সংবাদ

পেট্রোল-অকটেন সংকটে যানবাহন মালিক ও চালদের নাভিশ্বাস


প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

পেট্রোল-অকটেন সংকটে যানবাহন মালিক ও চালদের নাভিশ্বাস
ছবি : সংবাদ

মৌলভীবাজার জেলায় পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের এ সংকটে যানবাহন মালিক ও চালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অফিস ও স্কুলগামী কর্মচারী-শিক্ষকরা মোটরসাইকেল নিয়ে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে তেল সংগ্রহ করছেন।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজারের একটি পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পাম্প ম্যানেজার জানান, প্রতি মোটরসাইকেলে ৫০ টাকার পেট্রোল দেয়া হচ্ছে। শমসেরনগরের মোটরসাইকেল চালক আবুল হাসান বলেন, ‘পাম্পে আসতে আসতেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ট্যাংক যেমন খালি ছিল, তেমনই থাকছে।’

মৌলভীবাজারের শসন সড়কের দুটি পাম্পেই শুক্রবার থেকে পেট্রোল ও অকটেন নেই। তবে একটি পাম্পের ম্যানেজার জানান, আজ শনিবার ডিজেল এবং আগামীকাল রোববার পেট্রোল ও অকটেন দেয়ার কথা সরবরাহকারীর।

শনিবার দুপুরে শহরের জগন্নাথপুর এলাকার একটি পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ‘পেট্রোল ও অকটেন নেই’ লেখা কার্ড টাঙানো। তবে এ পাম্পে ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে একই দিন কুসুমভাগ এলাকার একটি পাম্পে তেলবাহী গাড়ি পৌঁছালে শতাধিক মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়ায়। পাম্পের মালিকপক্ষ সরাসরি তদারকি করে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছেন। পাম্পের একজন মালিক বলেন, ‘আজ তেল পাওয়ায় বিক্রি করা হচ্ছে। যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ বিক্রি হবে।’ এ পাম্পে মোটরসাইকেলে চাহিদামতো এবং প্রাইভেট গাড়িতে ২০ লিটার পর্যন্ত পেট্রোল-অকটেন দেয়া হচ্ছে।

মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। অনেকেই এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটছেন। মোটরসাইকেলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল দেয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তেল মজুদ করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছেন, যা সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এক সরকারি কর্মকর্তা নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদদারদের দমনে প্রতি লিটারে ৩ টাকা দাম কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে সাতগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্ত সরকার ও সত্যজিৎ সরকার নামের ওই দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুবিল্লাহ আকন। তাদের দোকানে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের অবৈধ মজুদ পাওয়া যায়। এসব জব্দ করে ফায়ার সার্ভিসের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


পেট্রোল-অকটেন সংকটে যানবাহন মালিক ও চালদের নাভিশ্বাস

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজার জেলায় পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের এ সংকটে যানবাহন মালিক ও চালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অফিস ও স্কুলগামী কর্মচারী-শিক্ষকরা মোটরসাইকেল নিয়ে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে তেল সংগ্রহ করছেন।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজারের একটি পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পাম্প ম্যানেজার জানান, প্রতি মোটরসাইকেলে ৫০ টাকার পেট্রোল দেয়া হচ্ছে। শমসেরনগরের মোটরসাইকেল চালক আবুল হাসান বলেন, ‘পাম্পে আসতে আসতেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ট্যাংক যেমন খালি ছিল, তেমনই থাকছে।’

মৌলভীবাজারের শসন সড়কের দুটি পাম্পেই শুক্রবার থেকে পেট্রোল ও অকটেন নেই। তবে একটি পাম্পের ম্যানেজার জানান, আজ শনিবার ডিজেল এবং আগামীকাল রোববার পেট্রোল ও অকটেন দেয়ার কথা সরবরাহকারীর।

শনিবার দুপুরে শহরের জগন্নাথপুর এলাকার একটি পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ‘পেট্রোল ও অকটেন নেই’ লেখা কার্ড টাঙানো। তবে এ পাম্পে ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে একই দিন কুসুমভাগ এলাকার একটি পাম্পে তেলবাহী গাড়ি পৌঁছালে শতাধিক মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়ায়। পাম্পের মালিকপক্ষ সরাসরি তদারকি করে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছেন। পাম্পের একজন মালিক বলেন, ‘আজ তেল পাওয়ায় বিক্রি করা হচ্ছে। যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ বিক্রি হবে।’ এ পাম্পে মোটরসাইকেলে চাহিদামতো এবং প্রাইভেট গাড়িতে ২০ লিটার পর্যন্ত পেট্রোল-অকটেন দেয়া হচ্ছে।

মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। অনেকেই এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটছেন। মোটরসাইকেলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার তেল দেয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তেল মজুদ করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছেন, যা সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এক সরকারি কর্মকর্তা নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদদারদের দমনে প্রতি লিটারে ৩ টাকা দাম কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে সাতগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্ত সরকার ও সত্যজিৎ সরকার নামের ওই দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুবিল্লাহ আকন। তাদের দোকানে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের অবৈধ মজুদ পাওয়া যায়। এসব জব্দ করে ফায়ার সার্ভিসের জিম্মায় রাখা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত