সংবাদ

স্বপ্ন বেচার নামে জর্ডানে মানবপাচার: ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে অন্ধকার চক্রের পর্দাফাঁস


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম

স্বপ্ন বেচার নামে জর্ডানে মানবপাচার: ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে অন্ধকার চক্রের পর্দাফাঁস

সোনার হরিণ ধরার আশায় জমি কিংবা শেষ সম্বল বিক্রি করে ভাগ্য বদলাতে চেয়েছিলেন জর্ডানগামী সাধারণ কিছু মানুষ। কিন্তু তাদের সেই সরলতার সুযোগ নিয়ে বুকভরা স্বপ্নকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছিল একদল আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র।

বৈধ কোনো রিক্রুটিং লাইসেন্স কিংবা সরকারি অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও জর্ডানে মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে চলছিল কোটি কোটি টাকার অভিনব প্রতারণা ও অভিবাসী চোরাচালান। অবশেষে সিআইডির বিশেষ অভিযানে বাড্ডার রূপায়ন মিলেনিয়াম স্কয়ার থেকে এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলছিল এক নির্মম খেলা।

সোমবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "সুরাহ ট্রাভেলস এন্ড ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানটি জর্ডানের জেরাশ গার্মেন্টস এন্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানি লিমিটেডের নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে সেখানে শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে আসছিল। তারা নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছিল।"

সিআইডির মানবপাচার মনিটরিং সেলের একটি চৌকস দল বাড্ডার সেই তথাকথিত অফিসে অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সক্রিয় সদস্য মাঞ্জুর প্রধানিয়া, ওসমান গনি ও কাজী আতা-ই-রাব্বিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করা হয় স্বপ্নাতুর মানুষের ৫৫টি আসল পাসপোর্ট, ১৬টি চুক্তিপত্র ও জালিয়াতির ডিজিটাল আলামত।

সাধারণ ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স নিয়ে কীভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর চটকদার বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল, তা দেখে হতবাক তদন্তকারীরাও। জর্ডানের আসল গার্মেন্টস কোম্পানিটি যখন জানতে পারে যে বাংলাদেশে তাদের নাম ভাঙিয়ে মানবপাচার চলছে, তখন তারা জর্ডানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরবর্তীতে সেই অভিযোগ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিআইডির কাছে পৌঁছালে শুরু হয় ছায়াতদন্ত। তদন্তে দেখা যায়, জব্দকৃত পাসপোর্টের মধ্যে ১৮টি জর্ডান এবং বাকিগুলো সৌদি আরবগামী ভাগ্যবঞ্চিত শ্রমিকদের।

টাকা ও পাসপোর্ট হারিয়ে আজ দিশেহারা শত শত পরিবার, যাদের চোখে ছিল শুধুই একটু সচ্ছলতার স্বপ্ন। বাড্ডা থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়েরের পর আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, "বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও দরকারি অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করছিল, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত আছে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


স্বপ্ন বেচার নামে জর্ডানে মানবপাচার: ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে অন্ধকার চক্রের পর্দাফাঁস

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

সোনার হরিণ ধরার আশায় জমি কিংবা শেষ সম্বল বিক্রি করে ভাগ্য বদলাতে চেয়েছিলেন জর্ডানগামী সাধারণ কিছু মানুষ। কিন্তু তাদের সেই সরলতার সুযোগ নিয়ে বুকভরা স্বপ্নকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছিল একদল আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র।

বৈধ কোনো রিক্রুটিং লাইসেন্স কিংবা সরকারি অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও জর্ডানে মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে চলছিল কোটি কোটি টাকার অভিনব প্রতারণা ও অভিবাসী চোরাচালান। অবশেষে সিআইডির বিশেষ অভিযানে বাড্ডার রূপায়ন মিলেনিয়াম স্কয়ার থেকে এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলছিল এক নির্মম খেলা।

সোমবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "সুরাহ ট্রাভেলস এন্ড ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানটি জর্ডানের জেরাশ গার্মেন্টস এন্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানি লিমিটেডের নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে সেখানে শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে আসছিল। তারা নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছিল।"

সিআইডির মানবপাচার মনিটরিং সেলের একটি চৌকস দল বাড্ডার সেই তথাকথিত অফিসে অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সক্রিয় সদস্য মাঞ্জুর প্রধানিয়া, ওসমান গনি ও কাজী আতা-ই-রাব্বিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করা হয় স্বপ্নাতুর মানুষের ৫৫টি আসল পাসপোর্ট, ১৬টি চুক্তিপত্র ও জালিয়াতির ডিজিটাল আলামত।

সাধারণ ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স নিয়ে কীভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর চটকদার বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল, তা দেখে হতবাক তদন্তকারীরাও। জর্ডানের আসল গার্মেন্টস কোম্পানিটি যখন জানতে পারে যে বাংলাদেশে তাদের নাম ভাঙিয়ে মানবপাচার চলছে, তখন তারা জর্ডানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরবর্তীতে সেই অভিযোগ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিআইডির কাছে পৌঁছালে শুরু হয় ছায়াতদন্ত। তদন্তে দেখা যায়, জব্দকৃত পাসপোর্টের মধ্যে ১৮টি জর্ডান এবং বাকিগুলো সৌদি আরবগামী ভাগ্যবঞ্চিত শ্রমিকদের।

টাকা ও পাসপোর্ট হারিয়ে আজ দিশেহারা শত শত পরিবার, যাদের চোখে ছিল শুধুই একটু সচ্ছলতার স্বপ্ন। বাড্ডা থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়েরের পর আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, "বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও দরকারি অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করছিল, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত আছে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত