সংবাদ

৬০০ শিক্ষার্থীর একজন শিক্ষক!


মনিরুজ্জামান সরকার, লালমনিরহাট
মনিরুজ্জামান সরকার, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

৬০০ শিক্ষার্থীর একজন শিক্ষক!
লালমনিরহাটের দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন। ছবি : সংবাদ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে পাঠদান করছেন মাত্র একজন শিক্ষক। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার মান রক্ষা ও দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।

ভারতের সীমান্তবেষ্টিত এবং ঐতিহাসিক তিনবিঘা করিডর দিয়ে সংযুক্ত দহগ্রাম ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটি। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারি করা হয়। বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ২৫টি পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন কেবল একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি করণের সময় সাতজন শিক্ষক নিয়োগ পেলেও পরবর্তীতে ছয়জন শিক্ষক অবসরে গেছেন। বর্তমানে ওই একজন শিক্ষককেই প্রতিদিন প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান সামলাতে হচ্ছে। সারা দিনে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচটি ক্লাস নিতে পারেন, ফলে অধিকাংশ শ্রেণির পাঠদান পুরোপুরি বন্ধ থাকছে।

ভৌগোলিক কারণে দহগ্রামের শিক্ষার্থীদের পক্ষে উপজেলা সদরে গিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করা অত্যন্ত কঠিন। তাই স্থানীয় এই বিদ্যালয়টিই তাদের একমাত্র ভরসা। অভিভাবকরা বলছেন, এক দশকেরও বেশি সময় আগে বিদ্যালয়টি সরকারি হলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘একাধিকবার শিক্ষক চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন কোনো শিক্ষক যোগদান করেননি।’

পাটগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগ প্রদানের চেষ্টা চলছে। তবে পর্যাপ্ত শিক্ষক না পাওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


৬০০ শিক্ষার্থীর একজন শিক্ষক!

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে পাঠদান করছেন মাত্র একজন শিক্ষক। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার মান রক্ষা ও দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।

ভারতের সীমান্তবেষ্টিত এবং ঐতিহাসিক তিনবিঘা করিডর দিয়ে সংযুক্ত দহগ্রাম ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটি। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারি করা হয়। বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ২৫টি পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন কেবল একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি করণের সময় সাতজন শিক্ষক নিয়োগ পেলেও পরবর্তীতে ছয়জন শিক্ষক অবসরে গেছেন। বর্তমানে ওই একজন শিক্ষককেই প্রতিদিন প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান সামলাতে হচ্ছে। সারা দিনে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচটি ক্লাস নিতে পারেন, ফলে অধিকাংশ শ্রেণির পাঠদান পুরোপুরি বন্ধ থাকছে।

ভৌগোলিক কারণে দহগ্রামের শিক্ষার্থীদের পক্ষে উপজেলা সদরে গিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করা অত্যন্ত কঠিন। তাই স্থানীয় এই বিদ্যালয়টিই তাদের একমাত্র ভরসা। অভিভাবকরা বলছেন, এক দশকেরও বেশি সময় আগে বিদ্যালয়টি সরকারি হলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘একাধিকবার শিক্ষক চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন কোনো শিক্ষক যোগদান করেননি।’

পাটগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগ প্রদানের চেষ্টা চলছে। তবে পর্যাপ্ত শিক্ষক না পাওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত