শিরোপা ধরে রাখার মিশন এবং রেকর্ডবই ওলটপালটের এক অবিশ্বাস্য রূপকথা দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেন লিওনেল মেসি। বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় জয়ে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে শুভসূচনা এনে দিয়েছেন এই মহাতারকা।
মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে সর্বোচ্চ ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েন তিনি। একই সঙ্গে দেশের জার্সিতে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও বাদের আল-মুতাভার ক্লাবে প্রবেশ করলেন এই ফুটবল জাদুকর।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন ১০ নম্বর জার্সিধারী অধিনায়ক মেসি, যা ডিয়েগো ম্যারাডোনার চার বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরার রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে অফসাইডের কারণে একটি গোল বাতিল হলেও ১৭ মিনিটের মাথায় ২৫ গজ দূর থেকে বক্সের বাইরে এক জাদুকরী বাঁ পায়ের শটে আলজেরিয়ার জাল কাঁপান তিনি।
গোলরক্ষক লুকা জিদান দুহাত বাড়িয়েও সেই বল থামাতে পারেননি। এই গোলের মাধ্যমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য নজির গড়েন ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা। এর আগে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গোল করলেও কেবল ২০১০ আসরে কোনো গোল পাননি তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৬০ মিনিটে নিজেদের অর্ধে থেকে লম্বা বল পাঠান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শট নেন অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টার। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান সহজ বলটি ধরতে গিয়ে হাত ফসকে সামনে ফেলে দিলে সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি মেসি। ঠান্ডা মাথায় বল জালের নিচের কোণে পাঠিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ১৫ গোল করা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে স্পর্শ করেন মেসি।
খেলার ৭৬ মিনিটে আসে সেই ক্ষণ, যখন নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন লিওনেল মেসি। আক্রমণের সূচনা মেসি নিজেই করেছিলেন। বাঁ প্রান্তে থাকা নিকোলাস গঞ্জালেসকে বল দিয়ে দ্রুত বক্সের কিনারায় চলে যান তিনি। গঞ্জালেজের কাছ থেকে ফিরতি বল পেয়ে এক টাচে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে মাটি কামড়ানো নিখুঁত ও জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালের বাঁ দিকের নিচের কোণে। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের ১৬তম গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৭টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি আগেই নিজের করে রাখা মেসির সামনে এখন আরও বড় রেকর্ডের হাতছানি। গ্রুপ পর্বেই ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
এছাড়া বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সমান ৮টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড থাকা মেসি আর একটি গোল করালেই ছাড়িয়ে যাবেন কিংবদন্তি ম্যারাডোনাকে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক হিসেবে এবার ট্রফি ধরে রাখতে পারলে ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়বেন লিওনেল মেসি।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
শিরোপা ধরে রাখার মিশন এবং রেকর্ডবই ওলটপালটের এক অবিশ্বাস্য রূপকথা দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেন লিওনেল মেসি। বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় জয়ে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে শুভসূচনা এনে দিয়েছেন এই মহাতারকা।
মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে সর্বোচ্চ ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েন তিনি। একই সঙ্গে দেশের জার্সিতে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও বাদের আল-মুতাভার ক্লাবে প্রবেশ করলেন এই ফুটবল জাদুকর।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন ১০ নম্বর জার্সিধারী অধিনায়ক মেসি, যা ডিয়েগো ম্যারাডোনার চার বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরার রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে অফসাইডের কারণে একটি গোল বাতিল হলেও ১৭ মিনিটের মাথায় ২৫ গজ দূর থেকে বক্সের বাইরে এক জাদুকরী বাঁ পায়ের শটে আলজেরিয়ার জাল কাঁপান তিনি।
গোলরক্ষক লুকা জিদান দুহাত বাড়িয়েও সেই বল থামাতে পারেননি। এই গোলের মাধ্যমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য নজির গড়েন ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা। এর আগে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গোল করলেও কেবল ২০১০ আসরে কোনো গোল পাননি তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৬০ মিনিটে নিজেদের অর্ধে থেকে লম্বা বল পাঠান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শট নেন অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টার। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান সহজ বলটি ধরতে গিয়ে হাত ফসকে সামনে ফেলে দিলে সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি মেসি। ঠান্ডা মাথায় বল জালের নিচের কোণে পাঠিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ১৫ গোল করা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে স্পর্শ করেন মেসি।
খেলার ৭৬ মিনিটে আসে সেই ক্ষণ, যখন নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন লিওনেল মেসি। আক্রমণের সূচনা মেসি নিজেই করেছিলেন। বাঁ প্রান্তে থাকা নিকোলাস গঞ্জালেসকে বল দিয়ে দ্রুত বক্সের কিনারায় চলে যান তিনি। গঞ্জালেজের কাছ থেকে ফিরতি বল পেয়ে এক টাচে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে মাটি কামড়ানো নিখুঁত ও জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালের বাঁ দিকের নিচের কোণে। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের ১৬তম গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৭টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি আগেই নিজের করে রাখা মেসির সামনে এখন আরও বড় রেকর্ডের হাতছানি। গ্রুপ পর্বেই ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
এছাড়া বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সমান ৮টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড থাকা মেসি আর একটি গোল করালেই ছাড়িয়ে যাবেন কিংবদন্তি ম্যারাডোনাকে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক হিসেবে এবার ট্রফি ধরে রাখতে পারলে ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়বেন লিওনেল মেসি।

আপনার মতামত লিখুন