সংবাদ

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নগরবাসীর দুর্ভোগ


প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নগরবাসীর দুর্ভোগ

ঢাকা শহরের রাস্তাগুলোতে বারবার খোঁড়াখুঁড়ি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নতুন রাস্তা নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ কিংবা ইন্টারনেট লাইন বসানোর নামে সেই রাস্তা কাটা শুরু হয়। এতে শুধু যানজট বাড়ছে না, নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনও চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। একটি রাস্তা খোঁড়ার পর মাসের পর মাস কাজ অসমাপ্ত রেখে মাটি ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে এবং যাতায়াতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এই খোঁড়াখুঁড়ি একক কোনো সংস্থার কাজ নয়। এক সংস্থা কাজ শেষ করতে না করতেই আরেক সংস্থা এসে আবার রাস্তা কাটছে। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের স্থায়িত্ব নষ্ট হচ্ছে।

সমস্যার মূল কারণ হলো সমš^য়ের অভাব। শহরের নিচে পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার অবকাঠামো রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পগুলো পরিকল্পিতভাবে সমš^য় করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। ফলে একই রাস্তা বারবার খুঁড়তে হচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, দূরদর্শী ও সমন্বিত পরিকল্পনা থাকলে এই পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব ছিল।

উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু উন্নয়ন যদি নাগরিকদের জীবনকে জিম্মি করে চলে, তাহলে তার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে বাস্তবে কঠোর সমন্বয় ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা ওয়াসা, দুই সিটি করপোরেশন এবং অন্য সেবা সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। খননকৃত মাটি দ্রুত অপসারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সময়সীমা মেনে চলার বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নাগরিকদের করের টাকা এবং সময়ের মূল্য বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়নই হওয়া উচিত সরকারি সংস্থাগুলোর লক্ষ্য।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬


রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নগরবাসীর দুর্ভোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

ঢাকা শহরের রাস্তাগুলোতে বারবার খোঁড়াখুঁড়ি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নতুন রাস্তা নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ কিংবা ইন্টারনেট লাইন বসানোর নামে সেই রাস্তা কাটা শুরু হয়। এতে শুধু যানজট বাড়ছে না, নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনও চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। একটি রাস্তা খোঁড়ার পর মাসের পর মাস কাজ অসমাপ্ত রেখে মাটি ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে এবং যাতায়াতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এই খোঁড়াখুঁড়ি একক কোনো সংস্থার কাজ নয়। এক সংস্থা কাজ শেষ করতে না করতেই আরেক সংস্থা এসে আবার রাস্তা কাটছে। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের স্থায়িত্ব নষ্ট হচ্ছে।

সমস্যার মূল কারণ হলো সমš^য়ের অভাব। শহরের নিচে পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার অবকাঠামো রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পগুলো পরিকল্পিতভাবে সমš^য় করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। ফলে একই রাস্তা বারবার খুঁড়তে হচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, দূরদর্শী ও সমন্বিত পরিকল্পনা থাকলে এই পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব ছিল।

উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু উন্নয়ন যদি নাগরিকদের জীবনকে জিম্মি করে চলে, তাহলে তার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে বাস্তবে কঠোর সমন্বয় ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা ওয়াসা, দুই সিটি করপোরেশন এবং অন্য সেবা সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। খননকৃত মাটি দ্রুত অপসারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সময়সীমা মেনে চলার বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নাগরিকদের করের টাকা এবং সময়ের মূল্য বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়নই হওয়া উচিত সরকারি সংস্থাগুলোর লক্ষ্য।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত