দেশের সড়ক-মহাসড়কে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মিছিল এবং হতাহতের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে এবার আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার। গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার; সব মিলিয়ে মহাসড়কগুলোকে নিরাপদ করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সড়ক পরিবহন ও
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
এ বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা
জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের
সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো.
আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত
উত্তরে সেতুমন্ত্রী সড়ক ব্যবস্থাপনার এই
নতুন রূপরেখার তথ্য টেবিলে উপস্থাপন
করেন।
সংসদে
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
বলেন, "সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা
ও হতাহতের সংখ্যা হ্রাস করার লক্ষ্যে সরকার
কাজ করে যাচ্ছে। সড়ক
পরিবহন আইন, ২০১৮-এর
ধারা ৪৪-এর উপধারা
(১) এবং সড়ক পরিবহন
বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি
১২৫-এর উপবিধি (৪)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের
(বিআরটিএ) মাধ্যমে গত ৭ মে
২০২৪ `মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা, ২০২৪' জারি করা হয়।
এর মাধ্যমে সড়ক ও মহাসড়কে
মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি
নিশ্চিত করা হয়েছে।"
সরকারের
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো
বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ
করে মানুষের অমূল্য জীবন রক্ষা করা।
শুধু
আইন করেই ক্ষান্ত থাকছে
না প্রশাসন, বরং সড়ক ও
জনপথ অধিদপ্তর মহাসড়কে গতিসীমা সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য বহুমুখী ব্যবস্থা
গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী সংসদে জানান, এর মধ্যে রয়েছে
স্পিড লিমিট ও ট্রাফিক সাইন
স্থাপন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ।
এ ছাড়া দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায়
ট্রাফিক ক্যালমিং ব্যবস্থা হিসেবে রাম্বল স্ট্রিপ, স্পিড কন্ট্রোল জোন, সার্ভিস লেন,
মিডিয়ান ও চ্যানেলাইজেশন বাস্তবায়নের
কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
মহাসড়কে
শৃঙ্খলা ফেরাতে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
আরও বলেন, "মহাসড়কে আইটিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গতিসীমা লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিআরটিএ,
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের
সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে গতিসীমা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।"
এছাড়াও
সড়কের ধরন ও এলাকা
বিবেচনায় উপযুক্ত গতিসীমা নির্ধারণে নিয়মিত সুপারিশ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
পাশাপাশি রোড সেফটি অডিট
ও ট্রাফিক মনিটরিং পরিচালনার মাধ্যমে দুর্ঘটনাপ্রবণ ‘ব্ল্যাক স্পট’ বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো
নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত
গতির কারণে ঠিক কোন কোন
স্থানে ঝুঁকি বেশি, তা বৈজ্ঞানিক উপায়ে
বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী
তাৎক্ষণিক গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
দেশের সড়ক-মহাসড়কে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মিছিল এবং হতাহতের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে এবার আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার। গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার; সব মিলিয়ে মহাসড়কগুলোকে নিরাপদ করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সড়ক পরিবহন ও
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
এ বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা
জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের
সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো.
আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত
উত্তরে সেতুমন্ত্রী সড়ক ব্যবস্থাপনার এই
নতুন রূপরেখার তথ্য টেবিলে উপস্থাপন
করেন।
সংসদে
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
বলেন, "সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা
ও হতাহতের সংখ্যা হ্রাস করার লক্ষ্যে সরকার
কাজ করে যাচ্ছে। সড়ক
পরিবহন আইন, ২০১৮-এর
ধারা ৪৪-এর উপধারা
(১) এবং সড়ক পরিবহন
বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি
১২৫-এর উপবিধি (৪)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের
(বিআরটিএ) মাধ্যমে গত ৭ মে
২০২৪ `মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা, ২০২৪' জারি করা হয়।
এর মাধ্যমে সড়ক ও মহাসড়কে
মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি
নিশ্চিত করা হয়েছে।"
সরকারের
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো
বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ
করে মানুষের অমূল্য জীবন রক্ষা করা।
শুধু
আইন করেই ক্ষান্ত থাকছে
না প্রশাসন, বরং সড়ক ও
জনপথ অধিদপ্তর মহাসড়কে গতিসীমা সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য বহুমুখী ব্যবস্থা
গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী সংসদে জানান, এর মধ্যে রয়েছে
স্পিড লিমিট ও ট্রাফিক সাইন
স্থাপন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ।
এ ছাড়া দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায়
ট্রাফিক ক্যালমিং ব্যবস্থা হিসেবে রাম্বল স্ট্রিপ, স্পিড কন্ট্রোল জোন, সার্ভিস লেন,
মিডিয়ান ও চ্যানেলাইজেশন বাস্তবায়নের
কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
মহাসড়কে
শৃঙ্খলা ফেরাতে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
আরও বলেন, "মহাসড়কে আইটিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গতিসীমা লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিআরটিএ,
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের
সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে গতিসীমা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।"
এছাড়াও
সড়কের ধরন ও এলাকা
বিবেচনায় উপযুক্ত গতিসীমা নির্ধারণে নিয়মিত সুপারিশ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
পাশাপাশি রোড সেফটি অডিট
ও ট্রাফিক মনিটরিং পরিচালনার মাধ্যমে দুর্ঘটনাপ্রবণ ‘ব্ল্যাক স্পট’ বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো
নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত
গতির কারণে ঠিক কোন কোন
স্থানে ঝুঁকি বেশি, তা বৈজ্ঞানিক উপায়ে
বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী
তাৎক্ষণিক গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন