“এটা ১৯৪৮ সাল নয়, এটা ২০২৪। আর এটা বাংলাদেশ নয়, বেলুচিস্তান।” -শত শত নিপীড়িত মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চারিত এক তরুণী চিকিৎসকের এই হুংকার কাঁপিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানের ক্ষমতার মসনদ। কয়েকটি মাত্র বাক্যেই তিনি পাকিস্তান রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ে, মনে করিয়ে দিয়েছিলেন ১৯৭১ সালের বাংলার সেই রক্তাক্ত স্মৃতির কথা। তরুণীর নাম ডা. মাহরাং বালুচ। আজ তিনি শুধু বেলুচিস্তানের প্রতিরোধের মুখ নন, বরং হাজারো গুম হওয়া মানুষের স্বজনদের চোখের জল আর আর্তনাদের এক জীবন্ত প্রতিবাদ।
বেদনা থেকে উত্থান
এক হার না মানা কন্যার গল্প মাহরাংয়ের এই লড়াইয়ের শুরুটা হয়েছিল এক বুকভরা বেদনা ও স্বজন হারানোর ট্র্যাজেডি থেকে। ২০০৯ সালে তার বয়স যখন মাত্র ১৬, তখন তার মানবাধিকারকর্মী বাবা আবদুল গফ্ফর লাঙ্গোভকে পাকিস্তানি বাহিনী গুম করে। সে যাত্রায় ছাড়া পেলেও ২০১১ সালের জুলাই মাসে তাকে আবারও অপহরণ করা হয় এবং কিছুদিন পর তার বুলেটে ঝাঁঝরা, ক্ষতবিক্ষত ও নির্যাতনের শিকার হওয়া নিথর দেহ উদ্ধার হয়।
নির্মমতার এখানেই শেষ নয়, ২০১৭ সালে তার ভাইকেও অপহরণ করা হয়। প্রিয়জন হারানোর এই শোক মাহরাংকে দমাতে পারেনি, বরং তার ধমনীতে জ্বেলে দেয় প্রতিরোধের আগুন। কোয়েট্টার বোলান মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা এই অদম্য নারী ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বেলুচ ইয়াকজেঠি কমিটি’ (বিওয়াইসি)।
খনিজ সম্পদে ভরপুর বেলুচিস্তানের মাটিতে যখন কেবল লাশের গন্ধ আর বন্দিশালা, তখন মাহরাং অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গুম ও খুনের বিচারের দাবিতে তিনি ১৬০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে ইসলামাবাদে এক ঐতিহাসিক লংমার্চের নেতৃত্ব দেন, যা বিশ্ববিবেকের নজর কাড়ে।
বাংলাদেশ, বায়ান্ন, একাত্তর এবং ছয় দফা বেলুচিস্তানের এই মুক্তি সংগ্রামের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাস, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার ঐতিহাসিক ৬ দফার প্রসঙ্গ।
মাহরাং বালুচ তার এক আবেগঘন ভাষণে স্পষ্টতই তৎকালীন বাংলাদেশের উদাহরণ টেনেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র যেভাবে শুরু থেকেই বাংলার মানুষের ওপর বৈষম্য চালিয়েছিল, তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হেনেছিল এবং রাজনৈতিকভাবে বঞ্চনা করেছিল, ঠিক একই শোষণের নীলকশা আজ বেলুচিস্তানে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বেলুচ জাতীয়তাবাদীদের কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও শেখ মুজিবের নেতৃত্ব এক বিশাল অনুপ্রেরণা। ২০১২ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টির নেতা সরদার আক্তার মেঙ্গাল বেলুচ সংকট নিরসনে একটি ‘ছয় দফা’ উপস্থাপন করেছিলেন।
মাহরাং বালুচ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমার ছয় দফাকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার চেয়ে ভিন্ন বা কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করা উচিত নয়’। তিনি সতর্ক করেছিলেন, এই দাবিগুলো মানা না হলে বেলুচিস্তানও পূর্ব পাকিস্তানের মতো আলাদা পথে হাঁটতে বাধ্য হবে।
২০২৪ সালেও ডা. মাহরাং বালুচ শেখ মুজিবুর রহমানের উদাহরণ টেনে এনে পাকিস্তান সরকারকে সতর্ক করেন যে, বেলুচদের রাজনৈতিক দাবি উপেক্ষা করলে পূর্ব পাকিস্তানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সম্পদের অভিশাপ ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ, যা দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪৪ শতাংশ হলেও এখানকার জনসংখ্যা মাত্র দেড় কোটি। সোনা, তামা, গ্যাস ও কয়লায় সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটিতেই রয়েছে রেকোডিক খনি ও কৌশলগত গোয়াদর বন্দর।
কিন্তু এই বিপুল সম্পদের ভাগ স্থানীয়রা পায় না, সবই চলে যায় ইসলামাবাদ ও চীনের পকেটে (সিপিইসি প্রকল্পের মাধ্যমে)। অধিকার চাইতে গেলেই জোটে গুম আর খুন।
‘ভয়েস ফর বেলুচ মিসিং পারসনস’-এর দেওয়া তথ্যমতে, ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮,০০০ মানুষকে বেলুচিস্তান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী সেখানে ‘অপারেশন সাবান’-এর নামে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মাহরাংয়ের এই আপসহীন লড়াই আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কেড়েছে। ২০২০ সালে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিলের প্রতিবাদে তার অনশনে সমর্থন জানিয়েছিলেন পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ও নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই।
২০২৪ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ‘টাইম ১০০ নেক্সট’ শীর্ষ প্রভাবশালীদের তালিকায় তিনি স্থান পান, যদিও পাকিস্তান সরকার তাকে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশত্যাগে বাধা দেয় এবং বিমানবন্দরে হেনস্থা করে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও আলোচিত হয়েছেন।
কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রযন্ত্র এই কণ্ঠরোধ করতে মরিয়া। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এক বিক্ষোভে আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য নিহতের ঘটনায় সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা মামলায় ২০২৫ সালের মার্চে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
‘বেলুচ জাতীয় সমাবেশে’ বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. মাহরাং বালুচ
বাবার ক্ষতবিক্ষত লাশ আর ভাইয়ের গুম হওয়ার যন্ত্রণা বুকে নিয়ে যে মেয়েটি একদিন রাস্তায় নেমেছিলেন, আজ তিনি পুরো একটি জাতির মুক্তির স্বপ্নসারথি। লৌহকপাট দিয়ে কি আর আগ্নেয়গিরি আটকে রাখা যায়? কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকেও ডা. মাহরাংয়ের বার্তা একটাই- ‘লড়াই চলবে’।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বুলেট আর গুম দিয়ে কোনো জাতির অধিকার চিরকাল দাবিয়ে রাখা যায় না। ১৯৭১ সালে বাংলায় পাকিস্তান যে ভুল করেছিল, আজও বেলুচিস্তানে তারা সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে। এখন দেখার বিষয়, ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে বেলুচিস্তানও কি বাংলাদেশের দেখানো পথে হেঁটে নিজেদের স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনতে পারবে?

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
“এটা ১৯৪৮ সাল নয়, এটা ২০২৪। আর এটা বাংলাদেশ নয়, বেলুচিস্তান।” -শত শত নিপীড়িত মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চারিত এক তরুণী চিকিৎসকের এই হুংকার কাঁপিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানের ক্ষমতার মসনদ। কয়েকটি মাত্র বাক্যেই তিনি পাকিস্তান রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ে, মনে করিয়ে দিয়েছিলেন ১৯৭১ সালের বাংলার সেই রক্তাক্ত স্মৃতির কথা। তরুণীর নাম ডা. মাহরাং বালুচ। আজ তিনি শুধু বেলুচিস্তানের প্রতিরোধের মুখ নন, বরং হাজারো গুম হওয়া মানুষের স্বজনদের চোখের জল আর আর্তনাদের এক জীবন্ত প্রতিবাদ।
বেদনা থেকে উত্থান
এক হার না মানা কন্যার গল্প মাহরাংয়ের এই লড়াইয়ের শুরুটা হয়েছিল এক বুকভরা বেদনা ও স্বজন হারানোর ট্র্যাজেডি থেকে। ২০০৯ সালে তার বয়স যখন মাত্র ১৬, তখন তার মানবাধিকারকর্মী বাবা আবদুল গফ্ফর লাঙ্গোভকে পাকিস্তানি বাহিনী গুম করে। সে যাত্রায় ছাড়া পেলেও ২০১১ সালের জুলাই মাসে তাকে আবারও অপহরণ করা হয় এবং কিছুদিন পর তার বুলেটে ঝাঁঝরা, ক্ষতবিক্ষত ও নির্যাতনের শিকার হওয়া নিথর দেহ উদ্ধার হয়।
নির্মমতার এখানেই শেষ নয়, ২০১৭ সালে তার ভাইকেও অপহরণ করা হয়। প্রিয়জন হারানোর এই শোক মাহরাংকে দমাতে পারেনি, বরং তার ধমনীতে জ্বেলে দেয় প্রতিরোধের আগুন। কোয়েট্টার বোলান মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা এই অদম্য নারী ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বেলুচ ইয়াকজেঠি কমিটি’ (বিওয়াইসি)।
খনিজ সম্পদে ভরপুর বেলুচিস্তানের মাটিতে যখন কেবল লাশের গন্ধ আর বন্দিশালা, তখন মাহরাং অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গুম ও খুনের বিচারের দাবিতে তিনি ১৬০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে ইসলামাবাদে এক ঐতিহাসিক লংমার্চের নেতৃত্ব দেন, যা বিশ্ববিবেকের নজর কাড়ে।
বাংলাদেশ, বায়ান্ন, একাত্তর এবং ছয় দফা বেলুচিস্তানের এই মুক্তি সংগ্রামের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাস, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার ঐতিহাসিক ৬ দফার প্রসঙ্গ।
মাহরাং বালুচ তার এক আবেগঘন ভাষণে স্পষ্টতই তৎকালীন বাংলাদেশের উদাহরণ টেনেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র যেভাবে শুরু থেকেই বাংলার মানুষের ওপর বৈষম্য চালিয়েছিল, তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হেনেছিল এবং রাজনৈতিকভাবে বঞ্চনা করেছিল, ঠিক একই শোষণের নীলকশা আজ বেলুচিস্তানে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বেলুচ জাতীয়তাবাদীদের কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও শেখ মুজিবের নেতৃত্ব এক বিশাল অনুপ্রেরণা। ২০১২ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টির নেতা সরদার আক্তার মেঙ্গাল বেলুচ সংকট নিরসনে একটি ‘ছয় দফা’ উপস্থাপন করেছিলেন।
মাহরাং বালুচ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমার ছয় দফাকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার চেয়ে ভিন্ন বা কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করা উচিত নয়’। তিনি সতর্ক করেছিলেন, এই দাবিগুলো মানা না হলে বেলুচিস্তানও পূর্ব পাকিস্তানের মতো আলাদা পথে হাঁটতে বাধ্য হবে।
২০২৪ সালেও ডা. মাহরাং বালুচ শেখ মুজিবুর রহমানের উদাহরণ টেনে এনে পাকিস্তান সরকারকে সতর্ক করেন যে, বেলুচদের রাজনৈতিক দাবি উপেক্ষা করলে পূর্ব পাকিস্তানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সম্পদের অভিশাপ ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ, যা দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪৪ শতাংশ হলেও এখানকার জনসংখ্যা মাত্র দেড় কোটি। সোনা, তামা, গ্যাস ও কয়লায় সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটিতেই রয়েছে রেকোডিক খনি ও কৌশলগত গোয়াদর বন্দর।
কিন্তু এই বিপুল সম্পদের ভাগ স্থানীয়রা পায় না, সবই চলে যায় ইসলামাবাদ ও চীনের পকেটে (সিপিইসি প্রকল্পের মাধ্যমে)। অধিকার চাইতে গেলেই জোটে গুম আর খুন।
‘ভয়েস ফর বেলুচ মিসিং পারসনস’-এর দেওয়া তথ্যমতে, ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮,০০০ মানুষকে বেলুচিস্তান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী সেখানে ‘অপারেশন সাবান’-এর নামে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মাহরাংয়ের এই আপসহীন লড়াই আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কেড়েছে। ২০২০ সালে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিলের প্রতিবাদে তার অনশনে সমর্থন জানিয়েছিলেন পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ও নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই।
২০২৪ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ‘টাইম ১০০ নেক্সট’ শীর্ষ প্রভাবশালীদের তালিকায় তিনি স্থান পান, যদিও পাকিস্তান সরকার তাকে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশত্যাগে বাধা দেয় এবং বিমানবন্দরে হেনস্থা করে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও আলোচিত হয়েছেন।
কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রযন্ত্র এই কণ্ঠরোধ করতে মরিয়া। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এক বিক্ষোভে আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য নিহতের ঘটনায় সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা মামলায় ২০২৫ সালের মার্চে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
‘বেলুচ জাতীয় সমাবেশে’ বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. মাহরাং বালুচ
বাবার ক্ষতবিক্ষত লাশ আর ভাইয়ের গুম হওয়ার যন্ত্রণা বুকে নিয়ে যে মেয়েটি একদিন রাস্তায় নেমেছিলেন, আজ তিনি পুরো একটি জাতির মুক্তির স্বপ্নসারথি। লৌহকপাট দিয়ে কি আর আগ্নেয়গিরি আটকে রাখা যায়? কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকেও ডা. মাহরাংয়ের বার্তা একটাই- ‘লড়াই চলবে’।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বুলেট আর গুম দিয়ে কোনো জাতির অধিকার চিরকাল দাবিয়ে রাখা যায় না। ১৯৭১ সালে বাংলায় পাকিস্তান যে ভুল করেছিল, আজও বেলুচিস্তানে তারা সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে। এখন দেখার বিষয়, ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে বেলুচিস্তানও কি বাংলাদেশের দেখানো পথে হেঁটে নিজেদের স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনতে পারবে?

আপনার মতামত লিখুন