শুরুতে পেনাল্টি মিসের হতাশা কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো দলকে। তবে যিনি ভুল করেছিলেন, সেই লিওনেল মেসিই পরে পায়ের জাদুতে করলেন অবিশ্বাস্য জোড়া গোল। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হাই ইনটেনসিটির ম্যাচে ২-০ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
এই টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল লিওনেল স্কালোনির দল। এই জয়ের পর ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘জি’-র শীর্ষস্থান মজবুত করল আর্জেন্টিনা, যেখানে সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে অস্ট্রিয়া।
বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচে ইউরোপের দল অস্ট্রিয়া তাদের চেনা ‘গেগেনপ্রেসিং’ আর শারীরিক শক্তি দিয়ে প্রথমার্ধেই বড় পরীক্ষা নেয় আর্জেন্টিনার। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক আলবিসেলেস্তেরা ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করে। বক্সের ভেতর লাউতারো মার্টিনেজকে অস্ট্রিয়ার জাভিয়ের স্লাগার ও স্টেফান পচস একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ করলে রেফারি ভিএআর মনিটর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
নবম মিনিটে স্পট কিক নিতে আসেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে তাঁর নেওয়া শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে চলে যায়। বিশ্বকাপে এটি মেসির সবচেয়ে হতাশাজনক পেনাল্টি মিসগুলোর একটি, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ তিনটি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড গড়েন তিনি। এর আগে বিশ্বকাপে তাঁর দুটি পেনাল্টি গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও এবারই প্রথম শট লক্ষ্যের বাইরে মারলেন তিনি।
পেনাল্টি হাতছাড়ার পর ১৯ মিনিটে আরও একটি সুযোগ পান মেসি, তবে মার্টিনেজের ক্রস থেকে নেওয়া তাঁর শটটি অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার রুখে দেন। অবশেষে ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। মাঠের বাম দিক থেকে থিয়াগো আলমাদা বল বাড়িয়ে দেন ফাকুন্দো মেদিনার দিকে। মেদিনার নিছু ক্রসটি বক্সে আসতেই আলমাদা ডামি করেন এবং সেখানে ছুটে আসা মেসি প্রথম ছোঁয়াতেই দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন।
এই গোলের মাধ্যমে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে (১৬ গোল) পেছনে ফেলে ১৭ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন মেসি। প্রথমার্ধের পুরোটা সময় মেসির প্রতিটি বল স্পর্শ গ্যালারিতে উন্মাদনা ছড়ায়, এমনকি বিরতির ঠিক আগে নিজের অর্ধে বল পাস দেওয়ার পরও দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় দল।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা কিছুটা নিষ্প্রভ থাকলেও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আবারও জ্বলে ওঠেন জাদুকর। খেলার একদম শেষ সময়ে অবিশ্বাস্য এক গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন মেসি।
চলতি বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ মিলিয়ে মেসির গোলসংখ্যা এখন ৫, যা সর্বোচ্চ। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (১৭টি) জেতার রেকর্ডেও ক্লোসেকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি। সেই সঙ্গে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জেয়ার্জিনহোর পর ইতিহাসের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিতে ভাগ বসালেন এলএমটেন।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
শুরুতে পেনাল্টি মিসের হতাশা কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো দলকে। তবে যিনি ভুল করেছিলেন, সেই লিওনেল মেসিই পরে পায়ের জাদুতে করলেন অবিশ্বাস্য জোড়া গোল। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হাই ইনটেনসিটির ম্যাচে ২-০ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
এই টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল লিওনেল স্কালোনির দল। এই জয়ের পর ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘জি’-র শীর্ষস্থান মজবুত করল আর্জেন্টিনা, যেখানে সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে অস্ট্রিয়া।
বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচে ইউরোপের দল অস্ট্রিয়া তাদের চেনা ‘গেগেনপ্রেসিং’ আর শারীরিক শক্তি দিয়ে প্রথমার্ধেই বড় পরীক্ষা নেয় আর্জেন্টিনার। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক আলবিসেলেস্তেরা ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করে। বক্সের ভেতর লাউতারো মার্টিনেজকে অস্ট্রিয়ার জাভিয়ের স্লাগার ও স্টেফান পচস একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ করলে রেফারি ভিএআর মনিটর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
নবম মিনিটে স্পট কিক নিতে আসেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে তাঁর নেওয়া শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে চলে যায়। বিশ্বকাপে এটি মেসির সবচেয়ে হতাশাজনক পেনাল্টি মিসগুলোর একটি, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ তিনটি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড গড়েন তিনি। এর আগে বিশ্বকাপে তাঁর দুটি পেনাল্টি গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও এবারই প্রথম শট লক্ষ্যের বাইরে মারলেন তিনি।
পেনাল্টি হাতছাড়ার পর ১৯ মিনিটে আরও একটি সুযোগ পান মেসি, তবে মার্টিনেজের ক্রস থেকে নেওয়া তাঁর শটটি অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার রুখে দেন। অবশেষে ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। মাঠের বাম দিক থেকে থিয়াগো আলমাদা বল বাড়িয়ে দেন ফাকুন্দো মেদিনার দিকে। মেদিনার নিছু ক্রসটি বক্সে আসতেই আলমাদা ডামি করেন এবং সেখানে ছুটে আসা মেসি প্রথম ছোঁয়াতেই দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন।
এই গোলের মাধ্যমে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে (১৬ গোল) পেছনে ফেলে ১৭ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন মেসি। প্রথমার্ধের পুরোটা সময় মেসির প্রতিটি বল স্পর্শ গ্যালারিতে উন্মাদনা ছড়ায়, এমনকি বিরতির ঠিক আগে নিজের অর্ধে বল পাস দেওয়ার পরও দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় দল।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা কিছুটা নিষ্প্রভ থাকলেও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আবারও জ্বলে ওঠেন জাদুকর। খেলার একদম শেষ সময়ে অবিশ্বাস্য এক গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন মেসি।
চলতি বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ মিলিয়ে মেসির গোলসংখ্যা এখন ৫, যা সর্বোচ্চ। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (১৭টি) জেতার রেকর্ডেও ক্লোসেকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি। সেই সঙ্গে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জেয়ার্জিনহোর পর ইতিহাসের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিতে ভাগ বসালেন এলএমটেন।

আপনার মতামত লিখুন