সংবাদ

ইরান ঘিরে বিশ্বযুদ্ধের মেঘ: যুক্তরাষ্ট্রের পাশে কি দাঁড়াচ্ছে উপসাগরীয় জোট?


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

ইরান ঘিরে বিশ্বযুদ্ধের মেঘ: যুক্তরাষ্ট্রের পাশে কি দাঁড়াচ্ছে উপসাগরীয় জোট?

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনা এখন আর কেবল আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি রূপ নিতে চলেছে একটি বৈশ্বিক যুদ্ধে। এই সংঘাতে ইরান, চীন রাশিয়া একই অক্ষের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংঘাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে শেষ পর্যন্ত উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরে ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হানবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেও।

নিউইয়র্কে সাংবাদিক ম্যানাস ক্র্যানিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন সাবেক এই নীতি নির্ধারক স্পষ্টভাষায় বলেন, "এটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের চেয়েও বড়। এটি একটি বৈশ্বিক যুদ্ধ। এতে কোনো সন্দেহ নেই।"

তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, উপসাগরীয় দেশগুলো শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সাথে একত্রিত হয়ে তেহরানের বিরুদ্ধে একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

সাক্ষাৎকারে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধের কার্যকারিতা তুলে ধরে মাইক পম্পেও দাবি করেন, "আমাদের অর্থনৈতিক চাপ ইরানের ভেতরে বাস্তব প্রভাব ফেলছে। বাইরে থেকে তা দেখা না গেলেও আজ ইরানের দোকানের তাক আগের মতো পূর্ণ নয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।"

বর্তমান পরিস্থিতিতে সমাধানকল্পে তিনি অবিরাম অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সামরিক চাপের একটি সমন্বিত রূপরেখার কথা জানান।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মাঝে কোনো মতপার্থক্য নেই উল্লেখ করে পম্পেও দাবি করেন, চীন ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে। চীনের অস্বীকারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "তারা অস্বীকার করছে বলেই বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে।" পাশাপাশি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু এড়িয়ে ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের তাগিদ দেন তিনি।

বিশ্ব বাণিজ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক এই সিআইএ পরিচালক বলেন, "বিশ্বের জন্য একটি উন্মুক্ত অবাধ হরমুজ প্রণালি অপরিহার্য। বিকল্পটি অকল্পনীয়।"

সাক্ষাৎকারটি শেষ করতে গিয়ে তিনি আরও একটি বড় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পম্পেওর ভাষায়, "উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরেও সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো পশ্চিমা সভ্যতার নিজেদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলা।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


ইরান ঘিরে বিশ্বযুদ্ধের মেঘ: যুক্তরাষ্ট্রের পাশে কি দাঁড়াচ্ছে উপসাগরীয় জোট?

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনা এখন আর কেবল আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি রূপ নিতে চলেছে একটি বৈশ্বিক যুদ্ধে। এই সংঘাতে ইরান, চীন রাশিয়া একই অক্ষের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংঘাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে শেষ পর্যন্ত উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরে ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হানবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেও।

নিউইয়র্কে সাংবাদিক ম্যানাস ক্র্যানিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন সাবেক এই নীতি নির্ধারক স্পষ্টভাষায় বলেন, "এটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের চেয়েও বড়। এটি একটি বৈশ্বিক যুদ্ধ। এতে কোনো সন্দেহ নেই।"

তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, উপসাগরীয় দেশগুলো শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সাথে একত্রিত হয়ে তেহরানের বিরুদ্ধে একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

সাক্ষাৎকারে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধের কার্যকারিতা তুলে ধরে মাইক পম্পেও দাবি করেন, "আমাদের অর্থনৈতিক চাপ ইরানের ভেতরে বাস্তব প্রভাব ফেলছে। বাইরে থেকে তা দেখা না গেলেও আজ ইরানের দোকানের তাক আগের মতো পূর্ণ নয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।"

বর্তমান পরিস্থিতিতে সমাধানকল্পে তিনি অবিরাম অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সামরিক চাপের একটি সমন্বিত রূপরেখার কথা জানান।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মাঝে কোনো মতপার্থক্য নেই উল্লেখ করে পম্পেও দাবি করেন, চীন ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে। চীনের অস্বীকারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "তারা অস্বীকার করছে বলেই বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে।" পাশাপাশি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু এড়িয়ে ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের তাগিদ দেন তিনি।

বিশ্ব বাণিজ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক এই সিআইএ পরিচালক বলেন, "বিশ্বের জন্য একটি উন্মুক্ত অবাধ হরমুজ প্রণালি অপরিহার্য। বিকল্পটি অকল্পনীয়।"

সাক্ষাৎকারটি শেষ করতে গিয়ে তিনি আরও একটি বড় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পম্পেওর ভাষায়, "উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরেও সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো পশ্চিমা সভ্যতার নিজেদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলা।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত