পানি জীবনের প্রতীক - এই কথা প্রায় সবার জানা। কিন্তু প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পান করা হচ্ছে কি না, সেদিকে অনেকেই খেয়াল রাখেন না। অথচ এই সাধারণ অভ্যাসটি শরীরের সার্বিক সুস্থতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক অন্তত ৮ গ্লাস বা ২ থেকে ৩ লিটার পানি
পান করা উচিত। সঠিক পরিমাণে পানি পান করলে শরীর ও মনে যেসব উপকার পাওয়া যায়, তা
জেনে নেওয়া যাক।
পর্যাপ্ত পানি ত্বককে ভেতর থেকে
আর্দ্র রাখে, মৃত কোষের জায়গায় নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে। এর ফলে ত্বক উজ্জ্বল,
মসৃণ ও তরুণ দেখায় এবং বলিরেখা পড়ার গতি কমে।
পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং
খাবার হজম করতে পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য
করে এবং নিয়মিত পানি পানে পেটের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
শরীরের বর্জ্য পদার্থ অপসারণে কিডনির
প্রধান দায়িত্ব থাকে, এবং পর্যাপ্ত পানি সেই কাজ সহজ করে দেয়। এতে কিডনিতে পাথর
জমার ঝুঁকিও কমে যায়।
খাবার আগে এক গ্লাস পানি পান করলে ক্ষুধা
কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে
সহায়তা হয়। চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে পানি পানের অভ্যাস করলে দৈনিক ক্যালোরি
গ্রহণও কমে আসে।
শরীরে পানির অভাব হলে মাথাব্যথা ও
ক্লান্তি অনুভূত হয়। পর্যাপ্ত পানি মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক রাখে,
যার ফলে মাথাব্যথা কমে এবং সারাদিন কর্মক্ষম থাকা সম্ভব হয়।
শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে
দিয়ে পানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা সর্দি-কাশি ও অন্যান্য সংক্রমণের
বিরুদ্ধে লড়তে সহায়ক হয়।
জয়েন্টের সংযোগস্থলে থাকা তরল
পদার্থের মাত্রা সঠিক রাখতে পানি গুরুত্বপূর্ণ, যা জয়েন্টের ব্যথা ও জড়তা কমাতে
সাহায্য করে।
মস্তিষ্কের প্রায় ৭৫ শতাংশই পানি
দিয়ে গঠিত। পানির অভাবে মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
নিয়মিত পানি পান মস্তিষ্ককে সচল রাখে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক
গ্লাস পানি পান করা ভালো অভ্যাস। খাবার খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে, রোদে বের হওয়ার
আগে, ব্যায়ামের পরে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পানি পান করা উপকারী।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পানি
পানের সঠিক পরিমাণ নির্ভর করে একজনের বয়স, ওজন এবং শারীরিক কার্যক্রমের ওপর। তাই
নিজের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করে সুস্থ থাকা উচিত।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
পানি জীবনের প্রতীক - এই কথা প্রায় সবার জানা। কিন্তু প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পান করা হচ্ছে কি না, সেদিকে অনেকেই খেয়াল রাখেন না। অথচ এই সাধারণ অভ্যাসটি শরীরের সার্বিক সুস্থতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক অন্তত ৮ গ্লাস বা ২ থেকে ৩ লিটার পানি
পান করা উচিত। সঠিক পরিমাণে পানি পান করলে শরীর ও মনে যেসব উপকার পাওয়া যায়, তা
জেনে নেওয়া যাক।
পর্যাপ্ত পানি ত্বককে ভেতর থেকে
আর্দ্র রাখে, মৃত কোষের জায়গায় নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে। এর ফলে ত্বক উজ্জ্বল,
মসৃণ ও তরুণ দেখায় এবং বলিরেখা পড়ার গতি কমে।
পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং
খাবার হজম করতে পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য
করে এবং নিয়মিত পানি পানে পেটের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
শরীরের বর্জ্য পদার্থ অপসারণে কিডনির
প্রধান দায়িত্ব থাকে, এবং পর্যাপ্ত পানি সেই কাজ সহজ করে দেয়। এতে কিডনিতে পাথর
জমার ঝুঁকিও কমে যায়।
খাবার আগে এক গ্লাস পানি পান করলে ক্ষুধা
কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে
সহায়তা হয়। চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে পানি পানের অভ্যাস করলে দৈনিক ক্যালোরি
গ্রহণও কমে আসে।
শরীরে পানির অভাব হলে মাথাব্যথা ও
ক্লান্তি অনুভূত হয়। পর্যাপ্ত পানি মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক রাখে,
যার ফলে মাথাব্যথা কমে এবং সারাদিন কর্মক্ষম থাকা সম্ভব হয়।
শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে
দিয়ে পানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা সর্দি-কাশি ও অন্যান্য সংক্রমণের
বিরুদ্ধে লড়তে সহায়ক হয়।
জয়েন্টের সংযোগস্থলে থাকা তরল
পদার্থের মাত্রা সঠিক রাখতে পানি গুরুত্বপূর্ণ, যা জয়েন্টের ব্যথা ও জড়তা কমাতে
সাহায্য করে।
মস্তিষ্কের প্রায় ৭৫ শতাংশই পানি
দিয়ে গঠিত। পানির অভাবে মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
নিয়মিত পানি পান মস্তিষ্ককে সচল রাখে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক
গ্লাস পানি পান করা ভালো অভ্যাস। খাবার খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে, রোদে বের হওয়ার
আগে, ব্যায়ামের পরে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পানি পান করা উপকারী।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পানি
পানের সঠিক পরিমাণ নির্ভর করে একজনের বয়স, ওজন এবং শারীরিক কার্যক্রমের ওপর। তাই
নিজের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করে সুস্থ থাকা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন