কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সরকারি চাল জব্দ করার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উপজেলার লরাখমারা এলাকায় জব্দ করা ১৮ হাজার কেজি (৬০০ বস্তা) চাল স্থানীয় এক বিএনপি নেতার জিম্মায় রাখা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ধোঁয়াশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে সেই চাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়দের বাধায় তা পণ্ড হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৪ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লরাখমারা এলাকার একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসিন খন্দকার। তবে চালগুলো সিলগালা না করে কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদের জিম্মায় রাখা হয়। ঘটনা তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তারকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হলেও সেই তদন্ত প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হওয়ায় পুনরায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে জিম্মাদারের উপস্থিতিতেই ট্রাকযোগে চালগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে এলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চালগুলো পুনরায় গুদামে রাখা হয়।
জিম্মাদার ও বিএনপি নেতা ফারুক আহমেদ জানান, গুদামে থাকা অন্য মালামাল শুকানোর সময় মিল মালিক কিছু চালের বস্তা ট্রাকে তুলেছিলেন। খবর পেয়ে তিনি চালগুলো নামিয়ে আবার গুদামে রাখার ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে, চাল মজুতকারী জিল্লুর রহমানের দাবি, তিনি ‘কাবিখা’র চাল কিনেছিলেন এবং বৃষ্টির কারণে ভিজে যাওয়া চাল শুকাতে চেয়েছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. মো. আদনান আক্তার বলেন, ‘সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুতের বিষয়টি তদন্তাধীন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসিন খন্দকার বলেন, ‘সরকারি চাল এভাবে মজুত রাখার কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টিকে আমরা অপরাধ হিসেবেই দেখছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আপনার মতামত লিখুন