২০০৬ সালের ৬ জুন। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান জাতীয় সংসদে ২০০৬-০৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছিলেন। তারপর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে কেটে গেছে দীর্ঘ দুটি দশক। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রায় ২০ বছর পর আবারও বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপনায় ফিরল বিএনপি সরকার।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচিত সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই ঐতিহাসিক বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় তাকে এই বিশাল ও চ্যালেঞ্জিং বাজেট পেশ করতে হচ্ছে।
স্বাধীনতার পর থেকে দেশের ইতিহাসে এটি হতে যাচ্ছে ৫৫তম বাজেট। আর এর মাধ্যমে বিএনপির হাত ধরে উপস্থাপিত বাজেটের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭টিতে (বিপরীতে আওয়ামী লীগ দিয়েছে ২৫টি বাজেট)।
বিএনপির বাজেট প্রণয়নের ইতিহাস শুরু হয়েছিল দলের প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। তিনি ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে টানা তিনটি বাজেট পেশ করেন, যার প্রথমটির আকার ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৮৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এরপর জিয়ার আমলে অর্থমন্ত্রী মির্জা নূরুল হুদাও একটি বাজেট পেশ করেন।
তবে বিএনপির বাজেট মানেই যার নাম অর্থনীতিতে স্বর্ণাক্ষরে লেখা, তিনি মরহুম এম সাইফুর রহমান। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট উপস্থাপনের অনন্য রেকর্ডের অধিকারী তিনি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিশ্বায়নের মূল রূপকার বলা হয় এম সাইফুর রহমানকে। দাতানির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশকে বের করে আনতে নব্বইয়ের দশকে তিনি বেশ কিছু যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
দেশের রাজস্ব খাতকে আধুনিক করতে এবং আয় বাড়াতে তিনিই প্রথম বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট চালু করেন। ২০০৩ সালে টাকা ও মার্কিন ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করে দেন তিনি, যা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে বড় ভূমিকা রাখে। ২০০৯ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় এই কিংবদন্তি অর্থনীতিবিদ মারা যান।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও ১২টি বাজেট পেশ করে তার রেকর্ড স্পর্শ করেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর প্রায় ১৮ মাস দেশ পরিচালনা করে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, এম সাইফুর রহমান যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যিনি ২০০১-২০০৪ মেয়াদে দলটির বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।
দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপির এই প্রত্যাবর্তন এবং ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘোষণা দেশের অর্থনীতিকে কতটা গতিশীল ও স্থিতিশীল করতে পারে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো জাতি।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
২০০৬ সালের ৬ জুন। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান জাতীয় সংসদে ২০০৬-০৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছিলেন। তারপর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে কেটে গেছে দীর্ঘ দুটি দশক। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রায় ২০ বছর পর আবারও বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপনায় ফিরল বিএনপি সরকার।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচিত সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই ঐতিহাসিক বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় তাকে এই বিশাল ও চ্যালেঞ্জিং বাজেট পেশ করতে হচ্ছে।
স্বাধীনতার পর থেকে দেশের ইতিহাসে এটি হতে যাচ্ছে ৫৫তম বাজেট। আর এর মাধ্যমে বিএনপির হাত ধরে উপস্থাপিত বাজেটের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭টিতে (বিপরীতে আওয়ামী লীগ দিয়েছে ২৫টি বাজেট)।
বিএনপির বাজেট প্রণয়নের ইতিহাস শুরু হয়েছিল দলের প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। তিনি ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে টানা তিনটি বাজেট পেশ করেন, যার প্রথমটির আকার ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৮৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এরপর জিয়ার আমলে অর্থমন্ত্রী মির্জা নূরুল হুদাও একটি বাজেট পেশ করেন।
তবে বিএনপির বাজেট মানেই যার নাম অর্থনীতিতে স্বর্ণাক্ষরে লেখা, তিনি মরহুম এম সাইফুর রহমান। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট উপস্থাপনের অনন্য রেকর্ডের অধিকারী তিনি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিশ্বায়নের মূল রূপকার বলা হয় এম সাইফুর রহমানকে। দাতানির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশকে বের করে আনতে নব্বইয়ের দশকে তিনি বেশ কিছু যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
দেশের রাজস্ব খাতকে আধুনিক করতে এবং আয় বাড়াতে তিনিই প্রথম বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট চালু করেন। ২০০৩ সালে টাকা ও মার্কিন ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করে দেন তিনি, যা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে বড় ভূমিকা রাখে। ২০০৯ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় এই কিংবদন্তি অর্থনীতিবিদ মারা যান।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও ১২টি বাজেট পেশ করে তার রেকর্ড স্পর্শ করেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর প্রায় ১৮ মাস দেশ পরিচালনা করে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, এম সাইফুর রহমান যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যিনি ২০০১-২০০৪ মেয়াদে দলটির বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।
দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপির এই প্রত্যাবর্তন এবং ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘোষণা দেশের অর্থনীতিকে কতটা গতিশীল ও স্থিতিশীল করতে পারে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো জাতি।

আপনার মতামত লিখুন