লোকে বলে নামে কী-বা এসে যায়! জি হ্যাঁ, অনেক কিছুই এসে যায়| যদি নামটি হয় ‘দৈনিক সংবাদ’ কারো কি বুঝতে বাকি থাকে এটি একটি সংবাদপত্রের নাম? হ্যাঁ, বলছি বাংলাদেশের জাতীয় বাংলা দৈনিক, ‘সংবাদ’-এর কথা| সেই ১৯৫১ সালের ১৭ মে ঢাকার বংশালের ইস্ট পাকিস্তান প্রেসে নাসির উদ্দিন আহমতের ব্যবস্থাপনা আর খায়রুল কবিরের নিপুণ সম্পাদনায় যার অঙ্কুরোদ্গম| কম তো নয়, হাঁটি হাঁটি পা পা করে পঁচাত্তর বছর| কত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এটি আজ ‘সংবাদ’ পত্রিকার জগতের এক মহীরুহ| পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের যে সংগ্রামী ইতিহাস তার প্রতিটি ছত্রে সংবাদের একাত্মতা বাঙালি জাতির হৃদয় গহিনে স্বাধীনতার অমোঘ প্রত্যাশার প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রগতিশীলতার মহিমায় মহিমান্বিত হয়েছে| খেসারতও কম দিতে হয়নি| একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রোষের আগুনে পুড়ে ছাই হলো প্রেসসহ পুরো ‘সংবাদ’ অফিস, তারই লেলিহান শিখার করাল গ্রাসে অকালে ঝরে গেলো এক অকুতোভয় সাংবাদিক শহীদ সাবের| ফলে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস প্রকাশনার নিশ্চুপ প্রতিবাদ| বাহাত্তরের ৯ জানুয়ারি থেকে আবার স্বামহিমায় আজ অব্দি সরব পথচলা|
নিঃসন্দেহে মুক্তচিন্তার প্রগতিশীল একটি পত্রিকা হলো ‘সংবাদ’| এর সমৃদ্ধ ও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে| ¯^ভাবতই জিজ্ঞাসু মনের আকুলতা কারা এর প্রকৃত কুশীলব| জন্মের তিন বছরের মাথায় অর্থাৎ ১৯৫৪ সালে এর মালিকানা পরিবর্তন হয়| সূচিত হয় নতুন দিগন্তের| এ পথের সারথি আহমদুল কবির আর জহুর হোসেন চৌধুরীর ব্যবস্থাপনা ও সম্পাদনায় সহযাত্রী হিসেবে পেয়ে যান রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন, সন্তোষ গুপ্ত, তোয়াব খান, কামাল লোহানী, মোহাম্মদ ফরহাদ, আলী আকসাদ, বজলুর রহমান প্রমুখের মতো প্রথিতযশা নির্মোহ কিছু ব্যক্তিত্বকে| যাঁদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা আর আন্তরিকতার ছোঁয়ায় বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বাঙালি সংস্কৃতি বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালনের মাধ্যমে এ ˆদনিকটি ক্রমাš^য়ে বাঙালির হৃদয়ে মর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে| উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন আহমদুল কবির| পরবর্তী সময়ে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন বজলুর রহমান| তিনি আমৃত্যু এ দায়িত্ব পালন করেন| এ দুজনের মৃত্যুর পর আবার এর মালিকানা পরিবর্তিত হয়|
পত্রিকার কাজ হলো তার পাঠকের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেয়া| সমসাময়িক ঘটনা সম্পর্কিত তথ্যই হলো সংবাদ| আর সংবাদের সাধারণ বিষয়গুলো হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, আবহাওয়া, অস্বাভাবিক ঘটনা, অপরাধ, বিনোদন, ক্রীড়া, সরকার, সরকারি ঘোষণা, রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, যুদ্ধ, সংকট, সাম্প্রতিক বিশ্ব ইত্যাদি| কিন্তু সব তথ্যই কি সংবাদ বা খবর অথবা সব তথ্যই কি সংবাদযোগ্য? যথাযথ সংবাদ নির্বাচন করার মধ্যেই নিহিত পত্রিকার মান এবং গ্রহণযোগ্যতা| কোনো তথ্য সংবাদ হয়ে উঠতে হলে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য থাকা বাঞ্ছনীয়| তথ্যের নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায্যতা, বস্তুনিষ্ঠতা, স্বচ্ছতা, সময়োপযোগিতা, সাম্প্রতিকতা, জনস্বার্থ এগুলো অন্যতম| শোভন ভাষায় বাহুল্য বর্জন করে সংক্ষিপ্তাকারে সুন্দর শিরোনামে সংবাদের গুরুত্বানুসারে যথাযথ উপস্থাপনের বিষয় তো রয়েছেই| সংবাদপত্রের লক্ষ্য শুধু পাঠককে সংবাদ অবগত করা এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা নয়| পাঠককে শিক্ষিত করে তোলাও এর অন্যতম লক্ষ্য| এক্ষেত্রে পাঠকের চাহিদার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| তবে সস্তা জনপ্রিয়তা লাভ বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অসত্য, অতিরঞ্জিত, চাঞ্চল্যকর কোনো সংবাদ উপস্থাপন অপসাংবাদিকতার নামান্তর| জনস্বার্থে সত্য প্রকাশে আপোসহীনতা হলো সাংবাদিকের দায়িত্ব জ্ঞান এবং কোন অপশক্তির কাছে নয় বরং সমাজ, দেশ, জাতি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও সমধিক গুরুত্বপূর্ণ|
সাংবাদিকতার পেশাগত ˆনতিকতাসহ ওপরের বিষয়গুলো যদি আদর্শ সংবাদপত্রের মানদণ্ড হয় তবে যে কোনো বিচারে ‘সংবাদ’-এর পাল্লা হবে অনেক ভারি| স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে কত উত্থান পতন, কত কী| কিন্তু সংবাদ কখনো পিছলে পড়েনি| স্রোতে গা ভাসায়নি| সেকারণে হয়তো তার বাণিজ্যিক সফলতা ততটা আসেনি| কিন্তু সাফল্য ঐখানেই, দীর্ঘ পথচলায় ‘সংবাদ’ কিছু প্রগতিশীল পাঠক ˆতরি করতে সক্ষম হয়েছে অথবা উল্টোভাবে বলতে গেলে দেশের প্রগতিশীল মানুষগুলো সংবাদের প্রেমে পড়েছে| ‘সংবাদ’ নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ ছাড়াও রাজনীতি, অর্থনীতি ও বাণিজ্য, খেলাধুলা, সম্পাদকীয় ও উপ-সম্পাদকীয়, মতামত, বিনোদন ও সংস্কৃতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরি, প্রবাস এবং বিশেষ ফিচারে অনিন্দ্যসুন্দর মালা গেঁথে চলেছে| যারা সংবাদে কাজ করেছেন তারা দরদ দিয়ে করেছেন, যারা লিখেছেন আদর্শের জায়গা থেকে লিখেছেন| স্বাভাবতই অগণিত পাঠকের মাঝে যারা সুন্দরের পূজারি, প্রগতির অনুসারী, সত্যের ধ্বজাধারী তারা অকপটে হৃদয়ের মনিকোঠায় যায়গা দিয়েছেন এটিকে| এর বাইরেও অনেক পাঠক আছেন যারা নিজের প্রয়োজনে, ভালো লাগার তাগিদে ‘সংবাদ’কে কাছে টেনেছেন| নিজের করে নিয়েছেন| আমি হয়তো তাদেরই দলের একজন|
আশির দশকের প্রথমদিকে উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র থাকাকালীন ধীরে ধীরে এর প্রেমে পড়া এবং পরবর্তীতে আসক্তি| ভালো লাগার বিষয়টি শুরু হয় সাহিত্য পাতা থেকে| বিশ্বসাহিত্যের তাবৎ বাঘা-বাঘা ব্যক্তিদের নাম জানা এখান থেকেই| তারপর আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং সম্পাদকীয় ও উপ-সম্পাদকীয়| গাছপাথর ছদ্মনামে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারের লেখাটার আকর্ষণ ছিল দুর্নিবার| ছোট ছোট বাক্যে অজানা এক ছন্দ| যেন গোগ্রাসে গেলা যায়| কিন্তু যায় না| দু-এক বাক্য পড়ার পর থামতে হয়| ভাবতে হয়| চিন্তার খোরাক যোগায় তার রস আস্বাদনে| মর্মার্থ বুঝতে| সমাজকে জানতে| জীবনকে বুঝতে| বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যখন বিশ্ব সংসারে নিজের অবস্থান ˆতরির তাগিদ অনুভূত হয়| ˆদনন্দিন খবরাখবর জানার জন্য অন্যান্য পত্রিকায় চোখ বুলানো আর পড়ালেখায় মনোযোগের পাশাপাশি সময় বের করে সংবাদে নিয়মিত হওয়া| এতে মনের খোরাক আর বিসিএস-এর প্রস্তুতি দুই-ই চলে| এভাবেই হয়তো ‘সংবাদ’-এর অনুরাগী হয়ে ওঠে অসংখ্য পাঠক|
রাতের আঁধার ছাড়িয়ে প্রভাতে সূর্যের আলো যেমন পৃথিবীকে আলোকিত করে তেমনি প্রতিটি ভোরে ‘সংবাদ’ তার পাঠকের কাছে পৌঁছে জ্ঞানের আলোকে উদ্ভাসিত করেছে| আর ধীরে ধীরে নিজের অবস্থানকে করেছে লক্ষ কোটি নক্ষত্রের মাঝে স্বামহিমায় জ্বলজ্বল করা ধ্রুব তারার মতো সুদৃঢ়| ধ্রুব তারার প্রতি মানুষের মুগ্ধতা এবং আগ্রহ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে| আর এটি সম্ভব ‘সংবাদ’-এর সত্যের কাছে নিরন্তর দায়বদ্ধতার অবিচল প্রতিজ্ঞা|

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
লোকে বলে নামে কী-বা এসে যায়! জি হ্যাঁ, অনেক কিছুই এসে যায়| যদি নামটি হয় ‘দৈনিক সংবাদ’ কারো কি বুঝতে বাকি থাকে এটি একটি সংবাদপত্রের নাম? হ্যাঁ, বলছি বাংলাদেশের জাতীয় বাংলা দৈনিক, ‘সংবাদ’-এর কথা| সেই ১৯৫১ সালের ১৭ মে ঢাকার বংশালের ইস্ট পাকিস্তান প্রেসে নাসির উদ্দিন আহমতের ব্যবস্থাপনা আর খায়রুল কবিরের নিপুণ সম্পাদনায় যার অঙ্কুরোদ্গম| কম তো নয়, হাঁটি হাঁটি পা পা করে পঁচাত্তর বছর| কত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এটি আজ ‘সংবাদ’ পত্রিকার জগতের এক মহীরুহ| পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের যে সংগ্রামী ইতিহাস তার প্রতিটি ছত্রে সংবাদের একাত্মতা বাঙালি জাতির হৃদয় গহিনে স্বাধীনতার অমোঘ প্রত্যাশার প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রগতিশীলতার মহিমায় মহিমান্বিত হয়েছে| খেসারতও কম দিতে হয়নি| একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রোষের আগুনে পুড়ে ছাই হলো প্রেসসহ পুরো ‘সংবাদ’ অফিস, তারই লেলিহান শিখার করাল গ্রাসে অকালে ঝরে গেলো এক অকুতোভয় সাংবাদিক শহীদ সাবের| ফলে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস প্রকাশনার নিশ্চুপ প্রতিবাদ| বাহাত্তরের ৯ জানুয়ারি থেকে আবার স্বামহিমায় আজ অব্দি সরব পথচলা|
নিঃসন্দেহে মুক্তচিন্তার প্রগতিশীল একটি পত্রিকা হলো ‘সংবাদ’| এর সমৃদ্ধ ও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে| ¯^ভাবতই জিজ্ঞাসু মনের আকুলতা কারা এর প্রকৃত কুশীলব| জন্মের তিন বছরের মাথায় অর্থাৎ ১৯৫৪ সালে এর মালিকানা পরিবর্তন হয়| সূচিত হয় নতুন দিগন্তের| এ পথের সারথি আহমদুল কবির আর জহুর হোসেন চৌধুরীর ব্যবস্থাপনা ও সম্পাদনায় সহযাত্রী হিসেবে পেয়ে যান রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন, সন্তোষ গুপ্ত, তোয়াব খান, কামাল লোহানী, মোহাম্মদ ফরহাদ, আলী আকসাদ, বজলুর রহমান প্রমুখের মতো প্রথিতযশা নির্মোহ কিছু ব্যক্তিত্বকে| যাঁদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা আর আন্তরিকতার ছোঁয়ায় বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বাঙালি সংস্কৃতি বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালনের মাধ্যমে এ ˆদনিকটি ক্রমাš^য়ে বাঙালির হৃদয়ে মর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে| উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন আহমদুল কবির| পরবর্তী সময়ে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন বজলুর রহমান| তিনি আমৃত্যু এ দায়িত্ব পালন করেন| এ দুজনের মৃত্যুর পর আবার এর মালিকানা পরিবর্তিত হয়|
পত্রিকার কাজ হলো তার পাঠকের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেয়া| সমসাময়িক ঘটনা সম্পর্কিত তথ্যই হলো সংবাদ| আর সংবাদের সাধারণ বিষয়গুলো হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, আবহাওয়া, অস্বাভাবিক ঘটনা, অপরাধ, বিনোদন, ক্রীড়া, সরকার, সরকারি ঘোষণা, রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, যুদ্ধ, সংকট, সাম্প্রতিক বিশ্ব ইত্যাদি| কিন্তু সব তথ্যই কি সংবাদ বা খবর অথবা সব তথ্যই কি সংবাদযোগ্য? যথাযথ সংবাদ নির্বাচন করার মধ্যেই নিহিত পত্রিকার মান এবং গ্রহণযোগ্যতা| কোনো তথ্য সংবাদ হয়ে উঠতে হলে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য থাকা বাঞ্ছনীয়| তথ্যের নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায্যতা, বস্তুনিষ্ঠতা, স্বচ্ছতা, সময়োপযোগিতা, সাম্প্রতিকতা, জনস্বার্থ এগুলো অন্যতম| শোভন ভাষায় বাহুল্য বর্জন করে সংক্ষিপ্তাকারে সুন্দর শিরোনামে সংবাদের গুরুত্বানুসারে যথাযথ উপস্থাপনের বিষয় তো রয়েছেই| সংবাদপত্রের লক্ষ্য শুধু পাঠককে সংবাদ অবগত করা এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা নয়| পাঠককে শিক্ষিত করে তোলাও এর অন্যতম লক্ষ্য| এক্ষেত্রে পাঠকের চাহিদার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| তবে সস্তা জনপ্রিয়তা লাভ বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অসত্য, অতিরঞ্জিত, চাঞ্চল্যকর কোনো সংবাদ উপস্থাপন অপসাংবাদিকতার নামান্তর| জনস্বার্থে সত্য প্রকাশে আপোসহীনতা হলো সাংবাদিকের দায়িত্ব জ্ঞান এবং কোন অপশক্তির কাছে নয় বরং সমাজ, দেশ, জাতি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও সমধিক গুরুত্বপূর্ণ|
সাংবাদিকতার পেশাগত ˆনতিকতাসহ ওপরের বিষয়গুলো যদি আদর্শ সংবাদপত্রের মানদণ্ড হয় তবে যে কোনো বিচারে ‘সংবাদ’-এর পাল্লা হবে অনেক ভারি| স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে কত উত্থান পতন, কত কী| কিন্তু সংবাদ কখনো পিছলে পড়েনি| স্রোতে গা ভাসায়নি| সেকারণে হয়তো তার বাণিজ্যিক সফলতা ততটা আসেনি| কিন্তু সাফল্য ঐখানেই, দীর্ঘ পথচলায় ‘সংবাদ’ কিছু প্রগতিশীল পাঠক ˆতরি করতে সক্ষম হয়েছে অথবা উল্টোভাবে বলতে গেলে দেশের প্রগতিশীল মানুষগুলো সংবাদের প্রেমে পড়েছে| ‘সংবাদ’ নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ ছাড়াও রাজনীতি, অর্থনীতি ও বাণিজ্য, খেলাধুলা, সম্পাদকীয় ও উপ-সম্পাদকীয়, মতামত, বিনোদন ও সংস্কৃতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরি, প্রবাস এবং বিশেষ ফিচারে অনিন্দ্যসুন্দর মালা গেঁথে চলেছে| যারা সংবাদে কাজ করেছেন তারা দরদ দিয়ে করেছেন, যারা লিখেছেন আদর্শের জায়গা থেকে লিখেছেন| স্বাভাবতই অগণিত পাঠকের মাঝে যারা সুন্দরের পূজারি, প্রগতির অনুসারী, সত্যের ধ্বজাধারী তারা অকপটে হৃদয়ের মনিকোঠায় যায়গা দিয়েছেন এটিকে| এর বাইরেও অনেক পাঠক আছেন যারা নিজের প্রয়োজনে, ভালো লাগার তাগিদে ‘সংবাদ’কে কাছে টেনেছেন| নিজের করে নিয়েছেন| আমি হয়তো তাদেরই দলের একজন|
আশির দশকের প্রথমদিকে উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র থাকাকালীন ধীরে ধীরে এর প্রেমে পড়া এবং পরবর্তীতে আসক্তি| ভালো লাগার বিষয়টি শুরু হয় সাহিত্য পাতা থেকে| বিশ্বসাহিত্যের তাবৎ বাঘা-বাঘা ব্যক্তিদের নাম জানা এখান থেকেই| তারপর আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং সম্পাদকীয় ও উপ-সম্পাদকীয়| গাছপাথর ছদ্মনামে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারের লেখাটার আকর্ষণ ছিল দুর্নিবার| ছোট ছোট বাক্যে অজানা এক ছন্দ| যেন গোগ্রাসে গেলা যায়| কিন্তু যায় না| দু-এক বাক্য পড়ার পর থামতে হয়| ভাবতে হয়| চিন্তার খোরাক যোগায় তার রস আস্বাদনে| মর্মার্থ বুঝতে| সমাজকে জানতে| জীবনকে বুঝতে| বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যখন বিশ্ব সংসারে নিজের অবস্থান ˆতরির তাগিদ অনুভূত হয়| ˆদনন্দিন খবরাখবর জানার জন্য অন্যান্য পত্রিকায় চোখ বুলানো আর পড়ালেখায় মনোযোগের পাশাপাশি সময় বের করে সংবাদে নিয়মিত হওয়া| এতে মনের খোরাক আর বিসিএস-এর প্রস্তুতি দুই-ই চলে| এভাবেই হয়তো ‘সংবাদ’-এর অনুরাগী হয়ে ওঠে অসংখ্য পাঠক|
রাতের আঁধার ছাড়িয়ে প্রভাতে সূর্যের আলো যেমন পৃথিবীকে আলোকিত করে তেমনি প্রতিটি ভোরে ‘সংবাদ’ তার পাঠকের কাছে পৌঁছে জ্ঞানের আলোকে উদ্ভাসিত করেছে| আর ধীরে ধীরে নিজের অবস্থানকে করেছে লক্ষ কোটি নক্ষত্রের মাঝে স্বামহিমায় জ্বলজ্বল করা ধ্রুব তারার মতো সুদৃঢ়| ধ্রুব তারার প্রতি মানুষের মুগ্ধতা এবং আগ্রহ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে| আর এটি সম্ভব ‘সংবাদ’-এর সত্যের কাছে নিরন্তর দায়বদ্ধতার অবিচল প্রতিজ্ঞা|

আপনার মতামত লিখুন