সংবাদ

জুলাইয়ে সর্বোচ্চ রপ্তানি, তবু শঙ্কার কালো মেঘ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

জুলাইয়ে সর্বোচ্চ রপ্তানি, তবু শঙ্কার কালো মেঘ
ছবি : সংগৃহীত

গত ১২ মাসের মধ্যে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ পণ্য রপ্তানি হয়েছে জুলাইয়ে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় কিছুটা কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বাংলাদেশ থেকে ৪.৭২ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত এক বছরে চারবার রপ্তানি ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে আগের সর্বোচ্চ ছিল ৪.৪১ বিলিয়ন ডলার। তবে গত বছরের জুলাইয়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার, ফলে চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি ০.৯ শতাংশ কম। এর বিপরীতে ইতিবাচক দিক হলো, গত জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি।

বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম। সংগঠনটি অবশ্য মনে করছে, গত বছরের জুলাই ছিল দেশের পোশাক রপ্তানির ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের মাস, তাই সেই তুলনায় এবারের আয়কেও ইতিবাচক শুরু হিসেবে দেখা যায়।

পোশাক খাতের বাইরে অন্য প্রধান রপ্তানি খাতগুলোয় এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে ইপিবির তথ্যে উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্লাস্টিক পণ্যে প্রায় ২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে প্রায় ৩ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যে ৫৪ শতাংশ, হোম টেক্সটাইলে সাড়ে ১৪ শতাংশ, অন্যান্য পাদুকায় সাড়ে ৫ শতাংশ এবং বিশেষায়িত টেক্সটাইলে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

রপ্তানিকারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শুল্ক কার্যকরের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা তাড়াহুড়া করে বাড়তি পণ্য পাঠিয়েছিলেন, যে কারণে সেই মাসের রপ্তানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। এ কারণে চলতি বছরের জুলাইয়ে ভালো রপ্তানি হওয়া সত্ত্বেও তুলনামূলক প্রবৃদ্ধি সামান্য নেতিবাচক দেখাচ্ছে।

বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও অনন্ত গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইনামুল হক খান বাবলু মনে করেন, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা কম। জ্বালানি সংকটের কারণে ক্রেতারা উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি পোল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এলপিপির সঙ্গে সৃষ্ট জটিলতাকেও নতুন উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। জানা গেছে, এলপিপির মাধ্যমে রুশ ক্রেতাদের কাছে রপ্তানি করা প্রায় ৪ কোটি ডলারের অর্থ পরিশোধ আটকে আছে, যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে। তবে আগামী জানুয়ারি নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন রপ্তানিকারক সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার অন্য দেশে সরিয়ে নিতে পারেন। বিজিএমইএ বলছে, তীব্র গ্যাস সংকট ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া সত্ত্বেও দেশের পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


জুলাইয়ে সর্বোচ্চ রপ্তানি, তবু শঙ্কার কালো মেঘ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গত ১২ মাসের মধ্যে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ পণ্য রপ্তানি হয়েছে জুলাইয়ে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় কিছুটা কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বাংলাদেশ থেকে ৪.৭২ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত এক বছরে চারবার রপ্তানি ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে আগের সর্বোচ্চ ছিল ৪.৪১ বিলিয়ন ডলার। তবে গত বছরের জুলাইয়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার, ফলে চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি ০.৯ শতাংশ কম। এর বিপরীতে ইতিবাচক দিক হলো, গত জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি।

বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম। সংগঠনটি অবশ্য মনে করছে, গত বছরের জুলাই ছিল দেশের পোশাক রপ্তানির ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের মাস, তাই সেই তুলনায় এবারের আয়কেও ইতিবাচক শুরু হিসেবে দেখা যায়।

পোশাক খাতের বাইরে অন্য প্রধান রপ্তানি খাতগুলোয় এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে ইপিবির তথ্যে উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্লাস্টিক পণ্যে প্রায় ২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে প্রায় ৩ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যে ৫৪ শতাংশ, হোম টেক্সটাইলে সাড়ে ১৪ শতাংশ, অন্যান্য পাদুকায় সাড়ে ৫ শতাংশ এবং বিশেষায়িত টেক্সটাইলে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

রপ্তানিকারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শুল্ক কার্যকরের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা তাড়াহুড়া করে বাড়তি পণ্য পাঠিয়েছিলেন, যে কারণে সেই মাসের রপ্তানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। এ কারণে চলতি বছরের জুলাইয়ে ভালো রপ্তানি হওয়া সত্ত্বেও তুলনামূলক প্রবৃদ্ধি সামান্য নেতিবাচক দেখাচ্ছে।

বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও অনন্ত গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইনামুল হক খান বাবলু মনে করেন, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা কম। জ্বালানি সংকটের কারণে ক্রেতারা উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি পোল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এলপিপির সঙ্গে সৃষ্ট জটিলতাকেও নতুন উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। জানা গেছে, এলপিপির মাধ্যমে রুশ ক্রেতাদের কাছে রপ্তানি করা প্রায় ৪ কোটি ডলারের অর্থ পরিশোধ আটকে আছে, যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে। তবে আগামী জানুয়ারি নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন রপ্তানিকারক সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার অন্য দেশে সরিয়ে নিতে পারেন। বিজিএমইএ বলছে, তীব্র গ্যাস সংকট ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া সত্ত্বেও দেশের পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখাচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত