বরিশাল নগরীর চৌমাথা লেকপাড় এলাকা থেকে ভাসমান হকারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হলেও চৌমাথা বাজারের সামনে মহাসড়ক দখলের মহোৎসব থামছে না। প্রতিদিন বিকেলের পর থেকে মহাসড়কের একাংশ দখল করে অন্তত অর্ধশত হকার ও ব্যবসায়ী বসছেন। এতে সন্ধ্যার পর থেকে নগরের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যা কখনো কখনো নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় সরেজমিন দেখা যায়, চৌমাথা বাজারের সামনে মহাসড়কের একপাশে মাছ, মুরগি, সবজি ও নিত্যপণ্যের অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। সড়কে পণ্য সাজিয়ে রাখায় এবং ক্রেতাদের ভিড়ে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাজীপাড়া থেকে সিঅ্যান্ডবি পুল পর্যন্ত সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টরা।
সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মুনীর হোসেন বলেন, হকাররা আগে লেকপাড়ে বসত। সেখান থেকে উচ্ছেদের পর তারা এখন মূল সড়কের ওপর বসছে। মহাসড়কের পাশেই বড় বাজার থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে হকার উচ্ছেদ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু করেছেন। হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে চৌমাথা লেকপাড়ের হকারদের উচ্ছেদ করা হলেও তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজারের ভেতরে স্থায়ী দোকান থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যবসায়ী লোক ভাড়া করে মহাসড়কের ওপর পণ্য বিক্রি করাচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লেকপাড় থেকে উচ্ছেদ হওয়া কিছু ভাসমান হকার।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও ইজারাদারের যোগসাজশে সড়কের ওপর এই অবৈধ বাণিজ্যের পরিধি বাড়ছে। এমনকি মহাসড়কের একটি অংশ দড়ি টেনে দখল করে নিয়মিত ব্যবসা চালানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের এক স্থায়ী ব্যবসায়ী বলেন, সড়কে বসা ব্যবসায়ীদের কোনো দোকান ভাড়া বা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় না। ফলে তারা কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারেন, যা বাজারের ভেতরের ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে ফেলছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রেজাউল বারী বলেন, বিষয়টি প্রশাসকের নজরে আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় আছেন। ফিরে এলে চৌমাথা এলাকার সড়ক দখল ও যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নগরবাসী মনে করছেন, লেকপাড় দখলমুক্ত হওয়ায় এলাকার সৌন্দর্য বেড়েছে। তবে এই সাফল্য ধরে রাখতে মহাসড়ক দখলমুক্ত করা জরুরি। পরিকল্পিত পুনর্বাসনের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি তাদের।
আপনার মতামত লিখুন