সংবাদ

বেলুচিস্তানের আগুন কি পোড়াবে পাকিস্তানকে


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

বেলুচিস্তানের আগুন কি পোড়াবে পাকিস্তানকে
পাকিস্তানের গদরে ‘বেলুচ জাতীয় সমাবেশে’ বিওয়াইসি সমর্থকেরা। ছবি: রয়টার্স

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে সহিংসতার তীব্রতা বাড়ছে। সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) হামলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানো এই সংঘাত কি পাকিস্তানের ভাঙনের ইঙ্গিত?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি অনুযায়ী, বেলুচিস্তান নাকি পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। বাস্তবতা অবশ্য আরও জটিল। কিন্তু প্রদেশটির ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত কয়েক মাসে বিএলএর হামলার রূপ বদলে গেছে। জুলাইয়ে জিয়ারাত অঞ্চলের একটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করা হয়। পরে অপহৃত ১৮ পুলিশ সদস্যের মরদেহ পাওয়া যায়। পৃথক আরেক হামলায় নিহত হন ১১ সেনাসদস্য। পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমদ শরিফ চৌধুরী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শুধু হামলার সংখ্যা নয়, তাদের কৌশলও বদলেছে। বিএলএ এখন শুধু পাহাড়ি এলাকায় গেরিলা হামলা চালায় না, তারা সমন্বিত বহুমুখী অভিযান, মহাসড়ক অবরোধ এবং বড় নিরাপত্তা স্থাপনায় আক্রমণ করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বেলুচিস্তানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা স্বাধীনতাকামীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বলছে, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক ভিন্ন। বিএলএ বড় হামলা চালাতে সক্ষম হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে কোনো বড় শহর বা বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড শাসন করছে না।

পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে বা বিএলএ কোনো স্বীকৃত সরকার গঠন করেছে—এমন কোনো প্রমাণও নেই। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এখনও প্রদেশটির বড় শহর, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সীমান্ত, বিমানবন্দর, বন্দর ও প্রধান অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

বেলুচিস্তানের অস্থিরতা নতুন নয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছিল। তবে সংকটের শিকড় এখন আরও গভীরে। বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ (গ্যাস, তামা, সোনা) থাকা সত্ত্বেও বেলুচিস্তানের জনগণ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ।

বেলুচিস্তান সংকটের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো গুম বা জোরপূর্বক নিখোঁজের অভিযোগ। বেলুচ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, গত দুই দশকে বহু ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক ও সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে নিরাপত্তা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। অনেকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আবার কারও মরদেহ পরে প্রত্যন্ত এলাকায় পাওয়া গেছে।

পাকিস্তান সরকার সব অভিযোগ স্বীকার করে না। সরকারের বক্তব্য, নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত অনেক ব্যক্তি সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন, বিদেশে চলে গেছেন অথবা সংঘাতে নিহত হয়েছেন। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বহু ক্ষেত্রে পরিবারগুলো বছরের পর বছর কোনো তথ্য পায় না এবং কার্যকর তদন্তও হয় না।

এই ইস্যুতে বেলুচ ইয়াকজেহতি কমিটি বা বিওয়াইসি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তুলেছে। সংগঠনটির নেতা মাহরাং বেলুচ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। 

তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বিওয়াইসির বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া ও বিএলএর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ করেছে। সংগঠনটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে শান্তিপূর্ণ মানবাধিকার আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এই পরিস্থিতি বেলুচিস্তানের সংকটকে আরও জটিল করেছে। কারণ, সেখানে একদিকে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন রয়েছে, অন্যদিকে গুম, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে অহিংস আন্দোলনও চলছে। পাকিস্তান অনেক সময় উভয় ধারাকে একই নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে দেখছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

পাকিস্তানে সেনা সদস্যেদের ট্রেনে বিস্ফোরণে নিহত ২৪, দায় স্বীকার করেছে বিএলএ

বেলুচিস্তানের সংঘাতে চীনের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপেক) কেন্দ্রবিন্দু গদর বন্দর এই প্রদেশে অবস্থিত। বিএলএ এসব প্রকল্পকে ‘সম্পদ লুটের’ অংশ হিসেবে দেখে এবং একাধিকবার চীনা নাগরিক ও প্রকল্পে হামলা চালিয়েছে। এটি পাকিস্তানের জন্য বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতে পাকিস্তান এখনই ভেঙে যাচ্ছে-এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সহজ হবে না। কিন্তু এটি এও সত্যি যে, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। প্রায় আট দশক ধরে বিদ্রোহ দমন ও পুনরুত্থানের যে চক্র চলছে, সাম্প্রতিক সহিংসতা তার আরও শক্তিশালী রূপ।

বেলুচিস্তান এখনও পাকিস্তানের অংশ, এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো সেখানে কার্যকর। কিন্তু সহিংসতার সাম্প্রতিক বিস্তার দেখাচ্ছে, প্রদেশটির সংকট আর উপেক্ষা করার মতো নয়। পাকিস্তান যদি বেলুচ জনগণের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সম্পদের ন্যায্য অংশ এবং মানবাধিকারের অভিযোগগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে না পারে, তাহলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


বেলুচিস্তানের আগুন কি পোড়াবে পাকিস্তানকে

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে সহিংসতার তীব্রতা বাড়ছে। সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) হামলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানো এই সংঘাত কি পাকিস্তানের ভাঙনের ইঙ্গিত?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি অনুযায়ী, বেলুচিস্তান নাকি পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। বাস্তবতা অবশ্য আরও জটিল। কিন্তু প্রদেশটির ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত কয়েক মাসে বিএলএর হামলার রূপ বদলে গেছে। জুলাইয়ে জিয়ারাত অঞ্চলের একটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করা হয়। পরে অপহৃত ১৮ পুলিশ সদস্যের মরদেহ পাওয়া যায়। পৃথক আরেক হামলায় নিহত হন ১১ সেনাসদস্য। পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমদ শরিফ চৌধুরী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শুধু হামলার সংখ্যা নয়, তাদের কৌশলও বদলেছে। বিএলএ এখন শুধু পাহাড়ি এলাকায় গেরিলা হামলা চালায় না, তারা সমন্বিত বহুমুখী অভিযান, মহাসড়ক অবরোধ এবং বড় নিরাপত্তা স্থাপনায় আক্রমণ করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বেলুচিস্তানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা স্বাধীনতাকামীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বলছে, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক ভিন্ন। বিএলএ বড় হামলা চালাতে সক্ষম হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে কোনো বড় শহর বা বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড শাসন করছে না।

পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে বা বিএলএ কোনো স্বীকৃত সরকার গঠন করেছে—এমন কোনো প্রমাণও নেই। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এখনও প্রদেশটির বড় শহর, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সীমান্ত, বিমানবন্দর, বন্দর ও প্রধান অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

বেলুচিস্তানের অস্থিরতা নতুন নয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছিল। তবে সংকটের শিকড় এখন আরও গভীরে। বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ (গ্যাস, তামা, সোনা) থাকা সত্ত্বেও বেলুচিস্তানের জনগণ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ।

বেলুচিস্তান সংকটের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো গুম বা জোরপূর্বক নিখোঁজের অভিযোগ। বেলুচ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, গত দুই দশকে বহু ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক ও সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে নিরাপত্তা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। অনেকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আবার কারও মরদেহ পরে প্রত্যন্ত এলাকায় পাওয়া গেছে।

পাকিস্তান সরকার সব অভিযোগ স্বীকার করে না। সরকারের বক্তব্য, নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত অনেক ব্যক্তি সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন, বিদেশে চলে গেছেন অথবা সংঘাতে নিহত হয়েছেন। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বহু ক্ষেত্রে পরিবারগুলো বছরের পর বছর কোনো তথ্য পায় না এবং কার্যকর তদন্তও হয় না।

এই ইস্যুতে বেলুচ ইয়াকজেহতি কমিটি বা বিওয়াইসি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তুলেছে। সংগঠনটির নেতা মাহরাং বেলুচ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। 

তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বিওয়াইসির বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া ও বিএলএর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ করেছে। সংগঠনটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে শান্তিপূর্ণ মানবাধিকার আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এই পরিস্থিতি বেলুচিস্তানের সংকটকে আরও জটিল করেছে। কারণ, সেখানে একদিকে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন রয়েছে, অন্যদিকে গুম, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে অহিংস আন্দোলনও চলছে। পাকিস্তান অনেক সময় উভয় ধারাকে একই নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে দেখছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

পাকিস্তানে সেনা সদস্যেদের ট্রেনে বিস্ফোরণে নিহত ২৪, দায় স্বীকার করেছে বিএলএ

বেলুচিস্তানের সংঘাতে চীনের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপেক) কেন্দ্রবিন্দু গদর বন্দর এই প্রদেশে অবস্থিত। বিএলএ এসব প্রকল্পকে ‘সম্পদ লুটের’ অংশ হিসেবে দেখে এবং একাধিকবার চীনা নাগরিক ও প্রকল্পে হামলা চালিয়েছে। এটি পাকিস্তানের জন্য বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতে পাকিস্তান এখনই ভেঙে যাচ্ছে-এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সহজ হবে না। কিন্তু এটি এও সত্যি যে, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। প্রায় আট দশক ধরে বিদ্রোহ দমন ও পুনরুত্থানের যে চক্র চলছে, সাম্প্রতিক সহিংসতা তার আরও শক্তিশালী রূপ।

বেলুচিস্তান এখনও পাকিস্তানের অংশ, এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো সেখানে কার্যকর। কিন্তু সহিংসতার সাম্প্রতিক বিস্তার দেখাচ্ছে, প্রদেশটির সংকট আর উপেক্ষা করার মতো নয়। পাকিস্তান যদি বেলুচ জনগণের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সম্পদের ন্যায্য অংশ এবং মানবাধিকারের অভিযোগগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে না পারে, তাহলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত