চলতি বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর ছন্দহীনতার মিছিলে এবার যোগ হলো বেলজিয়াম। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ফেবারিট বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগাল।
সাদিও মানে ও ইসমাইলা সারের গতিময় ফুটবলের সামনে পুরো ম্যাচেই দিশেহারা দেখিয়েছে কেভিন ডি ব্রুইনের দলকে। প্রথমার্ধে হাবিব দিয়ারার গোলে লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বেলজিয়ামের জালে দ্বিতীয়বার বল পাঠিয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে সেনেগালিজরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পশরা সাজায় সেনেগাল। তবে ম্যাচের ৯ম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি তৈরি করেছিল বেলজিয়ামই। চার্লস ডি কেটেলারের পাস থেকে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড একটি নিচু শট নিলেও সেনেগালের গোলরক্ষক দিয়াও দারুণ দক্ষতায় তা রুখে দেন।
এরপর থেকে খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আফ্রিকার দেশটির হাতে চলে যায়। ১৪তম মিনিটে ইসমাইলা সার বাঁ দিক থেকে জ্যাকবসের ক্রসে থিবো কোর্তোয়ার বাধা পেরিয়ে ফাঁকা জাল পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে বল বাইরে মারলে নিশ্চিত গোল হাতছাড়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পর ইদ্রিসা গুইয়ের দূরপাল্লার হাফ-ভলি কোর্তোয়া প্রতিহত করেন এবং বিপরীতে ডি ব্রুইনের একটি দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে সেনেগালের পাল্টা আক্রমণ থামাতে গিয়ে ইউরি টিলেমান্স হাবিব দিয়ারাকে ফাউল করলে অনেকেই মনে করেছিলেন সেখানে হলুদ কার্ড দেখানো উচিত ছিল।
টানা আক্রমণের সুফল সেনেগাল পায় ম্যাচের ২৫তম মিনিটে। বাম দিক থেকে সাদিও মানের চমৎকার ক্রস বক্সে পেয়ে ইসমাইলা সার হেড করলে তা পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
কোর্তোয়া তখন মাটিতে পড়ে থাকায় সুযোগ বুঝে ফিরতি বলে সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়ে সহজ টোকায় বল জালে জড়ান হাবিব দিয়ারা। ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ২৯ মিনিটে কুলিং ব্রেকের সময় পরিসংখ্যান বলছিল, বলের দখলে ৬৫ শতাংশ এগিয়ে থাকা সেনেগালের প্রত্যাশিত গোল ছিল ১.৮২, যেখানে বেলজিয়ামের ছিল মাত্র ০.০৯।
৩৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন সাদিও মানে, তবে ওয়ান-টু পাস খেলে গোলমুখে ঢুকেও শট নেওয়ার সময় পিছলে যাওয়ায় কোর্তোয়া তা আটকে দেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ৪৫ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের কর্নার থেকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের বাঁকানো শট কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন দিয়াও।
প্রথমার্ধ শেষে অপ্টা সুপারকম্পিউটার জানায়, ম্যাচ শুরুর আগে সেনেগালের জয়ের যে সম্ভাবনা ছিল ২৩.৪ শতাংশ, সেটি বিরতির পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৩ শতাংশে।
১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও বেলজিয়ামকে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ দেয়নি সেনেগাল। খেলার ৫১তম মিনিটে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসমাইলা সার। তার এই নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচটি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।
প্রথম ৪৫ মিনিটে একাধিক সুযোগ নষ্ট করা সেনেগাল এখন শেষ ১৬'র টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষে এগিয়ে চলেছে, অন্যদিকে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে ছন্দহীন থাকা বেলজিয়ামের জন্য এই ব্যবধান ঘুচিয়ে ম্যাচে ফেরা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
চলতি বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর ছন্দহীনতার মিছিলে এবার যোগ হলো বেলজিয়াম। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ফেবারিট বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগাল।
সাদিও মানে ও ইসমাইলা সারের গতিময় ফুটবলের সামনে পুরো ম্যাচেই দিশেহারা দেখিয়েছে কেভিন ডি ব্রুইনের দলকে। প্রথমার্ধে হাবিব দিয়ারার গোলে লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বেলজিয়ামের জালে দ্বিতীয়বার বল পাঠিয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে সেনেগালিজরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পশরা সাজায় সেনেগাল। তবে ম্যাচের ৯ম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি তৈরি করেছিল বেলজিয়ামই। চার্লস ডি কেটেলারের পাস থেকে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড একটি নিচু শট নিলেও সেনেগালের গোলরক্ষক দিয়াও দারুণ দক্ষতায় তা রুখে দেন।
এরপর থেকে খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আফ্রিকার দেশটির হাতে চলে যায়। ১৪তম মিনিটে ইসমাইলা সার বাঁ দিক থেকে জ্যাকবসের ক্রসে থিবো কোর্তোয়ার বাধা পেরিয়ে ফাঁকা জাল পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে বল বাইরে মারলে নিশ্চিত গোল হাতছাড়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পর ইদ্রিসা গুইয়ের দূরপাল্লার হাফ-ভলি কোর্তোয়া প্রতিহত করেন এবং বিপরীতে ডি ব্রুইনের একটি দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে সেনেগালের পাল্টা আক্রমণ থামাতে গিয়ে ইউরি টিলেমান্স হাবিব দিয়ারাকে ফাউল করলে অনেকেই মনে করেছিলেন সেখানে হলুদ কার্ড দেখানো উচিত ছিল।
টানা আক্রমণের সুফল সেনেগাল পায় ম্যাচের ২৫তম মিনিটে। বাম দিক থেকে সাদিও মানের চমৎকার ক্রস বক্সে পেয়ে ইসমাইলা সার হেড করলে তা পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
কোর্তোয়া তখন মাটিতে পড়ে থাকায় সুযোগ বুঝে ফিরতি বলে সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়ে সহজ টোকায় বল জালে জড়ান হাবিব দিয়ারা। ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ২৯ মিনিটে কুলিং ব্রেকের সময় পরিসংখ্যান বলছিল, বলের দখলে ৬৫ শতাংশ এগিয়ে থাকা সেনেগালের প্রত্যাশিত গোল ছিল ১.৮২, যেখানে বেলজিয়ামের ছিল মাত্র ০.০৯।
৩৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন সাদিও মানে, তবে ওয়ান-টু পাস খেলে গোলমুখে ঢুকেও শট নেওয়ার সময় পিছলে যাওয়ায় কোর্তোয়া তা আটকে দেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ৪৫ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের কর্নার থেকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের বাঁকানো শট কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন দিয়াও।
প্রথমার্ধ শেষে অপ্টা সুপারকম্পিউটার জানায়, ম্যাচ শুরুর আগে সেনেগালের জয়ের যে সম্ভাবনা ছিল ২৩.৪ শতাংশ, সেটি বিরতির পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৩ শতাংশে।
১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও বেলজিয়ামকে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ দেয়নি সেনেগাল। খেলার ৫১তম মিনিটে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসমাইলা সার। তার এই নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচটি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।
প্রথম ৪৫ মিনিটে একাধিক সুযোগ নষ্ট করা সেনেগাল এখন শেষ ১৬'র টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষে এগিয়ে চলেছে, অন্যদিকে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে ছন্দহীন থাকা বেলজিয়ামের জন্য এই ব্যবধান ঘুচিয়ে ম্যাচে ফেরা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন