সংবাদ

ইংল্যান্ডের অহংকার বনাম কঙ্গোর স্বপ্ন


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

ইংল্যান্ডের অহংকার বনাম কঙ্গোর স্বপ্ন

কাগজে-কলমে লড়াইটা এক অসম যুদ্ধ। একদিকে ফুটবল সংস্কৃতির বরপুত্র হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহামদের ইংল্যান্ড; অন্যদিকে আফ্রিকার বুক চিরে আসা এক লড়াকু যোদ্ধা, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো বা ডিআর কঙ্গো। ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বুধবার আটলান্টায় মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল।

আপাতদৃষ্টিতে থমাস টুখেলের শিষ্যদের জন্য ম্যাচটা সহজ মনে হলেও, ইতিহাস ও ফুটবলীয় বাস্তবতার সমীকরণ বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক মরণপণ চ্যালেঞ্জ। নকআউট পর্বের একটি ভুল, একটি পাল্টা আক্রমণ চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে পারে ফুটবল পরাশক্তিদের অহংকার।

ম্যাচের আগে নিজের ফেবারিট তকমাকে যেমন মেনে নিয়েছেন থমাস টুখেল, তেমনি প্রতিপক্ষের শক্তিকে বিন্দুমাত্র হালকাভাবে নিচ্ছেন না এই মাস্টারমাইন্ড। ডিআর কঙ্গোর লড়াকু মানসিকতা ও শারীরিক ফুটবলকে বেশ সমীহ করছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নিজের রণপরিকল্পনা ও চিন্তার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ইংলিশ কোচ।

থমাস টুখেল বলেন, "আমি ঘানা ও পানামার বিপক্ষে ম্যাচগুলোর মতোই একটি ম্যাচ প্রত্যাশা করছি। তারা খুবই শারীরিক শক্তিনির্ভর দল। আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, আর সেটাই তাদের জন্য কার্যকর। আমাদের এসব মেনে নিতে হবে এবং এগুলো কীভাবে আমাদের খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি।"

চাপের মুখে দাঁড়িয়েও আত্মবিশ্বাসী টুখেল আরও যোগ করেন, "আমি এমন পরিস্থিতি উপভোগ করি। এখানে থাকা আমাদের জন্য একটি বিশেষ সৌভাগ্য। আমাদের মেনে নিতে হবে যে আমরা ফেবারিট এবং সবাই আমাদের পরের রাউন্ডে ওঠার প্রত্যাশা করছে। বাস্তবতা এটাই। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। এখন শুধু নিজেদের সেরাটা মাঠে দেখাতে হবে।"

পর্তুগালের সাথে ড্র, কলম্বিয়ার কাছে হার আর উজবেকিস্তানকে হারিয়ে নকআউট পর্বের টিকিট কাটা ডিআর কঙ্গো যেন এক ফিনিক্স পাখি। কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রের অধীনে দলটি রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে এক অদ্ভুত রসায়ন তৈরি করেছে। সাধারণত ৫-৩-২ ফরমেশনে খেলা দলটি বলের দখল প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দিয়ে নিজেদের সীমানায় দেয়াল তুলে বসে থাকে। আর ঠিক এই জায়গাতেই ইংল্যান্ডের দুর্বলতা।

থ্রি লায়নসরা সাধারণত হাই-লাইন ডিফেন্সে খেলে, যা কঙ্গোর দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণের জন্য আদর্শ সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইয়োয়ান উইসার গতি আর নোয়া সাদিকির মাঝমাঠের ক্লান্তিহীন পরিশ্রম টুখেলের রক্ষণের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

প্রতিপক্ষের এই ছক নিয়ে বেশ সচেতন টুখেল। তিনি বলেন, "এটি কঠিন একটি ম্যাচ হবে। তারা খুব ভালোভাবে প্রশিক্ষিত একটি দল। সম্ভবত ৫-৩-২ ফরমেশনে খেলবে। রক্ষণে তারা খুবই সংগঠিত থাকে এবং কখনও উঁচুতে প্রেসিং করে, আবার কখনও নিচু ব্লকে রক্ষণ সামলায়। পাল্টা আক্রমণে তারা খুবই বিপজ্জনক। এছাড়া লম্বা পাস খেলতে তারা ভয় পায় না এবং দ্বিতীয় বল জেতার চেষ্টা করে।"

চলতি টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের মূল ভরসা হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। কেইনের তিন গোল আর বেলিংহামের দুই গোলই মূলত ইংলিশদের এতদূর টেনে এনেছে। তবে এই অতি-নির্ভরতা কি কঙ্গোর বিপক্ষে কাল হবে? টুখেল অবশ্য তা মনে করেন না।

তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, "আদর্শভাবে সেটাই ভালো হতো, তবে ওরা দুজন যদি এভাবেই দলের মূল ভরসা হয়ে থাকে, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। আপনি সবসময় আপনার সেরা খেলোয়াড়দের ওপরই আস্থা রাখেন। আমাদের দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে। অন্যরাও সামনে এসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের সবাইকে প্রয়োজন হবে।"

আটলান্টার সবুজ গালিচায় যখন দুই দল নামবে, তখন কঙ্গোর ফুটবলারদের পায়ে থাকবে না কোনো অদৃশ্য শৃঙ্খল বা প্রত্যাশার চাপ। তারা ইতোমধ্যেই নিজেদের ছাড়িয়ে গেছে। হারানোর কিছু না থাকা এই মুক্ত দলটির সামনে শুধুই ইতিহাস গড়ার হাতছানি, যা তাদের রূপান্তর করেছে এক ভয়ংকর 'জায়ান্ট কিলার'-এ।

এই পরীক্ষার বৈতরণী পার হতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে মেক্সিকো, ইকুয়েডর কিংবা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিরা। তবে তার আগে, আটলান্টার ৯০ মিনিটের যুদ্ধই ঠিক করে দেবে—আভিজাত্যের জয় হবে, নাকি কঙ্গোর লড়াকু ফুটবল রূপকথার জন্ম দেবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


ইংল্যান্ডের অহংকার বনাম কঙ্গোর স্বপ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

কাগজে-কলমে লড়াইটা এক অসম যুদ্ধ। একদিকে ফুটবল সংস্কৃতির বরপুত্র হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহামদের ইংল্যান্ড; অন্যদিকে আফ্রিকার বুক চিরে আসা এক লড়াকু যোদ্ধা, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো বা ডিআর কঙ্গো। ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বুধবার আটলান্টায় মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল।

আপাতদৃষ্টিতে থমাস টুখেলের শিষ্যদের জন্য ম্যাচটা সহজ মনে হলেও, ইতিহাস ও ফুটবলীয় বাস্তবতার সমীকরণ বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক মরণপণ চ্যালেঞ্জ। নকআউট পর্বের একটি ভুল, একটি পাল্টা আক্রমণ চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে পারে ফুটবল পরাশক্তিদের অহংকার।

ম্যাচের আগে নিজের ফেবারিট তকমাকে যেমন মেনে নিয়েছেন থমাস টুখেল, তেমনি প্রতিপক্ষের শক্তিকে বিন্দুমাত্র হালকাভাবে নিচ্ছেন না এই মাস্টারমাইন্ড। ডিআর কঙ্গোর লড়াকু মানসিকতা ও শারীরিক ফুটবলকে বেশ সমীহ করছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নিজের রণপরিকল্পনা ও চিন্তার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ইংলিশ কোচ।

থমাস টুখেল বলেন, "আমি ঘানা ও পানামার বিপক্ষে ম্যাচগুলোর মতোই একটি ম্যাচ প্রত্যাশা করছি। তারা খুবই শারীরিক শক্তিনির্ভর দল। আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, আর সেটাই তাদের জন্য কার্যকর। আমাদের এসব মেনে নিতে হবে এবং এগুলো কীভাবে আমাদের খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি।"

চাপের মুখে দাঁড়িয়েও আত্মবিশ্বাসী টুখেল আরও যোগ করেন, "আমি এমন পরিস্থিতি উপভোগ করি। এখানে থাকা আমাদের জন্য একটি বিশেষ সৌভাগ্য। আমাদের মেনে নিতে হবে যে আমরা ফেবারিট এবং সবাই আমাদের পরের রাউন্ডে ওঠার প্রত্যাশা করছে। বাস্তবতা এটাই। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। এখন শুধু নিজেদের সেরাটা মাঠে দেখাতে হবে।"

পর্তুগালের সাথে ড্র, কলম্বিয়ার কাছে হার আর উজবেকিস্তানকে হারিয়ে নকআউট পর্বের টিকিট কাটা ডিআর কঙ্গো যেন এক ফিনিক্স পাখি। কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রের অধীনে দলটি রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে এক অদ্ভুত রসায়ন তৈরি করেছে। সাধারণত ৫-৩-২ ফরমেশনে খেলা দলটি বলের দখল প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দিয়ে নিজেদের সীমানায় দেয়াল তুলে বসে থাকে। আর ঠিক এই জায়গাতেই ইংল্যান্ডের দুর্বলতা।

থ্রি লায়নসরা সাধারণত হাই-লাইন ডিফেন্সে খেলে, যা কঙ্গোর দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণের জন্য আদর্শ সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইয়োয়ান উইসার গতি আর নোয়া সাদিকির মাঝমাঠের ক্লান্তিহীন পরিশ্রম টুখেলের রক্ষণের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

প্রতিপক্ষের এই ছক নিয়ে বেশ সচেতন টুখেল। তিনি বলেন, "এটি কঠিন একটি ম্যাচ হবে। তারা খুব ভালোভাবে প্রশিক্ষিত একটি দল। সম্ভবত ৫-৩-২ ফরমেশনে খেলবে। রক্ষণে তারা খুবই সংগঠিত থাকে এবং কখনও উঁচুতে প্রেসিং করে, আবার কখনও নিচু ব্লকে রক্ষণ সামলায়। পাল্টা আক্রমণে তারা খুবই বিপজ্জনক। এছাড়া লম্বা পাস খেলতে তারা ভয় পায় না এবং দ্বিতীয় বল জেতার চেষ্টা করে।"

চলতি টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের মূল ভরসা হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। কেইনের তিন গোল আর বেলিংহামের দুই গোলই মূলত ইংলিশদের এতদূর টেনে এনেছে। তবে এই অতি-নির্ভরতা কি কঙ্গোর বিপক্ষে কাল হবে? টুখেল অবশ্য তা মনে করেন না।

তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, "আদর্শভাবে সেটাই ভালো হতো, তবে ওরা দুজন যদি এভাবেই দলের মূল ভরসা হয়ে থাকে, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। আপনি সবসময় আপনার সেরা খেলোয়াড়দের ওপরই আস্থা রাখেন। আমাদের দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে। অন্যরাও সামনে এসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের সবাইকে প্রয়োজন হবে।"

আটলান্টার সবুজ গালিচায় যখন দুই দল নামবে, তখন কঙ্গোর ফুটবলারদের পায়ে থাকবে না কোনো অদৃশ্য শৃঙ্খল বা প্রত্যাশার চাপ। তারা ইতোমধ্যেই নিজেদের ছাড়িয়ে গেছে। হারানোর কিছু না থাকা এই মুক্ত দলটির সামনে শুধুই ইতিহাস গড়ার হাতছানি, যা তাদের রূপান্তর করেছে এক ভয়ংকর 'জায়ান্ট কিলার'-এ।

এই পরীক্ষার বৈতরণী পার হতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে মেক্সিকো, ইকুয়েডর কিংবা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিরা। তবে তার আগে, আটলান্টার ৯০ মিনিটের যুদ্ধই ঠিক করে দেবে—আভিজাত্যের জয় হবে, নাকি কঙ্গোর লড়াকু ফুটবল রূপকথার জন্ম দেবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত