থাইল্যান্ডের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই প্যারোলে (শর্তসাপেক্ষ মুক্তি) কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আজ সোমবার (১১ মে) সকালে তিনি ব্যাংককের কারাগার থেকে বের হন। দুর্নীতির মামলায় এক বছরের সাজা ভোগ করছিলেন ৭৬ বছর বয়সী এই টেলিকম বিলিয়নিয়ার।
কারা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস) জানিয়েছে, থাকসিনের প্যারোল আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে একটি ইলেকট্রনিক মনিটরিং (ইএম) ব্রেসলেট পরে থাকতে হবে।
মুক্তির তিন দিনের মধ্যে তাকে ব্যাংকক প্রবেশন অফিস–১-এ হাজিরা দিতে হবে।
আগামী চার মাস তাকে প্রতি মাসে একবার করে এই অফিসে হাজিরা দিতে হবে। তিনি ব্যাংককের ব্যাং ফ্লাট জেলার ‘বান চান সং লা’ এলাকায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন।
কারাফটকে থাকসিনকে স্বাগত জানাতে কয়েকশ সমর্থক জড়ো হন। তারা ‘আমরা থাকসিনকে ভালোবাসি’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। সাংবাদিকদের সাথে কথা না বললেও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাসিমুখে হাত নেড়ে তিনি গাড়িতে চড়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
জান্থানা চাইদেজ নামে এক সমর্থক বলেন, "থাকসিন হয়তো কিছুদিন বিশ্রাম নেবেন, কিন্তু তিনি রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাবেন না।"
থাকসিনের মুক্তিকে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ডে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর তাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে রাজকীয় ক্ষমায় তা কমিয়ে এক বছর করা হয়।
তবে তিনি কারাগারে না থেকে অসুস্থতার অজুহাতে হাসপাতালের প্রাইভেট কক্ষে সময় কাটানোয় ‘পর্দার আড়ালে সমঝোতা’র অভিযোগ ওঠে। যদিও গত সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, হাসপাতালে কাটানো সময়কে কারাভোগ হিসেবে গণ্য করা হবে না, যার ফলে তাকে পুনরায় কারাগারে যেতে হয়েছিল। অবশেষে প্রবীণ বন্দিদের আগাম মুক্তি কর্মসূচির আওতায় তিনি আজ মুক্তি পেলেন।
থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে সিনাওয়াত্রা পরিবারের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। এই পরিবার থেকে এ পর্যন্ত চারজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তার দল ‘ফেউ থাই’ ক্ষমতাসীন জোটে থাকায় থাকসিনের মুক্তি দলটিকে স্বল্পমেয়াদে শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে তার মেয়ে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে কেবল পারিবারিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, রাজনীতি নিয়ে নয়।
দীর্ঘদিন ধরে সামরিক ও রাজতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত থাকসিন সিনাওয়াত্রা আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে এখন গোটা থাইল্যান্ডে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
থাইল্যান্ডের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই প্যারোলে (শর্তসাপেক্ষ মুক্তি) কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আজ সোমবার (১১ মে) সকালে তিনি ব্যাংককের কারাগার থেকে বের হন। দুর্নীতির মামলায় এক বছরের সাজা ভোগ করছিলেন ৭৬ বছর বয়সী এই টেলিকম বিলিয়নিয়ার।
কারা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস) জানিয়েছে, থাকসিনের প্যারোল আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে একটি ইলেকট্রনিক মনিটরিং (ইএম) ব্রেসলেট পরে থাকতে হবে।
মুক্তির তিন দিনের মধ্যে তাকে ব্যাংকক প্রবেশন অফিস–১-এ হাজিরা দিতে হবে।
আগামী চার মাস তাকে প্রতি মাসে একবার করে এই অফিসে হাজিরা দিতে হবে। তিনি ব্যাংককের ব্যাং ফ্লাট জেলার ‘বান চান সং লা’ এলাকায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন।
কারাফটকে থাকসিনকে স্বাগত জানাতে কয়েকশ সমর্থক জড়ো হন। তারা ‘আমরা থাকসিনকে ভালোবাসি’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। সাংবাদিকদের সাথে কথা না বললেও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাসিমুখে হাত নেড়ে তিনি গাড়িতে চড়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
জান্থানা চাইদেজ নামে এক সমর্থক বলেন, "থাকসিন হয়তো কিছুদিন বিশ্রাম নেবেন, কিন্তু তিনি রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাবেন না।"
থাকসিনের মুক্তিকে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ডে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর তাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে রাজকীয় ক্ষমায় তা কমিয়ে এক বছর করা হয়।
তবে তিনি কারাগারে না থেকে অসুস্থতার অজুহাতে হাসপাতালের প্রাইভেট কক্ষে সময় কাটানোয় ‘পর্দার আড়ালে সমঝোতা’র অভিযোগ ওঠে। যদিও গত সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, হাসপাতালে কাটানো সময়কে কারাভোগ হিসেবে গণ্য করা হবে না, যার ফলে তাকে পুনরায় কারাগারে যেতে হয়েছিল। অবশেষে প্রবীণ বন্দিদের আগাম মুক্তি কর্মসূচির আওতায় তিনি আজ মুক্তি পেলেন।
থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে সিনাওয়াত্রা পরিবারের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। এই পরিবার থেকে এ পর্যন্ত চারজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তার দল ‘ফেউ থাই’ ক্ষমতাসীন জোটে থাকায় থাকসিনের মুক্তি দলটিকে স্বল্পমেয়াদে শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে তার মেয়ে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে কেবল পারিবারিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, রাজনীতি নিয়ে নয়।
দীর্ঘদিন ধরে সামরিক ও রাজতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত থাকসিন সিনাওয়াত্রা আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে এখন গোটা থাইল্যান্ডে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

আপনার মতামত লিখুন