একবার ভাবিও তুমি!
নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে
নিশ্চুপ তাকিয়ে থেকেছি,
খসে পড়া তারা দেখে ভেবেছি,
মানুষ তো আসলে
এভাবেই দূরে সরে যায়,
সবাইকে একদিন
ঠিক চলে যেতে হয়|
তারপরও কেন
আমরা মানুষ,
বার বার ভালোবাসি
ভালোবেসে সেই একই ভুল করি!
শূন্যতা এক বিড়ালপোষা পাখি
রাহমান ওয়াহিদ
শূন্যতা কতকগুলো বেওয়ারিশ ইচ্ছের নাম|
এ আমি ঢের চিনেছি| এটা ওটা সেটা যে নেই,
তা কোন শূন্যতা নয়| ইচ্ছেগুলো বাঁচে মরে
জেগেও থাকে| শখের খোপা যেভাবে গিঁটবন্দি হয়,
এলোচুলে বিস্তৃত হয় অনুচ্চারিত শব্দভাষায়|
তুমি যে নেই, তা শুধু অনস্তিত্বেরই বাহুল্য বয়ান;
তুমি থেকেও যে থাকো না, সেটিও|
থাকা না থাকার এমত অবিমিশ্র রসায়নে
আমি এখন দিব্যি শিখে নিয়েছি তুমিহীন শ্বাস
নেবার কুশলি বানান ব্যাকরণ|
শূন্যতা বিচলিত হওয়ার মতো কোন অনুষঙ্গও নয়|
মেঘবৃষ্টির মধ্যিখানে যে অদৃশ্য বরফকণা, সেটিই
অসারতার অবয়বে আটকে রাখে তোমাকে আমাকে;
যাকে আমি বিড়ালপোষা পাখি বলে ডাকি
ইচ্ছেমতো বিষাদ মায়ায় যত্ন করে ঢাকি|
অনুভূতি
ফারহানা রহমান
গোলাকার চাঁদ জ্বলজ্বল করছে আকাশে
তবু সন্ধ্যেবাতি জ্বেলে দিয়ে গেছে কেউ
বাড়ির গভীরে অন্ধকার
বাহিরে তুমুল জলস্রোত
তোমার পায়ের চিহ্ন মুছে দিয়ে গেছে
ভয় পেতে পেতে সয়ে যায় সবকিছু
প্রেরণা অথবা প্রাপ্তিতেও
কোনো অনুভূতি নেই আর...
অথচ আমার সমস্ত কবিতা-গান,
সব চিঠি, সব অভিমান ছিল শুধু
তোমার গতিরেখার দিকে প্রভাবিত...
***

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
রক্তে কেনা মাটি
আসাদ মান্নান
গাছগুলো পাতাহীন শূন্যতায় নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে
বিরহের হাত ধরে বিধবার শাড়ি পরে আছে;
চারিদিকে আগুনের কৃষ্ণচূড়া গ্রীষ্মের খোঁপায়;
বাতাসে নিঃশ্বাস ফেলে মৃত্যুবাহী অলীক ড্রাগন;
পড়ন্ত গোধূলি মুখে মাতৃহীন এক অন্ধ কবি
গায় গান রাখালিয়া শৈশবের চরের বাতানে;
গরুগুলো হাম্বা রবে সমুদ্রের কোলাহল চাটে:
সবুজ নদীর পাড়ে ডিম পাড়ে মার্কিন কুমির|
একে একে ফিরে যাচ্ছে জননীর প্রিয় সন্তানেরা!
মৌনতার তাঁত কলে তৈরি হচ্ছে মৃতের পোশাক—
ভূপতিত বীরবাহু চিরঘুমে শায়িত লঙ্কায়;
হাজার বেহুলা নাচে নগ্ন রূপে অলকাপুরীতে;
জনম দুঃখিনী এ বাংলার নির্বোধেরা কী আনন্দে
মার্কিন দাসত্ব দামে বিক্রি করে রক্তে কেনা মাটি!
উন্মত্ত পৃথিবী
রবীন্দ্র গোপ
তাপদগ্ধ পৃথিবী কখনো আগুন উগলে দেয়
কখনো আবার বরফ উগলে দেয় উন্মত্ততা
গলিত লাভায় পুড়ে ছারখার মানব সভ্যতা
এ এক অলৌকিক কাণ্ড লণ্ডভণ্ড ধ্বংসযজ্ঞ
সুনামি নেংটো উন্মত্ত পৃথিবী ধ্বংসলীলা|
কৃষ্ণচূড়া ঝরে যায় ফুলের সৌন্দর্য হারায় প্রকৃতি
অনন্ত আঁধার আকাশ দিগন্তে নীল ঢেকে দেয়
হাহাকার চারদিকে বুকের ভেতর জ্বলন্ত শ্মশান
সাক্ষাৎ ধ্বংস দেবতা নৃত্য রসের খেলায় মত্ত
এ কোন অস্ফুট পৃথিবীতে আমাদের বেঁচে থাকা|
উড়ে যায় পাখি থেমে যায় গান নক্ষত্র খামার
পিপাসা ও ভুলে গেছে পাখি যেন কিছু নেই কেউ
সারারাত বিদ্যুৎ চমকে কেঁপে ওঠে এই বুঝি
শেষ তখনো তোমাকে শুধু তোমাকেই মনে পড়ে|
ফেব্রুয়ারি, মার্চ, ডিসেম্বর
অসীম বিভাকর
অন্ধকার ঘন হয়ে আসে;
অন্ধকার পুঁতে যায় বীজ মূর্খের বিশ্বাসে|
ভাঙা দালানের অসমাপ্ত ক্রোধ
ঢেকে দেয় বোধের চাতাল;
ভ্রান্তি বাড়ে কুয়াশার প্রবল উচ্ছ্বাসে|
লুকানো আধুলিগুলো উঁকি দিয়ে দেখে ছেঁড়া জামা,
শিশির রাখে না পা সকালের ঘাসে|
সংশয়ের আড়াল ছিন্ন করে হারানো আখ্যান
ফিরে কি আসবে না আর হরিণের মতো?
নিমগ্ন শিশুর পাঠে নিরাময় হবে না কি আর
অভিমানী সন্ধ্যার ক্ষত?
হারায় যখন বৃক্ষের কোমলতা,
ডুবে যায় চর,
তখনই ঠিক কথা বলে ওঠে
ফেব্রুয়ারি মার্চ এবং ডিসেম্বর|
তোমার জন্য
নাহিদ পারভেজ
তোমার জন্যে জেগেছি
অগণিত রাত,
বিনিময়ে আমাকে রোজ
একবার ভাবিও তুমি!
নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে
নিশ্চুপ তাকিয়ে থেকেছি,
খসে পড়া তারা দেখে ভেবেছি,
মানুষ তো আসলে
এভাবেই দূরে সরে যায়,
সবাইকে একদিন
ঠিক চলে যেতে হয়|
তারপরও কেন
আমরা মানুষ,
বার বার ভালোবাসি
ভালোবেসে সেই একই ভুল করি!
শূন্যতা এক বিড়ালপোষা পাখি
রাহমান ওয়াহিদ
শূন্যতা কতকগুলো বেওয়ারিশ ইচ্ছের নাম|
এ আমি ঢের চিনেছি| এটা ওটা সেটা যে নেই,
তা কোন শূন্যতা নয়| ইচ্ছেগুলো বাঁচে মরে
জেগেও থাকে| শখের খোপা যেভাবে গিঁটবন্দি হয়,
এলোচুলে বিস্তৃত হয় অনুচ্চারিত শব্দভাষায়|
তুমি যে নেই, তা শুধু অনস্তিত্বেরই বাহুল্য বয়ান;
তুমি থেকেও যে থাকো না, সেটিও|
থাকা না থাকার এমত অবিমিশ্র রসায়নে
আমি এখন দিব্যি শিখে নিয়েছি তুমিহীন শ্বাস
নেবার কুশলি বানান ব্যাকরণ|
শূন্যতা বিচলিত হওয়ার মতো কোন অনুষঙ্গও নয়|
মেঘবৃষ্টির মধ্যিখানে যে অদৃশ্য বরফকণা, সেটিই
অসারতার অবয়বে আটকে রাখে তোমাকে আমাকে;
যাকে আমি বিড়ালপোষা পাখি বলে ডাকি
ইচ্ছেমতো বিষাদ মায়ায় যত্ন করে ঢাকি|
অনুভূতি
ফারহানা রহমান
গোলাকার চাঁদ জ্বলজ্বল করছে আকাশে
তবু সন্ধ্যেবাতি জ্বেলে দিয়ে গেছে কেউ
বাড়ির গভীরে অন্ধকার
বাহিরে তুমুল জলস্রোত
তোমার পায়ের চিহ্ন মুছে দিয়ে গেছে
ভয় পেতে পেতে সয়ে যায় সবকিছু
প্রেরণা অথবা প্রাপ্তিতেও
কোনো অনুভূতি নেই আর...
অথচ আমার সমস্ত কবিতা-গান,
সব চিঠি, সব অভিমান ছিল শুধু
তোমার গতিরেখার দিকে প্রভাবিত...
***

আপনার মতামত লিখুন