সংবাদ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে মালয়েশিয়ার জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিল ইরান: আনোয়ার ইব্রাহিম


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

হরমুজ প্রণালি দিয়ে মালয়েশিয়ার জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিল ইরান: আনোয়ার ইব্রাহিম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার মাঝেই মালয়েশিয়ার জন্য সুখবর দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে তেহরান।

গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মালয়েশিয়ার জাহাজগুলো যাতে দ্রুত হরমুজ প্রণালি পার হতে পারে, সেজন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিশেষ ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছেন। এই সহযোগিতার জন্য তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, আটকে পড়া মালয়েশীয় তেলবাহী ট্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঠিক কতটি জাহাজ এই অনুমতি পেয়েছে বা এর বিনিময়ে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি সরবরাহকারী হলেও তাদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। যুদ্ধাবস্থায় এই সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় মালয়েশিয়াও প্রভাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনোয়ার ইব্রাহিম বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন:

  • পেট্রোল বরাদ্দ: ভর্তুকিযুক্ত পেট্রোলের ব্যক্তিপ্রতি মাসিক বরাদ্দ কমানো হবে।
  • ওয়ার্ক ফ্রম হোম: সরকারি কর্মচারীদের ধাপে ধাপে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
  • খাদ্য ও সার: সার ও জ্বালানির দাম বাড়ায় খাদ্য সরবরাহেও প্রভাব পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় কোম্পানি পেট্রোনাস-এর সক্ষমতার কারণে অনেক দেশের তুলনায় মালয়েশিয়া এখনো ‘ভালো অবস্থায়’ আছে।

সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এই জলপথ প্রায় অচল। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড-এর তথ্য অনুযায়ী:

  • যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলত।
  • গত বুধবার মাত্র ৫টি এবং মঙ্গলবার ৪টি জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেখা গেছে।

ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন জাহাজগুলোর জন্য পথ খোলা আছে। তবে তারা এই জলপথে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। এমনকি ইরানের পার্লামেন্ট এই প্রণালিতে নতুন ‘টোল ব্যবস্থা’ চালুর আইন প্রস্তাব বিবেচনা করছে। এর মাঝেই খবর এসেছে, নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে কিছু জাহাজের কাছে ইরানি কর্তৃপক্ষ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ দাবি করছে।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


হরমুজ প্রণালি দিয়ে মালয়েশিয়ার জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিল ইরান: আনোয়ার ইব্রাহিম

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার মাঝেই মালয়েশিয়ার জন্য সুখবর দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে তেহরান।

গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মালয়েশিয়ার জাহাজগুলো যাতে দ্রুত হরমুজ প্রণালি পার হতে পারে, সেজন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিশেষ ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছেন। এই সহযোগিতার জন্য তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, আটকে পড়া মালয়েশীয় তেলবাহী ট্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঠিক কতটি জাহাজ এই অনুমতি পেয়েছে বা এর বিনিময়ে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি সরবরাহকারী হলেও তাদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। যুদ্ধাবস্থায় এই সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় মালয়েশিয়াও প্রভাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনোয়ার ইব্রাহিম বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন:

  • পেট্রোল বরাদ্দ: ভর্তুকিযুক্ত পেট্রোলের ব্যক্তিপ্রতি মাসিক বরাদ্দ কমানো হবে।
  • ওয়ার্ক ফ্রম হোম: সরকারি কর্মচারীদের ধাপে ধাপে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
  • খাদ্য ও সার: সার ও জ্বালানির দাম বাড়ায় খাদ্য সরবরাহেও প্রভাব পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় কোম্পানি পেট্রোনাস-এর সক্ষমতার কারণে অনেক দেশের তুলনায় মালয়েশিয়া এখনো ‘ভালো অবস্থায়’ আছে।

সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এই জলপথ প্রায় অচল। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড-এর তথ্য অনুযায়ী:

  • যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলত।
  • গত বুধবার মাত্র ৫টি এবং মঙ্গলবার ৪টি জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেখা গেছে।

ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন জাহাজগুলোর জন্য পথ খোলা আছে। তবে তারা এই জলপথে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। এমনকি ইরানের পার্লামেন্ট এই প্রণালিতে নতুন ‘টোল ব্যবস্থা’ চালুর আইন প্রস্তাব বিবেচনা করছে। এর মাঝেই খবর এসেছে, নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে কিছু জাহাজের কাছে ইরানি কর্তৃপক্ষ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ দাবি করছে।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত