শেষবার বিশ্বকাপে জার্মানি ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছিল ১২ বছর আগে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজিলকে এই ব্যবধানেই হারিয়েছিল তারা। একই ফলাফল ফিরল এবারের বিশ্বকাপে। হিউস্টনে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি।
কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা এক লাখ ৫৬
হাজার। স্বপ্নের যোগ্যতা অর্জন পর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিল তারা। কিন্তু প্রথম
ম্যাচেই রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি হতে হয়। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর এবং চারবারের বিশ্বজয়ী
জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ যে সহজ হবে না এটা অতি বড় কুরাসাও সমর্থকও বুঝতে পেরেছিলেন।
তবে ৭ গোল খেতে হবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি।
এত গোল হজম করার পরেও কুরাসাওকে
একটি মুহূর্তের জন্যও নেতিবাচক ফুটবল খেলতে দেখা যায়নি। বল পেলেই তারা প্রতি আক্রমণে
উঠে গোল করার চেষ্টা করেছে।
ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এগিয়ে
যায় জার্মানি। ৬ মিনিটে গোল করেন ফেলিক্স মেচা। তখন মনে করা হয়েছিল, জার্মানি সহজেই
ম্যাচ জিতে নেবে। কিন্তু নাটক তখনও শুরু হয়নি। ২১ মিনিটে গোল শোধ করে দেন লিভানো কমেনেন্সিয়া।
কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা প্রথম গোল। প্রতি আক্রমণ থেকে যেভাবে গোল করেন তিনি,
তা প্রশংসা করার মতোই।
ওটাই ছিল জার্মানদের স্বভিমানে
আঘাত দেয়ার জন্য যথেষ্ট। ওই একটা গোল হজম জার্মানির খেলার মেজাজটাই বদলে দিলো। বাকি
যে সময়টা খেলা হয়, তাতে দাপট শুধু জার্মানির। বল নিয়ন্ত্রণ, শট, আগ্রাসন সবেতেই এগিয়ে
থেকেছে তারা। সাত গোলের মধ্যে ছ’জন আলাদা স্কোরার।
তবে প্রশংসা করতেই হবে কুরাসাওকে।
তারা দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। কিন্তু এক ফোঁটাও লড়াই ছাড়েনি। জনসংখ্যার বিচারে ক্ষুদ্রতম
দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে নেমে আগেই ইতিহাস তৈরি করেছিল তারা। এদিন প্রমাণ করেছে,
জনসংখ্যা যতই কম হোক, মাঠে যে ১১ জন নামবেন, তারা জীবন দিয়ে খেলবেন।
ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারের পর
থেকেই জার্মানি এবং কুরাসাওয়ের ফুটবলের গুণমানের অভাব স্পষ্ট হয়ে যায়। জার্মানি ছেলেখেলা
করতে থাকে কুরাসাওয়ের রক্ষণ নিয়ে। ইচ্ছেমতো তারা আক্রমণ করেছে, গোল করেছে। কিন্তু কুরাসাওয়ের
মনোবল তুবড়ে দিতে পারেনি। বড় দলের বিপক্ষে ছোট কোনো দল খেলতে নামলে সাধারণত ঘর সামলানোর
দিকেই নজর দেয় বেশি। কুরাসাও যে আলাদা কিছু করেছে তা নয়। কিন্তু অতি রক্ষণাত্মক ফুটবল
বা নেতিবাচক ফুটবলের রাস্তায় তারা হাঁটেনি। বল পেলে উড়িয়ে দেয়ার নীতি নয়, তারা চেষ্টা
করেছে পাস খেলে, লম্বা বল খেলে, হিসেবে ফুটবল খেলে আক্রমণে উঠতে। দুই দলের ফুটবলারের
অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার ফারাকের কারণে তারা সফল হয়নি। কিন্তু লড়াইয়ের রাস্তা থেকে সরে
আসেনি। দিনের শেষে এটাই কুরাসাওয়ের বড় প্রাপ্তি।
রেকর্ড জার্মানির
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই রেকর্ড
জার্মানির। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে টপকে নতুন রেকর্ড গড়লেন চারবারের চ্যাম্পিয়নেরা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড এখন জার্মানির দখলে।
গত রোববার নবাগত দল কুরাসাওকে
৭-১ ব্যবধানে হারিয়েছে জার্মানি। বড় ব্যবধানে জয় দিয়ে শুরু করেছেন ফ্লোরিয়ান উর্ইৎজরো। জার্মানির
এই জয় ফুটবলপ্রেমীদের ১২ বছর আগের একটি স্মৃতি টাটকা করে দিয়েছে। সে সময় ব্রাজিলকে
৭-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল জার্মানরা। একই ব্যবধানে জিতে সেই ব্রাজিলের রেকর্ডই ভেঙে দিলো
জার্মানি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি
গোল করার নজির গড়েছে জার্মানি। কুরাসাও ম্যাচের পর তাদের গোল সংখ্যা হলো ২৩৯। এক গোল
কম করে দ্বিতীয় স্থানে এখন ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা গোল করেছে ২৩৮টি। তৃতীয় স্থানে
রয়েছে আর্জেন্টিনা। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের গোল সংখ্যা ১৫২। চতুর্থ স্থানে থাকা ফ্রান্স
বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত গোল করেছে ১৩৬টি। তালিকায় পঞ্চম স্থানে ইতালি। চারবারের বিশ্বজয়ীদের
গোল সংখ্যা ১২৮। উল্লেখ্য, টানা তিনটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে
পারেনি আজুরিরা।
গোলরক্ষকের কাণ্ডে বিতর্কে জার্মানি!
কুরাসাওকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে
দেয়ার পরেও বিতর্কে জার্মানি। বিতর্কের কেন্দ্রে তাদের গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ের।
ফিফার জার্সিসংক্রান্ত দু’টি নিয়ম ভেঙেছেন ন্যুয়ের। এই ভুল দেখার কথা ছিল রেফারির।
কিন্তু তিনিও ন্যুয়েরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।
ক্যারিয়ারে প্রায় সব ম্যাচেই
হাফ স্লিভ জার্সি পরে খেলেছেন ন্যুয়ের। বিশ্বকাপে তার জার্সি ছিল ফুল স্লিভ। তিনি কনুইয়ের
কাছ থেকে জার্সি কেটে ফেলেন। তারপর তা পরে খেলেন। কুরাসাও ম্যাচে ন্যুয়েরের সবুজ রঙের
জার্সি দেখে বোঝা যাচ্ছিল, সেটি কেটে নিয়েছেন তিনি।
তবে এসব ক্ষেত্রে ফিফা সরাসরি
কোনো ফুটবলারকে শাস্তি দিতে পারে না। সেই অধিকার রয়েছে রেফারির। ফলে ন্যুয়ের হয়তো শাস্তি
পাবেন না। কিন্তু ফিফার নিয়ম ভেঙে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি।
ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট
আইভরি কোস্ট-ইকুয়েডর ম্যাচে জিতেছে
আইভরি।
ম্যাচে মাত্র এক গোল হলো। খেলার
৯০ মিনিটের মাথায় আমাদ দিয়ালোর গোলে জেতে আইভরি কোস্ট।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
শেষবার বিশ্বকাপে জার্মানি ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছিল ১২ বছর আগে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজিলকে এই ব্যবধানেই হারিয়েছিল তারা। একই ফলাফল ফিরল এবারের বিশ্বকাপে। হিউস্টনে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি।
কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা এক লাখ ৫৬
হাজার। স্বপ্নের যোগ্যতা অর্জন পর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিল তারা। কিন্তু প্রথম
ম্যাচেই রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি হতে হয়। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর এবং চারবারের বিশ্বজয়ী
জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ যে সহজ হবে না এটা অতি বড় কুরাসাও সমর্থকও বুঝতে পেরেছিলেন।
তবে ৭ গোল খেতে হবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি।
এত গোল হজম করার পরেও কুরাসাওকে
একটি মুহূর্তের জন্যও নেতিবাচক ফুটবল খেলতে দেখা যায়নি। বল পেলেই তারা প্রতি আক্রমণে
উঠে গোল করার চেষ্টা করেছে।
ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এগিয়ে
যায় জার্মানি। ৬ মিনিটে গোল করেন ফেলিক্স মেচা। তখন মনে করা হয়েছিল, জার্মানি সহজেই
ম্যাচ জিতে নেবে। কিন্তু নাটক তখনও শুরু হয়নি। ২১ মিনিটে গোল শোধ করে দেন লিভানো কমেনেন্সিয়া।
কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা প্রথম গোল। প্রতি আক্রমণ থেকে যেভাবে গোল করেন তিনি,
তা প্রশংসা করার মতোই।
ওটাই ছিল জার্মানদের স্বভিমানে
আঘাত দেয়ার জন্য যথেষ্ট। ওই একটা গোল হজম জার্মানির খেলার মেজাজটাই বদলে দিলো। বাকি
যে সময়টা খেলা হয়, তাতে দাপট শুধু জার্মানির। বল নিয়ন্ত্রণ, শট, আগ্রাসন সবেতেই এগিয়ে
থেকেছে তারা। সাত গোলের মধ্যে ছ’জন আলাদা স্কোরার।
তবে প্রশংসা করতেই হবে কুরাসাওকে।
তারা দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। কিন্তু এক ফোঁটাও লড়াই ছাড়েনি। জনসংখ্যার বিচারে ক্ষুদ্রতম
দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে নেমে আগেই ইতিহাস তৈরি করেছিল তারা। এদিন প্রমাণ করেছে,
জনসংখ্যা যতই কম হোক, মাঠে যে ১১ জন নামবেন, তারা জীবন দিয়ে খেলবেন।
ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারের পর
থেকেই জার্মানি এবং কুরাসাওয়ের ফুটবলের গুণমানের অভাব স্পষ্ট হয়ে যায়। জার্মানি ছেলেখেলা
করতে থাকে কুরাসাওয়ের রক্ষণ নিয়ে। ইচ্ছেমতো তারা আক্রমণ করেছে, গোল করেছে। কিন্তু কুরাসাওয়ের
মনোবল তুবড়ে দিতে পারেনি। বড় দলের বিপক্ষে ছোট কোনো দল খেলতে নামলে সাধারণত ঘর সামলানোর
দিকেই নজর দেয় বেশি। কুরাসাও যে আলাদা কিছু করেছে তা নয়। কিন্তু অতি রক্ষণাত্মক ফুটবল
বা নেতিবাচক ফুটবলের রাস্তায় তারা হাঁটেনি। বল পেলে উড়িয়ে দেয়ার নীতি নয়, তারা চেষ্টা
করেছে পাস খেলে, লম্বা বল খেলে, হিসেবে ফুটবল খেলে আক্রমণে উঠতে। দুই দলের ফুটবলারের
অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার ফারাকের কারণে তারা সফল হয়নি। কিন্তু লড়াইয়ের রাস্তা থেকে সরে
আসেনি। দিনের শেষে এটাই কুরাসাওয়ের বড় প্রাপ্তি।
রেকর্ড জার্মানির
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই রেকর্ড
জার্মানির। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে টপকে নতুন রেকর্ড গড়লেন চারবারের চ্যাম্পিয়নেরা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড এখন জার্মানির দখলে।
গত রোববার নবাগত দল কুরাসাওকে
৭-১ ব্যবধানে হারিয়েছে জার্মানি। বড় ব্যবধানে জয় দিয়ে শুরু করেছেন ফ্লোরিয়ান উর্ইৎজরো। জার্মানির
এই জয় ফুটবলপ্রেমীদের ১২ বছর আগের একটি স্মৃতি টাটকা করে দিয়েছে। সে সময় ব্রাজিলকে
৭-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল জার্মানরা। একই ব্যবধানে জিতে সেই ব্রাজিলের রেকর্ডই ভেঙে দিলো
জার্মানি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি
গোল করার নজির গড়েছে জার্মানি। কুরাসাও ম্যাচের পর তাদের গোল সংখ্যা হলো ২৩৯। এক গোল
কম করে দ্বিতীয় স্থানে এখন ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা গোল করেছে ২৩৮টি। তৃতীয় স্থানে
রয়েছে আর্জেন্টিনা। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের গোল সংখ্যা ১৫২। চতুর্থ স্থানে থাকা ফ্রান্স
বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত গোল করেছে ১৩৬টি। তালিকায় পঞ্চম স্থানে ইতালি। চারবারের বিশ্বজয়ীদের
গোল সংখ্যা ১২৮। উল্লেখ্য, টানা তিনটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে
পারেনি আজুরিরা।
গোলরক্ষকের কাণ্ডে বিতর্কে জার্মানি!
কুরাসাওকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে
দেয়ার পরেও বিতর্কে জার্মানি। বিতর্কের কেন্দ্রে তাদের গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ের।
ফিফার জার্সিসংক্রান্ত দু’টি নিয়ম ভেঙেছেন ন্যুয়ের। এই ভুল দেখার কথা ছিল রেফারির।
কিন্তু তিনিও ন্যুয়েরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।
ক্যারিয়ারে প্রায় সব ম্যাচেই
হাফ স্লিভ জার্সি পরে খেলেছেন ন্যুয়ের। বিশ্বকাপে তার জার্সি ছিল ফুল স্লিভ। তিনি কনুইয়ের
কাছ থেকে জার্সি কেটে ফেলেন। তারপর তা পরে খেলেন। কুরাসাও ম্যাচে ন্যুয়েরের সবুজ রঙের
জার্সি দেখে বোঝা যাচ্ছিল, সেটি কেটে নিয়েছেন তিনি।
তবে এসব ক্ষেত্রে ফিফা সরাসরি
কোনো ফুটবলারকে শাস্তি দিতে পারে না। সেই অধিকার রয়েছে রেফারির। ফলে ন্যুয়ের হয়তো শাস্তি
পাবেন না। কিন্তু ফিফার নিয়ম ভেঙে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি।
ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট
আইভরি কোস্ট-ইকুয়েডর ম্যাচে জিতেছে
আইভরি।
ম্যাচে মাত্র এক গোল হলো। খেলার
৯০ মিনিটের মাথায় আমাদ দিয়ালোর গোলে জেতে আইভরি কোস্ট।

আপনার মতামত লিখুন