পিরোজপুরের নেছারাবাদে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী (১৪) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস ধরে মেয়েটি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিল। তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। এরপর তারা মেয়েটিকে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন যে কিশোরীটি প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
মাতৃহীন ওই কিশোরী তার বাবার সঙ্গেই বাড়িতে থাকত। কিশোরীর অভিযোগ, রাতে তাকে জোর করে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে তার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো। বর্তমানে ওই কিশোরী প্রতিবেশীদের জিম্মায় রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, হাসপাতাল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে জবাব চাওয়া হলে তিনি প্রথমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তার বাড়িতে গিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে তিনি পালিয়ে যান। মাতৃহীন কিশোরীর সঙ্গে এমন ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক লিমা আক্তার বলেন, পরীক্ষার মাধ্যমে কিশোরীটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে রোগীর গোপনীয়তার স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
নেছারাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন