সংবাদ

মৃত্যুকূপ পেরিয়ে ২১ বাংলাদেশির রুদ্ধশ্বাস বেঁচে ফেরা: গ্রিস উপকূলে ২২ জনের সলিলসমাধি


প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫১ এএম

মৃত্যুকূপ পেরিয়ে ২১ বাংলাদেশির রুদ্ধশ্বাস বেঁচে ফেরা: গ্রিস উপকূলে ২২ জনের সলিলসমাধি

ইউরোপের সোনালী স্বপ্নের হাতছানিতে ভূমধ্যসাগরের নোনা জল আর ক্ষুধার আগুনের সঙ্গে লড়ে অবশেষে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন ২১ জন বাংলাদেশি। তবে এই বেঁচে ফেরার আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে তাদেরই সহযাত্রী ২২ জন অভাগা মানুষের সলিলসমাধিতে।

শনিবার (২৮ মার্চ) গ্রিক কোস্টগার্ডের দেওয়া তথ্যে বেরিয়ে এসেছে এক লোমহর্ষক উপাখ্যান।
গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে একটি জীর্ণ রাবারের নৌকায় চড়ে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এই অভিবাসন প্রত্যাশীরা। কিন্তু মাঝপথে দিক হারিয়ে এবং ইঞ্জিন বিকল হয়ে টানা ছয় দিন খাবার ও পানীয় ছাড়া উত্তাল সমুদ্রে ভেসে ছিলেন তারা। এই দীর্ঘ অনাহার আর প্রতিকূল আবহাওয়ার ধকল সইতে না পেরে একে একে প্রাণ হারান ২২ জন যাত্রী।
​শনিবার গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে ক্রিট দ্বীপের কাছে ফ্রনটেক্সের একটি উদ্ধারকারী জাহাজ মোট ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
উদ্ধারদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশের নাগরিক, বাকিরা দক্ষিণ সুদান ও চাদের বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জবানবন্দি থেকে জানা যায় এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা।
ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় যখন একের পর এক মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিল, তখন পাচারকারীদের নির্দেশে সেই ২২টি নিথর দেহ মাঝসমুদ্রেই বিসর্জন দেওয়া হয়। উদ্ধারদের মধ্যে অসুস্থ দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ক্রিটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।
​এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রিক পুলিশ দক্ষিণ সুদানের দুই তরুণকে গ্রেফতার করেছে, যাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবহেলার কারণে হত্যার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেই এই পথে ৫৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা বিশ্বজুড়ে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের ভয়াবহতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


মৃত্যুকূপ পেরিয়ে ২১ বাংলাদেশির রুদ্ধশ্বাস বেঁচে ফেরা: গ্রিস উপকূলে ২২ জনের সলিলসমাধি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইউরোপের সোনালী স্বপ্নের হাতছানিতে ভূমধ্যসাগরের নোনা জল আর ক্ষুধার আগুনের সঙ্গে লড়ে অবশেষে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন ২১ জন বাংলাদেশি। তবে এই বেঁচে ফেরার আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে তাদেরই সহযাত্রী ২২ জন অভাগা মানুষের সলিলসমাধিতে।

শনিবার (২৮ মার্চ) গ্রিক কোস্টগার্ডের দেওয়া তথ্যে বেরিয়ে এসেছে এক লোমহর্ষক উপাখ্যান।
গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে একটি জীর্ণ রাবারের নৌকায় চড়ে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এই অভিবাসন প্রত্যাশীরা। কিন্তু মাঝপথে দিক হারিয়ে এবং ইঞ্জিন বিকল হয়ে টানা ছয় দিন খাবার ও পানীয় ছাড়া উত্তাল সমুদ্রে ভেসে ছিলেন তারা। এই দীর্ঘ অনাহার আর প্রতিকূল আবহাওয়ার ধকল সইতে না পেরে একে একে প্রাণ হারান ২২ জন যাত্রী।
​শনিবার গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে ক্রিট দ্বীপের কাছে ফ্রনটেক্সের একটি উদ্ধারকারী জাহাজ মোট ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
উদ্ধারদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশের নাগরিক, বাকিরা দক্ষিণ সুদান ও চাদের বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জবানবন্দি থেকে জানা যায় এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা।
ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় যখন একের পর এক মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিল, তখন পাচারকারীদের নির্দেশে সেই ২২টি নিথর দেহ মাঝসমুদ্রেই বিসর্জন দেওয়া হয়। উদ্ধারদের মধ্যে অসুস্থ দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ক্রিটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।
​এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রিক পুলিশ দক্ষিণ সুদানের দুই তরুণকে গ্রেফতার করেছে, যাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবহেলার কারণে হত্যার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেই এই পথে ৫৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা বিশ্বজুড়ে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের ভয়াবহতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত