মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ও এক ব্যবসায়ীকে কার্যালয়ে তলব করে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ইউএনওর কার্যালয়ে বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রমজান আলী এবং বালু ব্যবসায়ী আবু তাহেরকে তলব করা হয়। বৈঠকে ইউএনও তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধলেশ্বরী নদী থেকে কোনোভাবেই আর মাটি বা বালু উত্তোলন করা যাবে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে একটি অসাধু চক্র ধলেশ্বরী নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছিল। ইউপি সদস্য রমজান আলীর নেতৃত্বাধীন এই চক্রটি বালু ও মাটি উত্তোলনের পর ড্রাম ট্রাক বা হাইড্রোলিক ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত। এই অবৈধ বাণিজ্যের কারণে নদী তীরবর্তী এলাকা ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে এবং কৃষিজমি বিলীন হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন এখন এই বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি গ্রহণ করেছে। ইউএনও কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রমে সহযোগিতার অভিযোগে ওই দুজনকে কার্যালয়ে ডেকে এনে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এর পরেও যদি তারা অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ পুনরায় বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে মামলাসহ সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন