ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও শান্ত স্বভাবের কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবার এক নতুন ও ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে সেলেসাওদের ২০০২ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার গুরুভার এখন এই ইতালিয়ান কিংবদন্তির কাঁধে। ক্লাব ফুটবলে অনন্য কীর্তির অধিকারী এই মাস্টারমাইন্ডের হাত ধরেই হেক্সা জয়ের স্বপ্ন বুনছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে ১,৪১৩টি ম্যাচ পরিচালনা করে ৮৪৫টি জয়, ৩০৭টি ড্র এবং ২৬১টি হারের রেকর্ড রয়েছে আনচেলত্তির, যেখানে সামগ্রিক জয়ের হার ৫৯.৮০ শতাংশ। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ হিসেবে অসংখ্য শিরোপা জয়ের পর তিনি ব্রাজিলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জাতীয় দল পর্যায়ে এটিই তার প্রথম বড় দায়িত্ব।
এর আগে খেলোয়াড় হিসেবেও তিনি এএস রোমা ও এসি মিলানের হয়ে দারুণ সফল ছিলেন, যেখানে টানা দুটি ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে কোচিংয়ে আসেন এবং ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগেই ইতালি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেন; শিরোপা জয়ের একমাত্র অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন। এছাড়া উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও রেকর্ড পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব রয়েছে তার।
ব্রাজিলের ডাগআউটে বসার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ১২টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে ৭টি জয়, ২টি ড্র এবং ৩টি হারে তার জয়ের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগে নিজের অনুভূতি ও নতুন এই যাত্রা নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, "এটি আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা এবং নতুন দায়িত্ব। ফুটবলের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা সত্যিই বিশেষ কিছু। দুটি শব্দে বলতে গেলে—দায়িত্ব এবং সম্মান। আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সুন্দর ও অনন্য মুহূর্ত এটি।"
বিশ্বকাপের মঞ্চে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচের আগে দলের শক্তিমত্তা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রধান কোচ বলেন, "আমাদের এমন একটি দল আছে, যারা বিশ্বের যেকোনো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। আমরা সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। এই দলে যেমন মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে, তেমনি অভিজ্ঞতাও আছে। সবচেয়ে বড় কথা, নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে তাদের পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে।"
নিজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, "আমি স্বভাবগতভাবেই আশাবাদী। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুত। আমরা বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করতে পারব।" তবে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ দেখছেন না এই ইতালিয়ান কৌশলী।
প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ মরক্কো সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়ে আনচেলত্তি স্পষ্ট করে বলেন, "আধুনিক ফুটবলে কোনো ছোট দল নেই। মরক্কো আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল। তাদের বিপক্ষে জিততে হলে আমাদের সব বিভাগে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স করতে হবে।"
২০০২ সালের পর থেকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ খরা কাটানোর মিশনটি নিঃসন্দেহে কঠিন, তবে ক্লাব ফুটবলের প্রায় সব বড় শিরোপা জেতা আনচেলত্তির ওপর পূর্ণ ভরসা রাখছে ফুটবল দুনিয়া। এখন দেখার বিষয়, ক্লাব ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই মহোৎসবেও কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন পূরণ করে সাফল্যের নতুন ইতিহাস লিখতে পারেন কি না।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও শান্ত স্বভাবের কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবার এক নতুন ও ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে সেলেসাওদের ২০০২ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার গুরুভার এখন এই ইতালিয়ান কিংবদন্তির কাঁধে। ক্লাব ফুটবলে অনন্য কীর্তির অধিকারী এই মাস্টারমাইন্ডের হাত ধরেই হেক্সা জয়ের স্বপ্ন বুনছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে ১,৪১৩টি ম্যাচ পরিচালনা করে ৮৪৫টি জয়, ৩০৭টি ড্র এবং ২৬১টি হারের রেকর্ড রয়েছে আনচেলত্তির, যেখানে সামগ্রিক জয়ের হার ৫৯.৮০ শতাংশ। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ হিসেবে অসংখ্য শিরোপা জয়ের পর তিনি ব্রাজিলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জাতীয় দল পর্যায়ে এটিই তার প্রথম বড় দায়িত্ব।
এর আগে খেলোয়াড় হিসেবেও তিনি এএস রোমা ও এসি মিলানের হয়ে দারুণ সফল ছিলেন, যেখানে টানা দুটি ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে কোচিংয়ে আসেন এবং ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগেই ইতালি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেন; শিরোপা জয়ের একমাত্র অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন। এছাড়া উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও রেকর্ড পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব রয়েছে তার।
ব্রাজিলের ডাগআউটে বসার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ১২টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে ৭টি জয়, ২টি ড্র এবং ৩টি হারে তার জয়ের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগে নিজের অনুভূতি ও নতুন এই যাত্রা নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, "এটি আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা এবং নতুন দায়িত্ব। ফুটবলের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা সত্যিই বিশেষ কিছু। দুটি শব্দে বলতে গেলে—দায়িত্ব এবং সম্মান। আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সুন্দর ও অনন্য মুহূর্ত এটি।"
বিশ্বকাপের মঞ্চে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচের আগে দলের শক্তিমত্তা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রধান কোচ বলেন, "আমাদের এমন একটি দল আছে, যারা বিশ্বের যেকোনো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। আমরা সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। এই দলে যেমন মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে, তেমনি অভিজ্ঞতাও আছে। সবচেয়ে বড় কথা, নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে তাদের পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে।"
নিজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, "আমি স্বভাবগতভাবেই আশাবাদী। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুত। আমরা বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করতে পারব।" তবে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ দেখছেন না এই ইতালিয়ান কৌশলী।
প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ মরক্কো সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়ে আনচেলত্তি স্পষ্ট করে বলেন, "আধুনিক ফুটবলে কোনো ছোট দল নেই। মরক্কো আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল। তাদের বিপক্ষে জিততে হলে আমাদের সব বিভাগে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স করতে হবে।"
২০০২ সালের পর থেকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ খরা কাটানোর মিশনটি নিঃসন্দেহে কঠিন, তবে ক্লাব ফুটবলের প্রায় সব বড় শিরোপা জেতা আনচেলত্তির ওপর পূর্ণ ভরসা রাখছে ফুটবল দুনিয়া। এখন দেখার বিষয়, ক্লাব ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই মহোৎসবেও কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন পূরণ করে সাফল্যের নতুন ইতিহাস লিখতে পারেন কি না।

আপনার মতামত লিখুন