সংবাদ

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন: সেনেগালকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ এএম

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন: সেনেগালকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম

​৮৬ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল সেনেগাল। কিন্তু ফুটবলের চিরন্তন নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল। মাত্র তিন মিনিটের ঝড়ে বেলজিয়াম সমতায় ফেরার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।

যখন সবাই টাইব্রেকারের অপেক্ষা করছিল, ঠিক তখনই ১২৫তম মিনিটে পেনাল্টির এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। বিতর্কিত ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে পাওয়া স্পট কিক থেকে গোল করে আফ্রিকান সিংহ সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে বিদায় করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো বেলজিয়াম।
​ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল সেনেগালের। ১৪ মিনিটে ইসমাইলা সারের শট পোস্টে লাগলেও ২৫ মিনিটে আর ভুল হয়নি। সাদিও মানের দারুণ ক্রস থেকে সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে নিখুঁত টোকায় বল জালে জড়ান হাবিব দিয়ারা।
বিরতির পর ৫০ মিনিটে দিয়ারা সহজ সুযোগ মিস করলেও ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইলা সার। মুসা নিয়াখাতের দীর্ঘ পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত ভলিতে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন সার। এই গোলের মাধ্যমে তিনি ১৯৯০ সালে রজার মিলার গড়া এক বিশ্বকাপে কোনো আফ্রিকান ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসান।
​দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আক্রমণে গতি আনতে বেলজিয়াম কোচ ইউরি গার্সিয়া একে একে মাঠে নামান রোমেলু লুকাকু, ডোদি লুকেবাকিও, দিয়েগো মোরেইরা ও থমাস মুনিয়েরকে। এই পরিবর্তনই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।
৮৬ মিনিটে মুনিয়েরের নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান বদলি নামা রোমেলু লুকাকু। এর ঠিক তিন মিনিট পর, ৮৯ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ভাসানো ক্রসে চমৎকার হেডে গোলরক্ষক এদুয়ার্দ দিয়াওকে পরাস্ত করে বেলজিয়ামকে ২-২ সমতায় ফেরান ইউরি তিলেমান্স।
​নির্ধারিত সময়ের খেলা সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেললেও শেষ মুহূর্তে তৈরি হয় চরম নাটকীয়তা। ১১৮ মিনিটে লুকেবাকিওর শট ক্রসবারে লাগার পর ফিরতি বলে বক্সে তিলেমান্সকে ফেলে দেন সেনেগালের লামিন কামারা।
রেফারি প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও পরবর্তীতে ভিএআর মনিটরে দেখে পেনাল্টির রায় দেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠের ভেতর সেনেগালের খেলোয়াড়দের তীব্র প্রতিবাদ ও ধস্তাধস্তিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তবে সব চাপ সামলে ১২৫তম মিনিটে নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করেন তিলেমান্স।
শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে সেনেগালের এমবায়ে একটি সুযোগ পেলেও তা কোর্তোয়ার হাতে জমা পড়ে, আর তাতেই নিশ্চিত হয় সাদিও মানেদের অশ্রুসিক্ত বিদায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন: সেনেগালকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

​৮৬ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল সেনেগাল। কিন্তু ফুটবলের চিরন্তন নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল। মাত্র তিন মিনিটের ঝড়ে বেলজিয়াম সমতায় ফেরার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।

যখন সবাই টাইব্রেকারের অপেক্ষা করছিল, ঠিক তখনই ১২৫তম মিনিটে পেনাল্টির এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। বিতর্কিত ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে পাওয়া স্পট কিক থেকে গোল করে আফ্রিকান সিংহ সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে বিদায় করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো বেলজিয়াম।
​ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল সেনেগালের। ১৪ মিনিটে ইসমাইলা সারের শট পোস্টে লাগলেও ২৫ মিনিটে আর ভুল হয়নি। সাদিও মানের দারুণ ক্রস থেকে সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে নিখুঁত টোকায় বল জালে জড়ান হাবিব দিয়ারা।
বিরতির পর ৫০ মিনিটে দিয়ারা সহজ সুযোগ মিস করলেও ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইলা সার। মুসা নিয়াখাতের দীর্ঘ পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত ভলিতে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন সার। এই গোলের মাধ্যমে তিনি ১৯৯০ সালে রজার মিলার গড়া এক বিশ্বকাপে কোনো আফ্রিকান ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসান।
​দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আক্রমণে গতি আনতে বেলজিয়াম কোচ ইউরি গার্সিয়া একে একে মাঠে নামান রোমেলু লুকাকু, ডোদি লুকেবাকিও, দিয়েগো মোরেইরা ও থমাস মুনিয়েরকে। এই পরিবর্তনই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।
৮৬ মিনিটে মুনিয়েরের নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান বদলি নামা রোমেলু লুকাকু। এর ঠিক তিন মিনিট পর, ৮৯ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ভাসানো ক্রসে চমৎকার হেডে গোলরক্ষক এদুয়ার্দ দিয়াওকে পরাস্ত করে বেলজিয়ামকে ২-২ সমতায় ফেরান ইউরি তিলেমান্স।
​নির্ধারিত সময়ের খেলা সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেললেও শেষ মুহূর্তে তৈরি হয় চরম নাটকীয়তা। ১১৮ মিনিটে লুকেবাকিওর শট ক্রসবারে লাগার পর ফিরতি বলে বক্সে তিলেমান্সকে ফেলে দেন সেনেগালের লামিন কামারা।
রেফারি প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও পরবর্তীতে ভিএআর মনিটরে দেখে পেনাল্টির রায় দেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠের ভেতর সেনেগালের খেলোয়াড়দের তীব্র প্রতিবাদ ও ধস্তাধস্তিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তবে সব চাপ সামলে ১২৫তম মিনিটে নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করেন তিলেমান্স।
শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে সেনেগালের এমবায়ে একটি সুযোগ পেলেও তা কোর্তোয়ার হাতে জমা পড়ে, আর তাতেই নিশ্চিত হয় সাদিও মানেদের অশ্রুসিক্ত বিদায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত