সংবাদ

গণপরিসর নামকরণে ব্যক্তিবাদী শখ এবং গণতন্ত্রের সংস্কৃতি


কাজল কানন
কাজল কানন
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১২ এএম

গণপরিসর নামকরণে ব্যক্তিবাদী শখ এবং গণতন্ত্রের সংস্কৃতি
বগুড়ার নবগঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের একটির নাম রাখা হয়েছিল ‘মীরবাড়ী’

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার সবসময় বড় কোনো দুর্নীতি, অর্থলুট বা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই দৃশ্যমান হয় না। এতে আরও কিছু বিষয়ও রয়েছে। অনেক সময় সেগুলো প্রকাশ পায় আপাতদৃষ্টিতে ছোট, কিন্তু প্রতীকীভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো কোনো ঘটনায়। বগুড়ার নবগঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক তেমনই একটি ইঙ্গিত। এটি কেবল তিনটি ইউনিয়নের নাম নিয়ে বিতর্ক নয়; বরং রাষ্ট্র, ক্ষমতা, গণপ্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাদের রাজনৈতিক মানসিকতার স্বরূপ তুলে ধরে। 

ঘটনার বিবরণ এখন সবার জানা। নবগঠিত ইউনিয়নগুলোর নাম রাখা হয়েছিল ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’। পরে অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম মীরবাড়ী এবং তার দুই ছেলের নাম সীমান্ত ও দিগন্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও ওঠে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন এবং নতুন করে গণশুনানির উদ্যোগ নেয়া হয়। 

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, আদৌ কি এসব নাম কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশে রাখা হয়েছিল? এর উত্তর হয়তো কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই জানেন। কিন্তু গণতন্ত্রে আরও বড় প্রশ্ন হলো- সাধারণ নাগরিকরা বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

যখন কোনো প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় তার পৈতৃক বাড়ির নামে একটি ইউনিয়ন এবং তার দুই সন্তানের নামের সঙ্গে হুবহু মিল থাকা আরও দুটি ইউনিয়নের নামকরণ হয়, তখন জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ গণতন্ত্রে শুধু অন্যায় না করাই যথেষ্ট নয়; এমন পরিস্থিতিও এড়িয়ে চলতে হয়, যা অন্যায়ের ধারণা সৃষ্টি করে। এতে স্বার্থসংঘাতের পবণতা দৃশ্যমান হয়। গণআস্থার জন্য এটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রতিমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, এটি কাকতালীয়ভাবে ঘটেছে। তিনি রসিকতার সুরে সীমান্ত ব্যাংক, সীমান্ত এক্সপ্রেস কিংবা দিগন্ত টাওয়ারের উদাহরণও দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু সেখানে নয়। সীমান্ত বা দিগন্ত শব্দ দুটি বাংলা ভাষার সাধারণ শব্দ হতে পারে; কিন্তু যখন একই সঙ্গে একজন মন্ত্রীর দুই সন্তানের নাম, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং তার নির্বাচনী এলাকার নতুন প্রশাসনিক ইউনিটের নাম এক হয়ে যায়, তখন প্রশ্ন উঠবেই। সেই প্রশ্নকে কৌতুক দিয়ে উড়িয়ে দেয়া যায় না। 

বরং এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি পুরনো রোগের দিকে আঙুল তোলে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ, গণপ্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরকে ব্যক্তিগত প্রভাবের প্রদর্শনক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে অহরহ। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনদেও নামে সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এমনকি প্রশাসনিক স্থাপনার নামকরণ হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা যেন ধীরে ধীরে রাষ্ট্রকে নিজের প্রতিচ্ছবিতে রূপান্তর করার একটি উপায় হয়ে উঠেছে। এতে গণতন্ত্রায়ন সঙ্কুচিত হয়। 

ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে- আমরা কি সেই সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে পেরেছি?

সংসদে এই বিষয়ে যে আপত্তি উঠেছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। কারণ আপত্তিকারীরা মূলত স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যে সংস্কৃতিকে অতীতে ‘ব্যক্তিপূজা’ বা ‘ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক চর্চা’ বলে সমালোচনা করা হয়েছে, ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই একই প্রবণতা ফিরে এলে জনগণের হতাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। 

আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির নামে ইউনিয়নের নামকরণ করা যাবে না। আইন হয়তো সরাসরি লঙ্ঘিত হয়নি; কিন্তু আইনের ভাষাকে পাশ কাটিয়ে আইনের চেতনাকে দুর্বল করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক শাসনের মূল শক্তি শুধু আইনের অক্ষরে নয়, তার নৈতিক উদ্দেশেও নিহিত। 

এই ঘটনার আরেকটি শিক্ষণীয় দিক হলো প্রশাসনিক জবাবদিহি। যদি সত্যিই গণশুনানির মাধ্যমে এসব নাম নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ছিল? কারা অংশ নিয়েছিলেন? কী কী বিকল্প নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল? প্রশাসন কি সম্ভাব্য বিতর্ক সম্পর্কে সচেতন ছিল না? নাকি ক্ষমতার নৈকট্য প্রশাসনিক বিচক্ষণতাকে দুর্বল কওে দিয়েছে?

সবশেষে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। অনেকেই এটিকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। নিঃসন্দেহে বিতর্কিত নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ স্বাগতযোগ্য। কিন্তু একটি সুস্থ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় প্রশ্ন হওয়া উচিত-এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো কেন? প্রতিটি বিতর্ক কি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সমাধান হবে? তাহলে স্থানীয় সরকার, জেলা প্রশাসন, মন্ত্রণালয় এবং গণশুনানির প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা কোথায়?

গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি কোনো নেতার সদিচ্ছায় নয়; বরং এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায়, যেখানে ব্যক্তির চেয়ে নীতি বড়, ক্ষমতার চেয়ে প্রক্রিয়া শক্তিশালী, আর আনুগত্যের চেয়ে জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ। 

গণপ্রতিষ্ঠান জনগণের। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, সড়ক, বিদ্যালয় কিংবা রাষ্ট্রীয় স্থাপনা কোনো রাজনৈতিক নেতা বা তার পরিবারের স্মারক নয়। এগুলো একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি ও সম্মিলিত পরিচয়ের বাহক। তাই গণপরিসরের নামকরণও হতে হবে সেই সামষ্টিক চেতনার প্রতিফলন। 

বগুড়ার এই ঘটনা হয়তো কয়েকদিনের মধ্যেই সংবাদ শিরোনাম থেকে হারিয়ে যাবে। কিন্তু এটি আমাদের সামনে একটি স্থায়ী প্রশ্ন রেখে গেছে-আমরা কি সত্যিই ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছি, নাকি কেবল ব্যক্তির নাম বদলাচ্ছি, অথচ সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটছে না?

এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র কতটা পরিণত, আর রাষ্ট্র কতটা জনগণের। 

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: কবি ও সংবাদকর্মী]


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


গণপরিসর নামকরণে ব্যক্তিবাদী শখ এবং গণতন্ত্রের সংস্কৃতি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার সবসময় বড় কোনো দুর্নীতি, অর্থলুট বা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই দৃশ্যমান হয় না। এতে আরও কিছু বিষয়ও রয়েছে। অনেক সময় সেগুলো প্রকাশ পায় আপাতদৃষ্টিতে ছোট, কিন্তু প্রতীকীভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো কোনো ঘটনায়। বগুড়ার নবগঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক তেমনই একটি ইঙ্গিত। এটি কেবল তিনটি ইউনিয়নের নাম নিয়ে বিতর্ক নয়; বরং রাষ্ট্র, ক্ষমতা, গণপ্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাদের রাজনৈতিক মানসিকতার স্বরূপ তুলে ধরে। 

ঘটনার বিবরণ এখন সবার জানা। নবগঠিত ইউনিয়নগুলোর নাম রাখা হয়েছিল ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’। পরে অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম মীরবাড়ী এবং তার দুই ছেলের নাম সীমান্ত ও দিগন্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও ওঠে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন এবং নতুন করে গণশুনানির উদ্যোগ নেয়া হয়। 

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, আদৌ কি এসব নাম কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশে রাখা হয়েছিল? এর উত্তর হয়তো কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই জানেন। কিন্তু গণতন্ত্রে আরও বড় প্রশ্ন হলো- সাধারণ নাগরিকরা বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

যখন কোনো প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় তার পৈতৃক বাড়ির নামে একটি ইউনিয়ন এবং তার দুই সন্তানের নামের সঙ্গে হুবহু মিল থাকা আরও দুটি ইউনিয়নের নামকরণ হয়, তখন জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ গণতন্ত্রে শুধু অন্যায় না করাই যথেষ্ট নয়; এমন পরিস্থিতিও এড়িয়ে চলতে হয়, যা অন্যায়ের ধারণা সৃষ্টি করে। এতে স্বার্থসংঘাতের পবণতা দৃশ্যমান হয়। গণআস্থার জন্য এটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রতিমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, এটি কাকতালীয়ভাবে ঘটেছে। তিনি রসিকতার সুরে সীমান্ত ব্যাংক, সীমান্ত এক্সপ্রেস কিংবা দিগন্ত টাওয়ারের উদাহরণও দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু সেখানে নয়। সীমান্ত বা দিগন্ত শব্দ দুটি বাংলা ভাষার সাধারণ শব্দ হতে পারে; কিন্তু যখন একই সঙ্গে একজন মন্ত্রীর দুই সন্তানের নাম, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং তার নির্বাচনী এলাকার নতুন প্রশাসনিক ইউনিটের নাম এক হয়ে যায়, তখন প্রশ্ন উঠবেই। সেই প্রশ্নকে কৌতুক দিয়ে উড়িয়ে দেয়া যায় না। 

বরং এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি পুরনো রোগের দিকে আঙুল তোলে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ, গণপ্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরকে ব্যক্তিগত প্রভাবের প্রদর্শনক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে অহরহ। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনদেও নামে সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এমনকি প্রশাসনিক স্থাপনার নামকরণ হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা যেন ধীরে ধীরে রাষ্ট্রকে নিজের প্রতিচ্ছবিতে রূপান্তর করার একটি উপায় হয়ে উঠেছে। এতে গণতন্ত্রায়ন সঙ্কুচিত হয়। 

ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে- আমরা কি সেই সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে পেরেছি?

সংসদে এই বিষয়ে যে আপত্তি উঠেছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। কারণ আপত্তিকারীরা মূলত স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যে সংস্কৃতিকে অতীতে ‘ব্যক্তিপূজা’ বা ‘ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক চর্চা’ বলে সমালোচনা করা হয়েছে, ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই একই প্রবণতা ফিরে এলে জনগণের হতাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। 

আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির নামে ইউনিয়নের নামকরণ করা যাবে না। আইন হয়তো সরাসরি লঙ্ঘিত হয়নি; কিন্তু আইনের ভাষাকে পাশ কাটিয়ে আইনের চেতনাকে দুর্বল করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক শাসনের মূল শক্তি শুধু আইনের অক্ষরে নয়, তার নৈতিক উদ্দেশেও নিহিত। 

এই ঘটনার আরেকটি শিক্ষণীয় দিক হলো প্রশাসনিক জবাবদিহি। যদি সত্যিই গণশুনানির মাধ্যমে এসব নাম নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ছিল? কারা অংশ নিয়েছিলেন? কী কী বিকল্প নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল? প্রশাসন কি সম্ভাব্য বিতর্ক সম্পর্কে সচেতন ছিল না? নাকি ক্ষমতার নৈকট্য প্রশাসনিক বিচক্ষণতাকে দুর্বল কওে দিয়েছে?

সবশেষে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। অনেকেই এটিকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। নিঃসন্দেহে বিতর্কিত নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ স্বাগতযোগ্য। কিন্তু একটি সুস্থ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় প্রশ্ন হওয়া উচিত-এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো কেন? প্রতিটি বিতর্ক কি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সমাধান হবে? তাহলে স্থানীয় সরকার, জেলা প্রশাসন, মন্ত্রণালয় এবং গণশুনানির প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা কোথায়?

গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি কোনো নেতার সদিচ্ছায় নয়; বরং এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায়, যেখানে ব্যক্তির চেয়ে নীতি বড়, ক্ষমতার চেয়ে প্রক্রিয়া শক্তিশালী, আর আনুগত্যের চেয়ে জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ। 

গণপ্রতিষ্ঠান জনগণের। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, সড়ক, বিদ্যালয় কিংবা রাষ্ট্রীয় স্থাপনা কোনো রাজনৈতিক নেতা বা তার পরিবারের স্মারক নয়। এগুলো একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি ও সম্মিলিত পরিচয়ের বাহক। তাই গণপরিসরের নামকরণও হতে হবে সেই সামষ্টিক চেতনার প্রতিফলন। 

বগুড়ার এই ঘটনা হয়তো কয়েকদিনের মধ্যেই সংবাদ শিরোনাম থেকে হারিয়ে যাবে। কিন্তু এটি আমাদের সামনে একটি স্থায়ী প্রশ্ন রেখে গেছে-আমরা কি সত্যিই ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছি, নাকি কেবল ব্যক্তির নাম বদলাচ্ছি, অথচ সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটছে না?

এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র কতটা পরিণত, আর রাষ্ট্র কতটা জনগণের। 

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: কবি ও সংবাদকর্মী]



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত