যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আজ আশি হাজার দর্শকের গর্জন। টেক্সাসের তপ্ত সন্ধ্যায় ফুটবলবিশ্বের গতি আর কৌশলের মেলবন্ধন দেখার অপেক্ষায় ভক্তরা।
২০২৬ বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে র্যাঙ্কিংয়ের ৪ নম্বর দল ইংল্যান্ড এবং ১১ নম্বরে থাকা ক্রোয়েশিয়া। খাতা-কলমে এটি কেবলই গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ হলেও ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এই ম্যাচ রূপ নিয়েছে এক ক্লাসিক দ্বৈরথে।
১৯৬৬ সালের পর কখনো বিশ্বকাপ না জেতা ইংল্যান্ড আরও একবার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। টমাস টুখেলের অধীনে বিশ্বকাপ শুরুর অপেক্ষায় থাকা ক্ষিপ্র ‘থ্রি লায়নস’ এবং জ্লাতকো দালিচের অধীনে শেষ পর্যন্ত লড়তে জানা সেই চেনা ক্রোয়েটদের মধ্যে দারুণ এক লড়াই দেখবে বিশ্ব।
ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন কড়া ফরাসি রেফারি ক্লিমেন্ট টার্পিন। রেফারিংয়ে ৫২০ ম্যাচে ১৭৬৩টি হলুদ কার্ড এবং ১০৩টি লাল কার্ড দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে তার নামের পাশে।
সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় দুই দলের রূপরেখা একদম বিপরীত। ইংল্যান্ডের প্রধান শক্তি তাদের মাপা ফুটবল ও ম্যাচের শুরুতে দ্রুত গোল করার প্রবণতা। গত ১০ ম্যাচের ৯টিতেই তারা প্রতিপক্ষের জালে প্রথম বল পাঠিয়েছে। টুখেলের ৪-২-৩-১ ফরমেশনটি প্রয়োজনে দ্রুত রক্ষণাত্মক রূপ নিতে পারে। ঠিক উল্টো চিত্র ক্রোয়েশিয়ার। টানা ৬ ম্যাচে কোনো ক্লিনশিট নেই তাদের। ম্যাচের শুরুতে গোল হজম করা তাদের সাম্প্রতিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ইংল্যান্ডের প্রথমে গোল করার প্রবণতা বনাম ক্রোয়েশিয়ার প্রথমে গোল খাওয়ার দুর্বলতা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বকাপের স্মৃতি হাতড়ালে ক্রোয়েটদের মুখে চওড়া হাসি ফুটবেই। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেই সেমিফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে স্তব্ধ করে ফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া। যদিও ২০২১ ইউরোয় ১-০ গোলের জয়ে ইংলিশরা কিছুটা শোধ তুলেছে। চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন ইংল্যান্ডের টিনো লিভরামেন্টো, তার জায়গায় ডাক পেয়েছেন ট্রেভোহ চালোবাহ।
চমক হতে পারেন ম্যানচেস্টার সিটির তরুণ নিকো ও’রেইলি, যিনি লেফট-ব্যাক হিসেবে আজ মাঠে নামতে পারেন। মাঝমাঠে ডেক্লান রাইসের সঙ্গে দেখা যেতে পারে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে। অন্যদিকে দালিচের ক্রোয়েশিয়ায় চোটের কোনো দুশ্চিন্ত নেই। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তারকা লুকা মদরিচও এখন পুরোপুরি ফিট এবং নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
ইংলিশ দলে বড় তারকার ছড়াছড়ি থাকলেও ম্যাচের মূল একাদশে সুযোগ পাননি আর্সেনাল তারকা বুকায়ো সাকা। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া দলের একাদশে জায়গা পাননি মাতেও কোভাচিচ। তবে অভিজ্ঞ লুকা মদ্রিচকে নিয়েই দল সাজিয়েছেন কোচ। কাগজের কলমে গত কয়েক বছর ধরে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ক্রোয়েশিয়া টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে অপরাজেয় এক শক্তি। নিজেদের শেষ ৮ ম্যাচে মাত্র ১টিতে হেরেছে ইংল্যান্ড এবং ইউয়েফার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৮ ম্যাচ খেলে সব কটিতে জিতেছে তারা, বিপরীতে একটি গোলও হজম করেনি।
ক্রোয়েশিয়া নিজেদের শেষ ৫ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১টিতে জিতলেও বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তারাও কোনো ম্যাচ হারেনি।
ইংল্যান্ড একাদশ: পিকফোর্ড, জেমস, কোনজা, স্টোনস, ও-রাইলি, এন্ডারসন, রাইস, মাদুয়েকে, বেলিংহ্যাম, গর্ডন, কেইন।
ক্রোয়েশিয়া একাদশ: লিভাকোভিচ, সুতালো, ভুসকোভিচ, ভার্ডিওল, স্টানিসিচ, মদ্রিচ, সুকিচ, পেরিসিচ, বাতুরিনা, পাসালিচ, মুসা।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আজ আশি হাজার দর্শকের গর্জন। টেক্সাসের তপ্ত সন্ধ্যায় ফুটবলবিশ্বের গতি আর কৌশলের মেলবন্ধন দেখার অপেক্ষায় ভক্তরা।
২০২৬ বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে র্যাঙ্কিংয়ের ৪ নম্বর দল ইংল্যান্ড এবং ১১ নম্বরে থাকা ক্রোয়েশিয়া। খাতা-কলমে এটি কেবলই গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ হলেও ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এই ম্যাচ রূপ নিয়েছে এক ক্লাসিক দ্বৈরথে।
১৯৬৬ সালের পর কখনো বিশ্বকাপ না জেতা ইংল্যান্ড আরও একবার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। টমাস টুখেলের অধীনে বিশ্বকাপ শুরুর অপেক্ষায় থাকা ক্ষিপ্র ‘থ্রি লায়নস’ এবং জ্লাতকো দালিচের অধীনে শেষ পর্যন্ত লড়তে জানা সেই চেনা ক্রোয়েটদের মধ্যে দারুণ এক লড়াই দেখবে বিশ্ব।
ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন কড়া ফরাসি রেফারি ক্লিমেন্ট টার্পিন। রেফারিংয়ে ৫২০ ম্যাচে ১৭৬৩টি হলুদ কার্ড এবং ১০৩টি লাল কার্ড দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে তার নামের পাশে।
সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় দুই দলের রূপরেখা একদম বিপরীত। ইংল্যান্ডের প্রধান শক্তি তাদের মাপা ফুটবল ও ম্যাচের শুরুতে দ্রুত গোল করার প্রবণতা। গত ১০ ম্যাচের ৯টিতেই তারা প্রতিপক্ষের জালে প্রথম বল পাঠিয়েছে। টুখেলের ৪-২-৩-১ ফরমেশনটি প্রয়োজনে দ্রুত রক্ষণাত্মক রূপ নিতে পারে। ঠিক উল্টো চিত্র ক্রোয়েশিয়ার। টানা ৬ ম্যাচে কোনো ক্লিনশিট নেই তাদের। ম্যাচের শুরুতে গোল হজম করা তাদের সাম্প্রতিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ইংল্যান্ডের প্রথমে গোল করার প্রবণতা বনাম ক্রোয়েশিয়ার প্রথমে গোল খাওয়ার দুর্বলতা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বকাপের স্মৃতি হাতড়ালে ক্রোয়েটদের মুখে চওড়া হাসি ফুটবেই। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেই সেমিফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে স্তব্ধ করে ফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া। যদিও ২০২১ ইউরোয় ১-০ গোলের জয়ে ইংলিশরা কিছুটা শোধ তুলেছে। চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন ইংল্যান্ডের টিনো লিভরামেন্টো, তার জায়গায় ডাক পেয়েছেন ট্রেভোহ চালোবাহ।
চমক হতে পারেন ম্যানচেস্টার সিটির তরুণ নিকো ও’রেইলি, যিনি লেফট-ব্যাক হিসেবে আজ মাঠে নামতে পারেন। মাঝমাঠে ডেক্লান রাইসের সঙ্গে দেখা যেতে পারে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে। অন্যদিকে দালিচের ক্রোয়েশিয়ায় চোটের কোনো দুশ্চিন্ত নেই। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তারকা লুকা মদরিচও এখন পুরোপুরি ফিট এবং নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
ইংলিশ দলে বড় তারকার ছড়াছড়ি থাকলেও ম্যাচের মূল একাদশে সুযোগ পাননি আর্সেনাল তারকা বুকায়ো সাকা। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া দলের একাদশে জায়গা পাননি মাতেও কোভাচিচ। তবে অভিজ্ঞ লুকা মদ্রিচকে নিয়েই দল সাজিয়েছেন কোচ। কাগজের কলমে গত কয়েক বছর ধরে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ক্রোয়েশিয়া টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে অপরাজেয় এক শক্তি। নিজেদের শেষ ৮ ম্যাচে মাত্র ১টিতে হেরেছে ইংল্যান্ড এবং ইউয়েফার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৮ ম্যাচ খেলে সব কটিতে জিতেছে তারা, বিপরীতে একটি গোলও হজম করেনি।
ক্রোয়েশিয়া নিজেদের শেষ ৫ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১টিতে জিতলেও বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তারাও কোনো ম্যাচ হারেনি।
ইংল্যান্ড একাদশ: পিকফোর্ড, জেমস, কোনজা, স্টোনস, ও-রাইলি, এন্ডারসন, রাইস, মাদুয়েকে, বেলিংহ্যাম, গর্ডন, কেইন।
ক্রোয়েশিয়া একাদশ: লিভাকোভিচ, সুতালো, ভুসকোভিচ, ভার্ডিওল, স্টানিসিচ, মদ্রিচ, সুকিচ, পেরিসিচ, বাতুরিনা, পাসালিচ, মুসা।

আপনার মতামত লিখুন