ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন আজ নয়াদিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে।
১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে জোটের ১১টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বিশ্ব অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সম্মেলন শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ বা যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছরের ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করবে চীন।
সম্মেলনে অংশ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জোটের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, "ব্রিকস কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত জোট নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে সহযোগিতা, উন্নয়ন এবং বহুপাক্ষিকতার পক্ষে কাজ করার একটি প্ল্যাটফর্ম। এখন ব্রিকসকে শুধু নতুন ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, সেই ধারণাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।"
তিনি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
একই মঞ্চে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জোটের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, "'গ্রেটার ব্রিকস'-কে আরও গভীর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।"
এই সম্মেলনে তিনি প্রযুক্তি খাতের প্রসারে 'ব্রিকস এআই ওপেন সোর্স জোন' গঠন এবং বাণিজ্য সহজ করতে আগামী বছর চীনে 'ব্রিকস সার্ভিস ট্রেড ফোরাম' আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
সম্মেলনে বিশ্ব ব্যবস্থার নতুন রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, "বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থায় ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উঠে আসছে। বিশ্বরাজনীতিতে বহুমুখী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট নিরসনে জোটবদ্ধ হয়ে আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন ব্রিকস নেতারা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত রোধে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম বজায় রেখে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।
সম্মেলনের ১৪০ অনুচ্ছেদের যৌথ ঘোষণাপত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রা ও বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি নীতি গ্রহণের বিষয়ে একমত হয়েছেন নেতারা।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। ভারতের সফলতা ও যৌথ ঘোষণাপত্রের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে ২০২৭ সালের ১৯তম ব্রিকস সম্মেলনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে চীন।

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন আজ নয়াদিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে।
১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে জোটের ১১টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বিশ্ব অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সম্মেলন শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ বা যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছরের ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করবে চীন।
সম্মেলনে অংশ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জোটের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, "ব্রিকস কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত জোট নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে সহযোগিতা, উন্নয়ন এবং বহুপাক্ষিকতার পক্ষে কাজ করার একটি প্ল্যাটফর্ম। এখন ব্রিকসকে শুধু নতুন ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, সেই ধারণাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।"
তিনি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
একই মঞ্চে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জোটের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, "'গ্রেটার ব্রিকস'-কে আরও গভীর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।"
এই সম্মেলনে তিনি প্রযুক্তি খাতের প্রসারে 'ব্রিকস এআই ওপেন সোর্স জোন' গঠন এবং বাণিজ্য সহজ করতে আগামী বছর চীনে 'ব্রিকস সার্ভিস ট্রেড ফোরাম' আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
সম্মেলনে বিশ্ব ব্যবস্থার নতুন রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, "বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থায় ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উঠে আসছে। বিশ্বরাজনীতিতে বহুমুখী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট নিরসনে জোটবদ্ধ হয়ে আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন ব্রিকস নেতারা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত রোধে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম বজায় রেখে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।
সম্মেলনের ১৪০ অনুচ্ছেদের যৌথ ঘোষণাপত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রা ও বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি নীতি গ্রহণের বিষয়ে একমত হয়েছেন নেতারা।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। ভারতের সফলতা ও যৌথ ঘোষণাপত্রের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে ২০২৭ সালের ১৯তম ব্রিকস সম্মেলনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে চীন।

আপনার মতামত লিখুন