সংবাদ

কার্নিশে তরুণকে গুলি

এএসআই চঞ্চলের গ্রেপ্তারের তারিখে গরমিল


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

এএসআই চঞ্চলের গ্রেপ্তারের তারিখে গরমিল
ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং অন্য দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে রোববার। 

তবে রায় ঘোষণার ঠিক আগে আলোচিত এ মামলার আসামি এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের গ্রেপ্তারের তারিখ নিয়ে নথিপত্রে গরমিলের অভিযোগ সামনে এসেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সৈয়দ আব্দুর রউফের জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গত ২৮ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, “চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে গত ২৮-০১-২০২৫ তারিখ গ্রেপ্তার করা হয়।”

অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েলের সই করা এক অফিস আদেশে চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তারের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি।

গত ৩০ জানুয়ারি জারি করা ওই আদেশে বলা হয়, “ডিএমপি ঢাকার সাবেক, বর্তমানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা থানায় কর্মরত এসআই (নিরস্ত্র) চঞ্চল চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউটর (সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) জনাব তানভীর হাসান জোহা সশরীরে দীঘিনালা থানায় হাজির হয়ে ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ রাত ৯টা ৩০ ঘটিকায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ পাহারায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকায় প্রেরণ করেন।”

ওই নোটিশে আরও বলা হয়, “এমতাবস্থায়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(২) ধারা এবং বিএসআর পার্ট-১ এর বিধি ৭৩ মোতাবেক এসআই (নিরস্ত্র) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তারের তারিখ অর্থাৎ ২৬.০১.২০২৫ খ্রি. অপরাহ্ন হতে ভূতাপেক্ষভাবে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।”

‘সাময়িক বরখাস্তকালীন সময় বিধি মোতাবেক তিনি খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং তিনি জামিনে মুত্তিলাভ করে কর্মস্থলে হাজির হলে পুলিশ লাইন্স খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সংযুক্ত থেকে নিয়মিত রোলকলে হাজিরা দিবেন’ বলেও অফিস নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নথিপত্রের এই গরমিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আরশাদুল হক বাবু। তিনি জানান, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপারের অফিস আদেশ অনুযায়ী তার মক্কেলকে ২৬ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় দীঘিনালা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই আইনজীবী বলেন, “আসামিকে ২৬ তারিখ রাতে গ্রেপ্তার করা হলেও আইও জবানবন্দিতে বলেছেন ২৮ তারিখ। তথ্যের এই গরমিলের কারণে আমরা ট্রাইব্যুনালে ২৪ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চঞ্চলের ডিউটি রোস্টার, অ্যারেস্ট অর্ডার এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য নথিপত্র চেয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল আমাদের আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।”

গ্রেপ্তারের তারিখের এই ব্যবধানের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকার দূরত্বের বিষয়টি সামনে আনেন।

তিনি বলেন, “খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে আসতে তো একদিন সময় লাগেই। এজন্যই হয়তো তদন্ত কর্মকর্তা ২৮ জানুয়ারি উল্লেখ করেছেন।”

এ মামলার অভিযুক্ত পাঁচ আসামির মধ্যে কেবল রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারই গ্রেপ্তার আছেন।

বাকি চার আসামি বর্তমানে পলাতক। তারা হলেন— ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। প্রসিকিউশন তখন ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য তুলে ধরে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণের কথা জানিয়ে সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে।

সে অনুযায়ী গত ৪ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রসিকিউশন পক্ষ নতুন করে ‘ডিজিটাল এভিডেন্স’ (ভিডিও ফুটেজ) জমা দেওয়ার আবেদন করলে রায়ের দিন পিছিয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


এএসআই চঞ্চলের গ্রেপ্তারের তারিখে গরমিল

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং অন্য দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে রোববার। 

তবে রায় ঘোষণার ঠিক আগে আলোচিত এ মামলার আসামি এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের গ্রেপ্তারের তারিখ নিয়ে নথিপত্রে গরমিলের অভিযোগ সামনে এসেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সৈয়দ আব্দুর রউফের জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গত ২৮ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, “চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে গত ২৮-০১-২০২৫ তারিখ গ্রেপ্তার করা হয়।”

অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েলের সই করা এক অফিস আদেশে চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তারের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি।

গত ৩০ জানুয়ারি জারি করা ওই আদেশে বলা হয়, “ডিএমপি ঢাকার সাবেক, বর্তমানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা থানায় কর্মরত এসআই (নিরস্ত্র) চঞ্চল চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউটর (সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) জনাব তানভীর হাসান জোহা সশরীরে দীঘিনালা থানায় হাজির হয়ে ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ রাত ৯টা ৩০ ঘটিকায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ পাহারায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকায় প্রেরণ করেন।”

ওই নোটিশে আরও বলা হয়, “এমতাবস্থায়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(২) ধারা এবং বিএসআর পার্ট-১ এর বিধি ৭৩ মোতাবেক এসআই (নিরস্ত্র) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তারের তারিখ অর্থাৎ ২৬.০১.২০২৫ খ্রি. অপরাহ্ন হতে ভূতাপেক্ষভাবে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।”

‘সাময়িক বরখাস্তকালীন সময় বিধি মোতাবেক তিনি খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং তিনি জামিনে মুত্তিলাভ করে কর্মস্থলে হাজির হলে পুলিশ লাইন্স খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সংযুক্ত থেকে নিয়মিত রোলকলে হাজিরা দিবেন’ বলেও অফিস নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নথিপত্রের এই গরমিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আরশাদুল হক বাবু। তিনি জানান, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপারের অফিস আদেশ অনুযায়ী তার মক্কেলকে ২৬ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় দীঘিনালা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই আইনজীবী বলেন, “আসামিকে ২৬ তারিখ রাতে গ্রেপ্তার করা হলেও আইও জবানবন্দিতে বলেছেন ২৮ তারিখ। তথ্যের এই গরমিলের কারণে আমরা ট্রাইব্যুনালে ২৪ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চঞ্চলের ডিউটি রোস্টার, অ্যারেস্ট অর্ডার এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য নথিপত্র চেয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল আমাদের আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।”

গ্রেপ্তারের তারিখের এই ব্যবধানের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকার দূরত্বের বিষয়টি সামনে আনেন।

তিনি বলেন, “খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে আসতে তো একদিন সময় লাগেই। এজন্যই হয়তো তদন্ত কর্মকর্তা ২৮ জানুয়ারি উল্লেখ করেছেন।”

এ মামলার অভিযুক্ত পাঁচ আসামির মধ্যে কেবল রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারই গ্রেপ্তার আছেন।

বাকি চার আসামি বর্তমানে পলাতক। তারা হলেন— ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। প্রসিকিউশন তখন ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য তুলে ধরে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণের কথা জানিয়ে সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে।

সে অনুযায়ী গত ৪ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রসিকিউশন পক্ষ নতুন করে ‘ডিজিটাল এভিডেন্স’ (ভিডিও ফুটেজ) জমা দেওয়ার আবেদন করলে রায়ের দিন পিছিয়ে যায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত