কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বরিশালে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নাশকতার আশঙ্কায় গত আট দিন ধরে চলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বরিশাল মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীসহ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা যায়, আগামীকাল ২৩ জুন মঙ্গলবার দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে প্রবাসে থাকা শীর্ষ নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তারা দেশের অভ্যন্তরে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নগরীতে মাস্ক পরে ঝটিকা মিছিল ও বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে গত আট দিনে বরিশালে অন্তত ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সর্বশেষ শুক্রবার রাতে বরিশাল মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী মেরিনা এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১৯ জুন রাতে সাবেক কাউন্সিলর ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদীনসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানে আরও গ্রেপ্তার হয়েছেন ১২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম, চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন রাড়ী ও তার ভাই হাসান খন্দকারসহ বেশ কয়েকজন।
এদিকে শনিবার (২০ জুন) দুপুরে নগরীর কাউনিয়া এলাকা থেকে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক প্যানেল মেয়র ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে খোকনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কাউনিয়া থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারী জানান, কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা দুটি রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপনে ঝটিকা মিছিল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। অভিযানে গত রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত আরও ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ সংগঠন। তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। কঠোরভাবে তা দমন করা হবে।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অরাজকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন