সংবাদ

বাজেট নিয়ে দলগুলোর তীব্র প্রতিক্রিয়া


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

বাজেট নিয়ে দলগুলোর তীব্র প্রতিক্রিয়া
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী, অবাস্তব ও ঋণনির্ভর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ করার পর শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সম্মেলন ও বিবৃতির মাধ্যমে দলগুলো তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়।

দলগুলোর মতে, বিশাল ঘাটতি ও ঋণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই বাজেট দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতি ও করের বোঝা আরও বাড়াবে।

জামায়াত: শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে তিনটি বড় বাধা চিহ্নিত করেছেন। বাধাগুলো হলো, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়; লাগামহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। 

জামায়াত নেতা বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত তিন মাসে দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমবে, যা কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ‘চটকদার সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত করের সর্বনিম্ন হার ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাবের তীব্র আপত্তি জানান। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে জনগণ এমন ‘লুটপাটে সহায়ক’ বাজেট প্রত্যাশা করেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এনসিপি: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘চানাচুরের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘এই বাজেট দেখতে সুন্দর, খেতে ভালো লাগবে, কিন্তু এর কোনো পুষ্টিগুণ নেই। দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার এই বাজেটের মাধ্যমে সম্ভব নয়।’

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এবং বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন এলাকায় ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের নৈরাজ্য, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বাজেটে কোনো রূপরেখা নেই। উল্টো ইসলামী ব্যাংককে আবারও বিতর্কিত ‘এস আলম’ গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বড় বাজেটের মাধ্যমে বড় দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

খেলাফত মজলিস: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বাজেটের সবচেয়ে বড় খাতই হচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধ (১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা)। এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতা অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত করবে।

বাসদ: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, অর্থসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকার পুরোনো ও গণবিরোধী পথেই হাঁটছে। ধনীদের ওপর প্রত্যক্ষ কর না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপ বজায় রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতির চক্র না ভেঙে গ্রাহকদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হয়েছে।

জাসদ: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে এই বাজেট কথার ফুলঝুরি ছাড়া কিছুই নয়। তবে মোবাইল সিমের ওপর থেকে ৩০০ টাকা কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে দলটি।

এবি পার্টি: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এই বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ ও ‘পরিসংখ্যানের শুভংকরের ফাঁকি’ বলে অভিহিত করেছেন। যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা এই বাজেটে নেই বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 সার্বিকভাবে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, কর কাঠামো পুনর্নিধারণ এবং অপচয়-দুর্নীতি রোধ করে প্রস্তাবিত বাজেটটি সংশোধনপূর্বক একটি জনকল্যাণমুখী ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে দলগুলো।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬


বাজেট নিয়ে দলগুলোর তীব্র প্রতিক্রিয়া

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী, অবাস্তব ও ঋণনির্ভর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ করার পর শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সম্মেলন ও বিবৃতির মাধ্যমে দলগুলো তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়।

দলগুলোর মতে, বিশাল ঘাটতি ও ঋণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই বাজেট দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতি ও করের বোঝা আরও বাড়াবে।

জামায়াত: শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে তিনটি বড় বাধা চিহ্নিত করেছেন। বাধাগুলো হলো, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়; লাগামহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। 

জামায়াত নেতা বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত তিন মাসে দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমবে, যা কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ‘চটকদার সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত করের সর্বনিম্ন হার ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাবের তীব্র আপত্তি জানান। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে জনগণ এমন ‘লুটপাটে সহায়ক’ বাজেট প্রত্যাশা করেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এনসিপি: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘চানাচুরের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘এই বাজেট দেখতে সুন্দর, খেতে ভালো লাগবে, কিন্তু এর কোনো পুষ্টিগুণ নেই। দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার এই বাজেটের মাধ্যমে সম্ভব নয়।’

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এবং বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন এলাকায় ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের নৈরাজ্য, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বাজেটে কোনো রূপরেখা নেই। উল্টো ইসলামী ব্যাংককে আবারও বিতর্কিত ‘এস আলম’ গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বড় বাজেটের মাধ্যমে বড় দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

খেলাফত মজলিস: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বাজেটের সবচেয়ে বড় খাতই হচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধ (১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা)। এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতা অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত করবে।

বাসদ: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, অর্থসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকার পুরোনো ও গণবিরোধী পথেই হাঁটছে। ধনীদের ওপর প্রত্যক্ষ কর না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপ বজায় রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতির চক্র না ভেঙে গ্রাহকদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হয়েছে।

জাসদ: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে এই বাজেট কথার ফুলঝুরি ছাড়া কিছুই নয়। তবে মোবাইল সিমের ওপর থেকে ৩০০ টাকা কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে দলটি।

এবি পার্টি: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এই বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ ও ‘পরিসংখ্যানের শুভংকরের ফাঁকি’ বলে অভিহিত করেছেন। যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা এই বাজেটে নেই বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 সার্বিকভাবে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, কর কাঠামো পুনর্নিধারণ এবং অপচয়-দুর্নীতি রোধ করে প্রস্তাবিত বাজেটটি সংশোধনপূর্বক একটি জনকল্যাণমুখী ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে দলগুলো।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত