সংবাদ

সিনেমার কবিগণ: লজ্জা থেকে বাঁচিয়ে দিল


মোস্তফা মনন
মোস্তফা মনন লেখক, পরিচালক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

সিনেমার কবিগণ: লজ্জা থেকে বাঁচিয়ে দিল
প্রতীকী ছবি।

সুমন, উজ্জ্বল, রনি, সাদ’রা আমাদের লজ্জা থেকে বাঁচিয়ে দিল। আপনাদের প্রতি ঋণী হলাম আমরা। আপনাদের কারণে এখন পশ্চিমা অহম পুবেও দোলা দেয়।

এই দশ বছর আগেও পাশের বাংলার দিকে তাকাতাম, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, গৌতম ঘোষদের চিত্রকল্পের দিকে ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকতাম, সিঁডিতে, থিয়েটারে তাদের শিল্পসমৃদ্ধ সিনেমা দেখে দেখে আশা নিয়ে ঘুমাতে যেতাম একদিন আমরাও বানাবো।

গৌতম ঘোষেরপদ্মা নদীর মাঝি” থেকে শুরু করে সৃজিতেরবাইশে শ্রাবণ”, “শব্দ”সহ আরও দারুণ দারুণ সিনেমা।

আমাদেরও ঐতিহ্য ছিল জহির রায়হানের “জীবন থেকে নেয়া”, শেখ নেয়ামত আলীরসূর্য দীঘল বাড়ি”, আলমগীর কবিরেরসীমানা পেরিয়ে”, খান আতারআবার তোরা মানুষ হ”, আমজাদ হোসেনেরগোলাপী এখন ট্রেনে”। এরপর টেনেটুনে আরও দু-একটা হয়তো পাওয়া যাবে, কিন্তু ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারিনি।

তবে এখন সময় আমাদের। তারেক মাসুদের “মাটির ময়না” এর বহু পর পেলাম আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদেররেহানা মরিয়ম নূর”। জেগে উঠলাম। ঘুম ঘুম চোখে ঝিমুতে ঝিমুতে একেবারে মেরুদণ্ড সোজা করে দেখলাম, মজলাম, উপভোগ করলাম রেহানা মরিয়ম নূর। সেই পালে আরও জোরে বইলহাওয়া”। এই ম্যাজিক রিয়েলিজম দিয়ে মেজবাউর রহমান সুমন দেখাল কাব্যিক নির্মোহও বাণিজ্য করা যায়। হাওয়া’র দমকা ফুরাতে না ফুরাতে চলে এলো রেদওয়ান রনিরদম”। আটকে থাকা দম ছাড়তে পেরে আমরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। এখন নিয়মিত সতেজ সিনেমার অক্সিজেন পাচ্ছি।

এবং ভুলে যেতে বসেছি সৃজিতদের। ভুলতে বসার সময়কালে ট্রেনের হুইসেল পেলাম তানিম নূরেরবনলতা এক্সপ্রেস” আমাদের আরও খানিকটা দূরে নিয়ে গেল। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলার ট্রেন ছুটে চলল ইউরোপ-আমেরিকায়।

চলন্ত ট্রেন থামতে না থামতে ফিফা বিশ্বকাপআসার আগেই জোড়া গোল দিয়ে বছরটাকে রাঙিয়ে দিল সুমন আর মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। এই জোড়া গোল এতটাই নান্দনিক যে, মেসির সবচেয়ে শৈল্পিক গোলের চেয়েও শৈল্পিক। একসঙ্গে পেলাম “রইদ”  “বনলতা সেন”।

বাংলা সিনেমার লিগ্যাসি একটা কাঠামো পেল। গল্প বলার নিজস্ব মাটি পেল। সেই মাটিতে আরও অনেক নির্মাতা বীজ বুনবেন, ফসল ফলাবেন। আমরা দিন দিন আরো ফসল ফলাবো, আমাদের ক্ষুধা নিবারণ হবে, আমরা তৃপ্তি নিয়ে খাব-দাব, ঘুরব-ফিরব, গল্পগুজব করব এবং আয়েশ করে আপনাদের সোনাফলা পথ মাড়িয়ে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবো। রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মান, ইরানের মতো নিজস্ব একটা ধারা তৈরি হবে নিশ্চয়ই। 

সেই ধারায় নতুন ধারাপাত পঠিত হবে। চর্চা হবে, গবেষণা করবে সিনেমার শিক্ষার্থীরা। ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ায় রিসোর্স হিসেবে আমরা সব সময় বিদেশি সিনেমার ওপর নির্ভর করতাম। তাদের বয়ান স্টাবলিশ করতাম। এখন নিজস্ব মত ও পথ তৈরি হচ্ছে, পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে নিজস্ব বয়ান।

সেই বয়ান তৈরি হবে সিনেমার শিক্ষার্থীদের রিসার্চ পেপারে, শিরোনামে জ্বল জ্বল করবে- “হাওয়া”, “দম”, “বনলতা এক্সপ্রেস”, “রইদ”, “বনলতা সেন”, “রেহানা মরিয়ম নূর”...

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


সিনেমার কবিগণ: লজ্জা থেকে বাঁচিয়ে দিল

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

সুমন, উজ্জ্বল, রনি, সাদ’রা আমাদের লজ্জা থেকে বাঁচিয়ে দিল। আপনাদের প্রতি ঋণী হলাম আমরা। আপনাদের কারণে এখন পশ্চিমা অহম পুবেও দোলা দেয়।

এই দশ বছর আগেও পাশের বাংলার দিকে তাকাতাম, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, গৌতম ঘোষদের চিত্রকল্পের দিকে ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকতাম, সিঁডিতে, থিয়েটারে তাদের শিল্পসমৃদ্ধ সিনেমা দেখে দেখে আশা নিয়ে ঘুমাতে যেতাম একদিন আমরাও বানাবো।

গৌতম ঘোষেরপদ্মা নদীর মাঝি” থেকে শুরু করে সৃজিতেরবাইশে শ্রাবণ”, “শব্দ”সহ আরও দারুণ দারুণ সিনেমা।

আমাদেরও ঐতিহ্য ছিল জহির রায়হানের “জীবন থেকে নেয়া”, শেখ নেয়ামত আলীরসূর্য দীঘল বাড়ি”, আলমগীর কবিরেরসীমানা পেরিয়ে”, খান আতারআবার তোরা মানুষ হ”, আমজাদ হোসেনেরগোলাপী এখন ট্রেনে”। এরপর টেনেটুনে আরও দু-একটা হয়তো পাওয়া যাবে, কিন্তু ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারিনি।

তবে এখন সময় আমাদের। তারেক মাসুদের “মাটির ময়না” এর বহু পর পেলাম আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদেররেহানা মরিয়ম নূর”। জেগে উঠলাম। ঘুম ঘুম চোখে ঝিমুতে ঝিমুতে একেবারে মেরুদণ্ড সোজা করে দেখলাম, মজলাম, উপভোগ করলাম রেহানা মরিয়ম নূর। সেই পালে আরও জোরে বইলহাওয়া”। এই ম্যাজিক রিয়েলিজম দিয়ে মেজবাউর রহমান সুমন দেখাল কাব্যিক নির্মোহও বাণিজ্য করা যায়। হাওয়া’র দমকা ফুরাতে না ফুরাতে চলে এলো রেদওয়ান রনিরদম”। আটকে থাকা দম ছাড়তে পেরে আমরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। এখন নিয়মিত সতেজ সিনেমার অক্সিজেন পাচ্ছি।

এবং ভুলে যেতে বসেছি সৃজিতদের। ভুলতে বসার সময়কালে ট্রেনের হুইসেল পেলাম তানিম নূরেরবনলতা এক্সপ্রেস” আমাদের আরও খানিকটা দূরে নিয়ে গেল। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলার ট্রেন ছুটে চলল ইউরোপ-আমেরিকায়।

চলন্ত ট্রেন থামতে না থামতে ফিফা বিশ্বকাপআসার আগেই জোড়া গোল দিয়ে বছরটাকে রাঙিয়ে দিল সুমন আর মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। এই জোড়া গোল এতটাই নান্দনিক যে, মেসির সবচেয়ে শৈল্পিক গোলের চেয়েও শৈল্পিক। একসঙ্গে পেলাম “রইদ”  “বনলতা সেন”।

বাংলা সিনেমার লিগ্যাসি একটা কাঠামো পেল। গল্প বলার নিজস্ব মাটি পেল। সেই মাটিতে আরও অনেক নির্মাতা বীজ বুনবেন, ফসল ফলাবেন। আমরা দিন দিন আরো ফসল ফলাবো, আমাদের ক্ষুধা নিবারণ হবে, আমরা তৃপ্তি নিয়ে খাব-দাব, ঘুরব-ফিরব, গল্পগুজব করব এবং আয়েশ করে আপনাদের সোনাফলা পথ মাড়িয়ে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবো। রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মান, ইরানের মতো নিজস্ব একটা ধারা তৈরি হবে নিশ্চয়ই। 

সেই ধারায় নতুন ধারাপাত পঠিত হবে। চর্চা হবে, গবেষণা করবে সিনেমার শিক্ষার্থীরা। ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ায় রিসোর্স হিসেবে আমরা সব সময় বিদেশি সিনেমার ওপর নির্ভর করতাম। তাদের বয়ান স্টাবলিশ করতাম। এখন নিজস্ব মত ও পথ তৈরি হচ্ছে, পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে নিজস্ব বয়ান।

সেই বয়ান তৈরি হবে সিনেমার শিক্ষার্থীদের রিসার্চ পেপারে, শিরোনামে জ্বল জ্বল করবে- “হাওয়া”, “দম”, “বনলতা এক্সপ্রেস”, “রইদ”, “বনলতা সেন”, “রেহানা মরিয়ম নূর”...


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত