নরসিংদীতে একসময়ের ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে পরিচিত পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা। ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, শ্রমিকের বাড়তি মজুরি আর পাট পচানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকটে জেলায় পাটের আবাদ দিন দিন বিলুপ্তির পথে। পাটের বদলে কৃষকরা এখন সবজি ও স্বল্পমেয়াদি লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদন খরচের তুলনায় পাটের বাজারমূল্য অনেক কম। ১ বিঘা জমিতে মাত্র ৩-৪ মণ পাট উৎপন্ন হয়, যা বর্তমানে মণপ্রতি সর্বোচ্চ ৩,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এই পরিমাণ পাট ফলাতে ও বাজারজাত করতে যে পরিমাণ শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়, তাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।
শিবপুর উপজেলার জালাল মিয়া জানান, আগে খালে-বিলে প্রচুর পানি থাকত, কিন্তু এখন পানির অভাবে পাট পচানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ডোবা বা গর্তের অল্প পানিতে পাট পচাতে গিয়ে আঁশের রং নষ্ট হয়ে যায়, ফলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায় না।
একই আক্ষেপ রায়পুরার বাখানগর গ্রামের কৃষক তাজুলের। তিনি বলেন, '৮০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক নিয়ে পাট চাষ করে এখন আর লাভ থাকে না। পাটের বদলে সবজি চাষ করলে বছরে বিঘাপ্রতি ১০-২০ হাজার টাকা অনায়াসেই লাভ হয়।' অনেক কৃষক এখন পাটের জমি ছেড়ে পটল, লতি বা অন্যান্য মৌসুমি সবজি চাষে মন দিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত মৌসুমে ২ হাজার ৫০৬ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছিল ২ হাজার ৪৩৪ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৪৩৮ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৪৩৬ হেক্টরে। পরিসংখ্যানগতভাবে আবাদ সামান্য বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজল হক বলেন, 'বৈরী আবহাওয়া ও পানির সংকটের কারণে অনেক কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তারা এখন দ্রুত লাভজনক সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। তবে আমরা কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছি এবং রিবন রেটিং বা বিকল্প পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে পরিবেশবান্ধব এই ফসলের ঐতিহ্য টিকে থাকে।'
কৃষকদের মতে, পাট পরিবেশবান্ধব এবং জমির উর্বরতা বাড়ায়। তবে সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পাট কেনার ব্যবস্থা না করলে এবং পানির সমস্যা সমাধান না হলে ভবিষ্যতে নরসিংদীতে পাটের চাষ কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
নরসিংদীতে একসময়ের ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে পরিচিত পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা। ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, শ্রমিকের বাড়তি মজুরি আর পাট পচানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকটে জেলায় পাটের আবাদ দিন দিন বিলুপ্তির পথে। পাটের বদলে কৃষকরা এখন সবজি ও স্বল্পমেয়াদি লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদন খরচের তুলনায় পাটের বাজারমূল্য অনেক কম। ১ বিঘা জমিতে মাত্র ৩-৪ মণ পাট উৎপন্ন হয়, যা বর্তমানে মণপ্রতি সর্বোচ্চ ৩,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এই পরিমাণ পাট ফলাতে ও বাজারজাত করতে যে পরিমাণ শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়, তাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।
শিবপুর উপজেলার জালাল মিয়া জানান, আগে খালে-বিলে প্রচুর পানি থাকত, কিন্তু এখন পানির অভাবে পাট পচানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ডোবা বা গর্তের অল্প পানিতে পাট পচাতে গিয়ে আঁশের রং নষ্ট হয়ে যায়, ফলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায় না।
একই আক্ষেপ রায়পুরার বাখানগর গ্রামের কৃষক তাজুলের। তিনি বলেন, '৮০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক নিয়ে পাট চাষ করে এখন আর লাভ থাকে না। পাটের বদলে সবজি চাষ করলে বছরে বিঘাপ্রতি ১০-২০ হাজার টাকা অনায়াসেই লাভ হয়।' অনেক কৃষক এখন পাটের জমি ছেড়ে পটল, লতি বা অন্যান্য মৌসুমি সবজি চাষে মন দিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত মৌসুমে ২ হাজার ৫০৬ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছিল ২ হাজার ৪৩৪ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৪৩৮ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৪৩৬ হেক্টরে। পরিসংখ্যানগতভাবে আবাদ সামান্য বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজল হক বলেন, 'বৈরী আবহাওয়া ও পানির সংকটের কারণে অনেক কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তারা এখন দ্রুত লাভজনক সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। তবে আমরা কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছি এবং রিবন রেটিং বা বিকল্প পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে পরিবেশবান্ধব এই ফসলের ঐতিহ্য টিকে থাকে।'
কৃষকদের মতে, পাট পরিবেশবান্ধব এবং জমির উর্বরতা বাড়ায়। তবে সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পাট কেনার ব্যবস্থা না করলে এবং পানির সমস্যা সমাধান না হলে ভবিষ্যতে নরসিংদীতে পাটের চাষ কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন