রাজধানীতে প্রেমের ফাঁদ বা 'হানিট্র্যাপে' ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিএমপির ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি বিশেষ দল শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে সাতটা থেকে শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত রাজধানীর সবুজবাগ, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।গ্রেফতাররা হলেন: মোঃ আনোয়ার হোসেন, বদিউজ্জামান শাহীন, মরিয়ম, শাহাদাত হোসেন ও উর্মী বেগম। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন, ১টি ওয়াকিটকি এবং নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ডিবি-সাইবার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার শিকার হয়েছেন একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একজন ঋণ বিতরণকারী কর্মকর্তা। গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঋণসংক্রান্ত কাজে তিনি রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর একটি মার্কেটে গেলে এক নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে তার সাথে পরিচিত হন এবং তার ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করেন।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, ওই নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং একপর্যায়ে তাকে বনশ্রী ইউনিটি হাসপাতালের সামনে দেখা করার প্রস্তাব দেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর অপর এক নারী ভুক্তভোগীকে রিসিভ করে রিকশাযোগে খিলগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, ফ্ল্যাটে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর আরও চারজন পুরুষ সেখানে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে জোরপূর্বক আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে। এরপর তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ অর্থ, ব্যাংকের এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন পেপার কেড়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আসামিরা ভুক্তভোগীর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ ও উপায়ের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। একই সাথে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গত ২২ জুন খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারদের ডিজিটাল ডিভাইস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তারা একই কৌশলে একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছে। গ্রেফতার আসামিরা বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। মামলার সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, অপরাধ সংঘটনের কৌশল এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীকে শনাক্তে ডিবির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
রাজধানীতে প্রেমের ফাঁদ বা 'হানিট্র্যাপে' ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিএমপির ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি বিশেষ দল শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে সাতটা থেকে শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত রাজধানীর সবুজবাগ, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।গ্রেফতাররা হলেন: মোঃ আনোয়ার হোসেন, বদিউজ্জামান শাহীন, মরিয়ম, শাহাদাত হোসেন ও উর্মী বেগম। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন, ১টি ওয়াকিটকি এবং নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ডিবি-সাইবার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার শিকার হয়েছেন একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একজন ঋণ বিতরণকারী কর্মকর্তা। গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঋণসংক্রান্ত কাজে তিনি রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর একটি মার্কেটে গেলে এক নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে তার সাথে পরিচিত হন এবং তার ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করেন।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, ওই নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং একপর্যায়ে তাকে বনশ্রী ইউনিটি হাসপাতালের সামনে দেখা করার প্রস্তাব দেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর অপর এক নারী ভুক্তভোগীকে রিসিভ করে রিকশাযোগে খিলগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, ফ্ল্যাটে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর আরও চারজন পুরুষ সেখানে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে জোরপূর্বক আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে। এরপর তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ অর্থ, ব্যাংকের এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন পেপার কেড়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আসামিরা ভুক্তভোগীর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ ও উপায়ের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। একই সাথে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গত ২২ জুন খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারদের ডিজিটাল ডিভাইস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তারা একই কৌশলে একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছে। গ্রেফতার আসামিরা বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। মামলার সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, অপরাধ সংঘটনের কৌশল এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীকে শনাক্তে ডিবির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন