সংবাদ

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, দিশেহারা ৪০০ শিক্ষার্থী


আজিজ চৌধুরী
আজিজ চৌধুরী
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, দিশেহারা ৪০০ শিক্ষার্থী
ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন। ছবি : সংবাদ

শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে ‘ভিসা গাইড’ নামক কথিত ভিসা প্রসেসিং এজেন্সি। প্রতারণার শিকার হয়ে শত শত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তা, আর্থিক ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি। এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ন্যায়বিচার ও আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

রোববার (১৯ জুলাই) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা এই দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘ভিসা গাইড’ নামের মূল প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে চাকচিক্যময় বিজ্ঞাপন ও দালাল চক্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতো। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাঁকজমকপূর্ণ অফিস খোলে। শুধু মূল নামেই নয়, প্রতারণার জাল বিস্তার করতে তারা আরও ৪টি বেনামী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছিল। এসব প্রতিষ্ঠান হলো- জাস্ট থট এডুকেশন কনসালটেন্ট, গ্লোবাল ভিসা স্টেশন, গ্লোবাল ইমিগ্রেশন এক্সপার্ট ও গো ভিসা।

চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে হঠাৎ করেই এই চক্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অফিস বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের জন্য অনেকে পরিবারের শেষ সম্বল জমিজমা বিক্রি বা বন্ধক রেখেছেন। কেউ মায়ের স্বর্ণালংকার বিক্রি করেছেন, আবার কেউ চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এজেন্সির হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন।

টাকা ও স্বপ্ন দুটোই হারিয়ে শিক্ষার্থীরা এখন চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। লোকলজ্জা ও অভিভাবকের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই চরম মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ইতিমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অনেক পরিবারে গুরুতর স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় নেমে এসেছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্যায় করতে চাই না; আমরা শুধু সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা দেখতে চাই।’

দীর্ঘদিন ধরে এজেন্সির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে ভুক্তভোগীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তদন্তকারী সংস্থার কাছে ৪ দফা দাবি জানিয়েছেন। 

প্রথমত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলেছেন শিক্ষার্থীরা। দ্বিতীয়ত, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে তারা বলেছেন, প্রতারক চক্রের মূল হোতা ও তাদের সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

তৃতীয়ত, অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়ে তারা বলেছেন, আত্মসাৎ করা প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরত দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চতুর্থত, স্থায়ী নজরদারির দাবি জানিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি খাতের নামে এমন প্রতারণা রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিদেশে উচ্চশিক্ষার নামে এমন প্রতারণা কেবল চার শতাধিক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা সাধারণ মানুষের আস্থার ওপর এক বড় আঘাত। এই মানবিক বিপর্যয় রুখতে এবং প্রতারকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্টুডেন্ট ভিসায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ৪ আসামি রিমান্ডে

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, দিশেহারা ৪০০ শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে ‘ভিসা গাইড’ নামক কথিত ভিসা প্রসেসিং এজেন্সি। প্রতারণার শিকার হয়ে শত শত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তা, আর্থিক ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি। এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ন্যায়বিচার ও আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

রোববার (১৯ জুলাই) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা এই দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘ভিসা গাইড’ নামের মূল প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে চাকচিক্যময় বিজ্ঞাপন ও দালাল চক্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতো। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাঁকজমকপূর্ণ অফিস খোলে। শুধু মূল নামেই নয়, প্রতারণার জাল বিস্তার করতে তারা আরও ৪টি বেনামী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছিল। এসব প্রতিষ্ঠান হলো- জাস্ট থট এডুকেশন কনসালটেন্ট, গ্লোবাল ভিসা স্টেশন, গ্লোবাল ইমিগ্রেশন এক্সপার্ট ও গো ভিসা।

চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে হঠাৎ করেই এই চক্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অফিস বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের জন্য অনেকে পরিবারের শেষ সম্বল জমিজমা বিক্রি বা বন্ধক রেখেছেন। কেউ মায়ের স্বর্ণালংকার বিক্রি করেছেন, আবার কেউ চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এজেন্সির হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন।

টাকা ও স্বপ্ন দুটোই হারিয়ে শিক্ষার্থীরা এখন চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। লোকলজ্জা ও অভিভাবকের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই চরম মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ইতিমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অনেক পরিবারে গুরুতর স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় নেমে এসেছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্যায় করতে চাই না; আমরা শুধু সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা দেখতে চাই।’

দীর্ঘদিন ধরে এজেন্সির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে ভুক্তভোগীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তদন্তকারী সংস্থার কাছে ৪ দফা দাবি জানিয়েছেন। 

প্রথমত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলেছেন শিক্ষার্থীরা। দ্বিতীয়ত, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে তারা বলেছেন, প্রতারক চক্রের মূল হোতা ও তাদের সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

তৃতীয়ত, অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়ে তারা বলেছেন, আত্মসাৎ করা প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরত দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চতুর্থত, স্থায়ী নজরদারির দাবি জানিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি খাতের নামে এমন প্রতারণা রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিদেশে উচ্চশিক্ষার নামে এমন প্রতারণা কেবল চার শতাধিক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা সাধারণ মানুষের আস্থার ওপর এক বড় আঘাত। এই মানবিক বিপর্যয় রুখতে এবং প্রতারকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্টুডেন্ট ভিসায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ৪ আসামি রিমান্ডে


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত