সংবাদ

সৌদির নেতৃত্বে বহুজাতিক সামুদ্রিক নৌজোট, উদ্দেশ্য কী?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

সৌদির নেতৃত্বে বহুজাতিক সামুদ্রিক নৌজোট, উদ্দেশ্য কী?

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে নতুন একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামের এই জোটের মূল লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

জোটভুক্ত দেশগুলো একযোগে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ করবে, কারণ এই জলপথগুলো ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ার সময় এই জোট গঠনের ঘোষণাটি এলো। এর আগে বিশ্বের তেল ও জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হলেও সেখানে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হামলায় বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় রুটও বারবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, এই জোট গঠন উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছিল। ইইউর লোহিত সাগরে ‘অ্যাসপিডিস’ নামের নৌ নিরাপত্তা মিশন থাকলেও নতুন এই জোটের সঙ্গে তার পার্থক্য কী হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি।

এই জোটে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস, যার ফলে সৌদি আরবসহ মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টিতে। তবে নিরাপত্তা স্বার্থ এক হওয়া সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএইচ) ও ওমান এই জোটে যোগ দেয়নি।

​সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে একটি যৌথ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা, সামরিক মহড়া এবং সমন্বিত সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক সরঞ্জাম দেবে সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কেন বহুজাতিক জোট

সৌদি আরব জোরালোভাবে জানিয়েছে, এই জোটের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি। দেশটির ভাষ্য হচ্ছে, তাদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের মূল উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত সমুদ্রপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলা এবং অবরোধের হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে এই জোট গঠন করা হয়েছে।

এছাড়াও বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। হরমুজ প্রণালীর জটিলতার কারণে সৌদি আরব বর্তমানে লোহিত সাগরের মাধ্যমে বিকল্প পথে তেল রপ্তানি করছে। এই জ্বালানি পরিবহন রুটকে হুথি হামলা থেকে রক্ষা করা জোটের শীর্ষ অগ্রাধিকার।

তাছাড়া অংশীদার দেশগুলোর নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, তথ্য আদান-প্রদান এবং যেকোনো সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় রিয়াদে একটি সার্বক্ষণিক যৌথ অপারেশন সেন্টার পরিচালনা করা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


সৌদির নেতৃত্বে বহুজাতিক সামুদ্রিক নৌজোট, উদ্দেশ্য কী?

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে নতুন একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামের এই জোটের মূল লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

জোটভুক্ত দেশগুলো একযোগে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ করবে, কারণ এই জলপথগুলো ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ার সময় এই জোট গঠনের ঘোষণাটি এলো। এর আগে বিশ্বের তেল ও জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হলেও সেখানে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হামলায় বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় রুটও বারবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, এই জোট গঠন উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছিল। ইইউর লোহিত সাগরে ‘অ্যাসপিডিস’ নামের নৌ নিরাপত্তা মিশন থাকলেও নতুন এই জোটের সঙ্গে তার পার্থক্য কী হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি।

এই জোটে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস, যার ফলে সৌদি আরবসহ মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টিতে। তবে নিরাপত্তা স্বার্থ এক হওয়া সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএইচ) ও ওমান এই জোটে যোগ দেয়নি।

​সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে একটি যৌথ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা, সামরিক মহড়া এবং সমন্বিত সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক সরঞ্জাম দেবে সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কেন বহুজাতিক জোট

সৌদি আরব জোরালোভাবে জানিয়েছে, এই জোটের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি। দেশটির ভাষ্য হচ্ছে, তাদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের মূল উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত সমুদ্রপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলা এবং অবরোধের হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে এই জোট গঠন করা হয়েছে।

এছাড়াও বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। হরমুজ প্রণালীর জটিলতার কারণে সৌদি আরব বর্তমানে লোহিত সাগরের মাধ্যমে বিকল্প পথে তেল রপ্তানি করছে। এই জ্বালানি পরিবহন রুটকে হুথি হামলা থেকে রক্ষা করা জোটের শীর্ষ অগ্রাধিকার।

তাছাড়া অংশীদার দেশগুলোর নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, তথ্য আদান-প্রদান এবং যেকোনো সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় রিয়াদে একটি সার্বক্ষণিক যৌথ অপারেশন সেন্টার পরিচালনা করা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত