সংবাদ

আইএমএফের ‘চমকপ্রদ’ পূর্বাভাস

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ

বিশ্ব অর্থনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের মধ্যে উন্নয়ন আর প্রবৃদ্ধির লড়াই নতুন কিছু নয়। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিকওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকপ্রতিবেদনে এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধীরগতির কারণে এই অভাবনীয় সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সাল শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে হাজার ৯১১ ডলার, যেখানে ভারতের প্রাক্কলন করা হয়েছে হাজার ৮১২ ডলার।

আয়তনের বিচারে ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বড় হলেও মাথাপিছু আয়ের এই সমীকরণ বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। তবে এই অর্জনকে খুব সহজভাবে দেখছেন না দেশের অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক লিড ইকনোমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, ভারত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেক বেশি পার্থক্য রয়েছে। কোনো এক বছরের মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে কোনো একটি দেশের অর্থনীতিকে তুলনামূলক পার্থক্যের জায়গায় নেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি আরও যুক্ত করেন, যেহেতু আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হারকে জিডিপি দিয়ে ভাগ করা হয়, সে কারণে এই পার ক্যাপিটা জিডিপিতেও পরিবর্তন আসে। আইএমএফের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলেও সেটা আরও স্পষ্ট হয়। মূলত মুদ্রার অবমূল্যায়ন একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।

একই সুরে কথা বলেছেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। তিনি মনে করেন, এই পরিসংখ্যান নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার চেয়ে বাস্তবতা অনুধাবন করা জরুরি। সেলিম রায়হান বলেন, এর আগেও মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারত থেকে এগিয়ে ছিল। তার মানে এই না যে আমাদের অর্থনীতি ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। কেননা বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো অনেক জটিল অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটা নিয়ে আত্মসন্তুষ্টিতে সময় কাটানোর কোনো সুযোগই নাই। কেননা আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী, বিনিয়োগেও আছে স্থবিরতা। সেই সঙ্গে এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, মূল্যস্ফীতির ধাক্কা লেগেছে ভালো ভাবেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএমএফের এই পূর্বাভাসে ভারতের ২০২৬ সালের অবস্থান কিছুটা নিম্নমুখী দেখালেও ২০২৭ সাল থেকে দেশটি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তখন ভারতের মাথাপিছু জিডিপি পুনরায় বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০৩১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বা বৈশ্বিক মন্দার মতো বিষয়গুলো যেকোনো সময় হিসাব পাল্টে দিতে পারে। ফলে মাথাপিছু আয়ের এই কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে। মূলত একটি দেশের মোট জিডিপিকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে এই গড় হিসাব করা হয়, যা সুষম বণ্টন নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিশ্ব অর্থনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের মধ্যে উন্নয়ন আর প্রবৃদ্ধির লড়াই নতুন কিছু নয়। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিকওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকপ্রতিবেদনে এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধীরগতির কারণে এই অভাবনীয় সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সাল শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে হাজার ৯১১ ডলার, যেখানে ভারতের প্রাক্কলন করা হয়েছে হাজার ৮১২ ডলার।

আয়তনের বিচারে ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বড় হলেও মাথাপিছু আয়ের এই সমীকরণ বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। তবে এই অর্জনকে খুব সহজভাবে দেখছেন না দেশের অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক লিড ইকনোমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, ভারত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেক বেশি পার্থক্য রয়েছে। কোনো এক বছরের মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে কোনো একটি দেশের অর্থনীতিকে তুলনামূলক পার্থক্যের জায়গায় নেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি আরও যুক্ত করেন, যেহেতু আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হারকে জিডিপি দিয়ে ভাগ করা হয়, সে কারণে এই পার ক্যাপিটা জিডিপিতেও পরিবর্তন আসে। আইএমএফের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলেও সেটা আরও স্পষ্ট হয়। মূলত মুদ্রার অবমূল্যায়ন একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।

একই সুরে কথা বলেছেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। তিনি মনে করেন, এই পরিসংখ্যান নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার চেয়ে বাস্তবতা অনুধাবন করা জরুরি। সেলিম রায়হান বলেন, এর আগেও মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারত থেকে এগিয়ে ছিল। তার মানে এই না যে আমাদের অর্থনীতি ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। কেননা বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো অনেক জটিল অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটা নিয়ে আত্মসন্তুষ্টিতে সময় কাটানোর কোনো সুযোগই নাই। কেননা আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী, বিনিয়োগেও আছে স্থবিরতা। সেই সঙ্গে এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, মূল্যস্ফীতির ধাক্কা লেগেছে ভালো ভাবেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএমএফের এই পূর্বাভাসে ভারতের ২০২৬ সালের অবস্থান কিছুটা নিম্নমুখী দেখালেও ২০২৭ সাল থেকে দেশটি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তখন ভারতের মাথাপিছু জিডিপি পুনরায় বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০৩১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বা বৈশ্বিক মন্দার মতো বিষয়গুলো যেকোনো সময় হিসাব পাল্টে দিতে পারে। ফলে মাথাপিছু আয়ের এই কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে। মূলত একটি দেশের মোট জিডিপিকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে এই গড় হিসাব করা হয়, যা সুষম বণ্টন নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত