সংবাদ

২০২২ বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:১২ পিএম

২০২২ বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

​বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানিয়েছেন, সে সময় ফিফার পাওনা ৩.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের বাইরে বাকি প্রায় ১৪০ কোটি টাকার পুরোটাই মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে গেছে এবং এটি ছিল লুটপাটের একটি বড় কেন্দ্র।

​আজ রোববার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা সম্প্রচার সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

​সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী জানান, সে সময়কার লুটপাটের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। ২০২২ সালে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান ফিফার কাছ থেকে ৩.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কেনে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান 'তমা কনস্ট্রাকশন' তাদের কাছ থেকে এই স্বত্বটি অধিগ্রহণ করে। এরপর তমা কনস্ট্রাকশন চড়া মূল্যে বিটিভির কাছে ৯৮ কোটি টাকায়, টি স্পোর্টসের কাছে ২২ কোটি টাকায় এবং টফির কাছে ১৭ কোটি টাকায় তা বিক্রি করে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন ও লুটপাট হয়, যার বড় একটি অংশ (৯৮ কোটি টাকা) পরিশোধ করা হয়েছিল জনগণের করের টাকা থেকে।

​বিগত সরকারের আমলের সেই বিপুল খরচের বিপরীতে এবারের বিশ্বকাপের সম্প্রচার খরচকে প্রায় শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে সরাসরি ফিফার সঙ্গে দফায় দফায় দরকষাকষি করা হয়েছে। এর ফলে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই বিটিভি সরাসরি ফিফার কাছ থেকে মাত্র ৩.৮৫ মিলিয়ন ডলারে এবারের সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে সক্ষম হয়েছে।

​মন্ত্রী আরও যোগ করেন, "এবার পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের ঘাটতি থাকছে মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। সাব-লাইসেন্স পাওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। তাদের বিজ্ঞাপন থেকে আয় প্রত্যাশামতো হলে এই সামান্য ঘাটতিটুকুও তারা বহন করবে বলে আশা করছি। আর সেটি হলে সরকারের অতিরিক্ত কোনো ব্যয়ই থাকবে না।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬


২০২২ বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

​বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানিয়েছেন, সে সময় ফিফার পাওনা ৩.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের বাইরে বাকি প্রায় ১৪০ কোটি টাকার পুরোটাই মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে গেছে এবং এটি ছিল লুটপাটের একটি বড় কেন্দ্র।

​আজ রোববার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা সম্প্রচার সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

​সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী জানান, সে সময়কার লুটপাটের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। ২০২২ সালে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান ফিফার কাছ থেকে ৩.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কেনে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান 'তমা কনস্ট্রাকশন' তাদের কাছ থেকে এই স্বত্বটি অধিগ্রহণ করে। এরপর তমা কনস্ট্রাকশন চড়া মূল্যে বিটিভির কাছে ৯৮ কোটি টাকায়, টি স্পোর্টসের কাছে ২২ কোটি টাকায় এবং টফির কাছে ১৭ কোটি টাকায় তা বিক্রি করে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন ও লুটপাট হয়, যার বড় একটি অংশ (৯৮ কোটি টাকা) পরিশোধ করা হয়েছিল জনগণের করের টাকা থেকে।

​বিগত সরকারের আমলের সেই বিপুল খরচের বিপরীতে এবারের বিশ্বকাপের সম্প্রচার খরচকে প্রায় শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে সরাসরি ফিফার সঙ্গে দফায় দফায় দরকষাকষি করা হয়েছে। এর ফলে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই বিটিভি সরাসরি ফিফার কাছ থেকে মাত্র ৩.৮৫ মিলিয়ন ডলারে এবারের সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে সক্ষম হয়েছে।

​মন্ত্রী আরও যোগ করেন, "এবার পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের ঘাটতি থাকছে মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। সাব-লাইসেন্স পাওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। তাদের বিজ্ঞাপন থেকে আয় প্রত্যাশামতো হলে এই সামান্য ঘাটতিটুকুও তারা বহন করবে বলে আশা করছি। আর সেটি হলে সরকারের অতিরিক্ত কোনো ব্যয়ই থাকবে না।"



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত