সংবাদ

শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় কপাল পুড়ল মিসরের, আত্মঘাতী গোলে ড্র বেলজিয়ামের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ এএম

শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় কপাল পুড়ল মিসরের, আত্মঘাতী গোলে ড্র বেলজিয়ামের

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের 'জি' গ্রুপের ম্যাচে এক চরম নাটকীয়তার সাক্ষী হলো ফুটবলবিশ্ব। ম্যাচের অনেকটা সময় দুর্দান্ত খেলে লিড ধরে রেখেও শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পেল না মিসর। মাঠের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সালাহদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। খেলার সপ্তম মিনিটেই বেলজিয়াম প্রথম গোলের সুযোগ পেয়েছিল, তবে দলের তারকা ফরোয়ার্ড কেভিন ডি ব্রুইনের ডান পায়ের শটটি পোস্টের বাম পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

​এরপর ২০তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটিকেই গোলে রূপান্তর করে উল্লাসে মাতে মিসর। দলের প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহর পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে এক ডান পায়ের জোড়ালো শটে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ইমাম আশওয়ার।

কর্তোয়া সঠিক দিকে ডাইভ দিলেও বলের গতি বেশি থাকায় তা আটকানোর কোনো সুযোগ ছিল না তার। মিসর জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৩০তম ম্যাচে এসে প্রথম গোলের দেখা পেলেন ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার আশওয়ার। এক গোল খেয়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। পরের ১৫ মিনিটে তারা বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও মিসরের কাউন্টার অ্যাটাকের কারণে রক্ষণভাগ সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মিসর।

​দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৬ মিনিটে বেলজিয়ামের জেরেমি ডকু বল বারের ওপর দিয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর ৫৩ মিনিটে বক্সের খুব কাছে একটি ফ্রি কিক পায় বেলজিয়াম, তবে কেভিন ডি ব্রুইনের নেওয়া মাপা শটটি পোস্টে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হয় তারা। এর ঠিক দুই মিনিট পর মিসরও ব্যবধান বাড়ানোর সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে।

বক্সের মধ্যে সালাহর নেওয়া একটি হেড কর্তোয়া চমৎকারভাবে ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোল করার সুযোগ ছিল আশওয়ারের সামনে। তবে তার নেওয়া শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের ৬২ মিনিটে বেলজিয়াম প্রথম অন টার্গেট শট নিতে সক্ষম হয়, কিন্তু ডি ব্রুইনের সেই শটে কোনো জোর না থাকায় মিসরীয় গোলরক্ষক শোবেইর সহজেই তা গ্লাভসবন্দী করেন।

​খেলার ভাগ্য বদলাতে ৬৫ মিনিটে তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামান বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া। আর কোচের এই সিদ্ধান্তই মাঠে নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কাজে লেগে যায়। মাঠের ডান প্রান্ত থেকে আসা একটি ক্রস থেকে বল পেয়ে পায়ে লাগাতে যাচ্ছিলেন লুকাকু, কিন্তু সেটি ঠেকাতে গিয়ে মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির পায়ে লেগে বল দুর্ভাগ্যবশত নিজেদের জালেই ঢুকে যায়।

এই আত্মঘাতী গোলের সুবাদেই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে ডি ব্রুইনের আরেকটি চমৎকার ফ্রি কিক রুখে দেন মিসরের গোলরক্ষক। সেখান থেকে ফিরতি বল পেয়ে ব্রেন্ডন মেশেলে হেড করলেও মিসরীয় গোলরক্ষক আবারও দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

খেলার একদম শেষ দিকে ৮৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে মিসরের জিজু পড়ে গেলে পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানায় পুরো দল। কিন্তু রেফারি সেই আবেদন নাকচ করে দিলে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় কপাল পুড়ল মিসরের, আত্মঘাতী গোলে ড্র বেলজিয়ামের

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের 'জি' গ্রুপের ম্যাচে এক চরম নাটকীয়তার সাক্ষী হলো ফুটবলবিশ্ব। ম্যাচের অনেকটা সময় দুর্দান্ত খেলে লিড ধরে রেখেও শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পেল না মিসর। মাঠের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সালাহদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। খেলার সপ্তম মিনিটেই বেলজিয়াম প্রথম গোলের সুযোগ পেয়েছিল, তবে দলের তারকা ফরোয়ার্ড কেভিন ডি ব্রুইনের ডান পায়ের শটটি পোস্টের বাম পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

​এরপর ২০তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটিকেই গোলে রূপান্তর করে উল্লাসে মাতে মিসর। দলের প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহর পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে এক ডান পায়ের জোড়ালো শটে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ইমাম আশওয়ার।

কর্তোয়া সঠিক দিকে ডাইভ দিলেও বলের গতি বেশি থাকায় তা আটকানোর কোনো সুযোগ ছিল না তার। মিসর জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৩০তম ম্যাচে এসে প্রথম গোলের দেখা পেলেন ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার আশওয়ার। এক গোল খেয়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। পরের ১৫ মিনিটে তারা বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও মিসরের কাউন্টার অ্যাটাকের কারণে রক্ষণভাগ সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মিসর।

​দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৬ মিনিটে বেলজিয়ামের জেরেমি ডকু বল বারের ওপর দিয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর ৫৩ মিনিটে বক্সের খুব কাছে একটি ফ্রি কিক পায় বেলজিয়াম, তবে কেভিন ডি ব্রুইনের নেওয়া মাপা শটটি পোস্টে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হয় তারা। এর ঠিক দুই মিনিট পর মিসরও ব্যবধান বাড়ানোর সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে।

বক্সের মধ্যে সালাহর নেওয়া একটি হেড কর্তোয়া চমৎকারভাবে ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোল করার সুযোগ ছিল আশওয়ারের সামনে। তবে তার নেওয়া শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের ৬২ মিনিটে বেলজিয়াম প্রথম অন টার্গেট শট নিতে সক্ষম হয়, কিন্তু ডি ব্রুইনের সেই শটে কোনো জোর না থাকায় মিসরীয় গোলরক্ষক শোবেইর সহজেই তা গ্লাভসবন্দী করেন।

​খেলার ভাগ্য বদলাতে ৬৫ মিনিটে তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামান বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া। আর কোচের এই সিদ্ধান্তই মাঠে নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কাজে লেগে যায়। মাঠের ডান প্রান্ত থেকে আসা একটি ক্রস থেকে বল পেয়ে পায়ে লাগাতে যাচ্ছিলেন লুকাকু, কিন্তু সেটি ঠেকাতে গিয়ে মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির পায়ে লেগে বল দুর্ভাগ্যবশত নিজেদের জালেই ঢুকে যায়।

এই আত্মঘাতী গোলের সুবাদেই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে ডি ব্রুইনের আরেকটি চমৎকার ফ্রি কিক রুখে দেন মিসরের গোলরক্ষক। সেখান থেকে ফিরতি বল পেয়ে ব্রেন্ডন মেশেলে হেড করলেও মিসরীয় গোলরক্ষক আবারও দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

খেলার একদম শেষ দিকে ৮৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে মিসরের জিজু পড়ে গেলে পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানায় পুরো দল। কিন্তু রেফারি সেই আবেদন নাকচ করে দিলে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত