নরসিংদীর শিবপুর, মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার পর এবার পলাশেও লটকন চাষে বিপ্লব ঘটছে। সুস্বাদু ও লাভজনক হওয়ায় এ উপজেলায় লটকন চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। একসময়ের ‘জঙ্গলের ফল’ হিসেবে পরিচিত লটকন এখন এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। গত বছর নরসিংদীর লটকন জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় চাষিদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের লালমাটির এলাকাগুলো এখন লটকনের হলুদ আভায় ছেয়ে গেছে। বিশেষ করে টেঙ্গর, রাবান, বরাবো, কুড়াইতলী ও আতশীপাড়াসহ ৩১টি গ্রামে লটকনের ব্যাপক ফলন হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন শত শত কুইন্টাল লটকন এই এলাকা থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে যাচ্ছে। দেশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বাজারেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি লটকন গুণমানভেদে ৮০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দুই দশক আগেও লটকনের কোনো স্বতন্ত্র বাগান ছিল না। সাধারণত বাড়ির আঙিনায় বা অন্য ফলের বাগানে দু-একটি গাছ লাগানো হতো। তবে চাহিদা ও দাম বাড়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে লটকনের বাগান তৈরি করছেন চাষিরা। জিনারদী এলাকার চাষি সুকুমল ভদ্র জানান, আম ও কাঁঠালের চেয়ে লটকন এখন বেশি লাভজনক। এটি তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
লটকনের বিশেষত্ব হলো, এর ফল ধরে গাছের প্রধান কাণ্ড ও ডালপালায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক পরিচর্যা করলে গাছের গোড়া থেকে মগডাল পর্যন্ত ফলের থোকায় ভরে যায়। তবে এবারের তীব্র খরায় কিছু এলাকায় গুটি ঝরে যাওয়ায় ফলন গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক জীবন মিত্র ও রামকৃষ্ণ রায়।
কৃষি বিভাগ বলছে, নরসিংদীর উঁচু ও লাল মাটি লটকন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ ছাড়া লটকন গাছ ছায়া ও ঝোপঝাড়েও ভালো জন্মায় বলে জমির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। আর্থিক লাভের কারণে প্রতি বছরই নতুন নতুন লটকন বাগান তৈরি হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
/

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
নরসিংদীর শিবপুর, মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার পর এবার পলাশেও লটকন চাষে বিপ্লব ঘটছে। সুস্বাদু ও লাভজনক হওয়ায় এ উপজেলায় লটকন চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। একসময়ের ‘জঙ্গলের ফল’ হিসেবে পরিচিত লটকন এখন এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। গত বছর নরসিংদীর লটকন জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় চাষিদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের লালমাটির এলাকাগুলো এখন লটকনের হলুদ আভায় ছেয়ে গেছে। বিশেষ করে টেঙ্গর, রাবান, বরাবো, কুড়াইতলী ও আতশীপাড়াসহ ৩১টি গ্রামে লটকনের ব্যাপক ফলন হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন শত শত কুইন্টাল লটকন এই এলাকা থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে যাচ্ছে। দেশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বাজারেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি লটকন গুণমানভেদে ৮০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দুই দশক আগেও লটকনের কোনো স্বতন্ত্র বাগান ছিল না। সাধারণত বাড়ির আঙিনায় বা অন্য ফলের বাগানে দু-একটি গাছ লাগানো হতো। তবে চাহিদা ও দাম বাড়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে লটকনের বাগান তৈরি করছেন চাষিরা। জিনারদী এলাকার চাষি সুকুমল ভদ্র জানান, আম ও কাঁঠালের চেয়ে লটকন এখন বেশি লাভজনক। এটি তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
লটকনের বিশেষত্ব হলো, এর ফল ধরে গাছের প্রধান কাণ্ড ও ডালপালায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক পরিচর্যা করলে গাছের গোড়া থেকে মগডাল পর্যন্ত ফলের থোকায় ভরে যায়। তবে এবারের তীব্র খরায় কিছু এলাকায় গুটি ঝরে যাওয়ায় ফলন গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক জীবন মিত্র ও রামকৃষ্ণ রায়।
কৃষি বিভাগ বলছে, নরসিংদীর উঁচু ও লাল মাটি লটকন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ ছাড়া লটকন গাছ ছায়া ও ঝোপঝাড়েও ভালো জন্মায় বলে জমির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। আর্থিক লাভের কারণে প্রতি বছরই নতুন নতুন লটকন বাগান তৈরি হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
/

আপনার মতামত লিখুন