পাহাড়ের বুক চিরে ঝরঝর শব্দে নেমে আসছে শীতল জলরাশি। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে আছড়ে পড়া সেই পানির ধারা নিচে তৈরি করেছে এক বিশাল কুণ্ড। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ের এই মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ঘিরেই প্রকৃতিপ্রেমীদের আজন্ম মুগ্ধতা। পাহাড়, অরণ্য আর জলধারার এমন মিতালি দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক ভিড় করেন এখানে।
পাহাড়ের চূড়া থেকে পাথুরে গা বেয়ে নেমে আসা পানির এই অবিরাম স্রোত নিচে তৈরি করেছে গভীর এক জলাধার, যা স্থানীয়ভাবে ‘কুণ্ড’ নামে পরিচিত। এই কুণ্ড থেকেই শান্ত জলধারা ‘মাধবছড়া’ হয়ে বয়ে চলেছে। চারপাশের ঘন সবুজ বন আর ঝরনার পতনের শব্দ মিলে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়েছে এখানে।
মাধবকুণ্ড নামের পেছনে রয়েছে নানা লোকগাথা। জনশ্রুতি আছে, শ্রীহট্টের রাজা গোবর্ধন এখানে এক ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসীর দেখা পান। সেই সন্ন্যাসীর বিসর্জনের সময় ‘মাধব, মাধব, মাধব’ ধ্বনি শোনা গিয়েছিল বলে এর নাম হয় মাধবকুণ্ড। আবার কারো মতে, মহাদেবের আরেক নাম মাধব হওয়ার কারণেই এই নামকরণ। পর্যটকদের বাড়তি পাওনা হিসেবে মূল জলপ্রপাতের পাশেই রয়েছে একটি প্রাচীন শিবমন্দির।
মাধবকুণ্ডের পাথুরে পাহাড়ের ওপরের অংশে রয়েছে ‘গঙ্গামারা ছড়া’। বর্ষাকালে ঝরনার রূপ হয় আরও প্রমত্তা। তখন মূল জলপ্রপাতের পাশে ‘পরিকুণ্ড’ নামে আরেকটি ছোট ঝরনাও জীবন্ত হয়ে ওঠে। ১৩৪২ সালে এক সন্ন্যাসীর তৈরি করা কমলা বাগান আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঝরনার পাশেই।
যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও স্থানটি বেশ সহজগম্য। মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে কুলাউড়া ও জুড়ী হয়ে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই মাধবকুণ্ডের দেখা মেলে। পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এখানে রেস্টুরেন্ট, রেস্টহাউস ও বিশ্রামের জন্য শেড তৈরি করেছে। স্থানীয়রা মনে করেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা আরও কিছুটা বাড়ানো গেলে এই পর্যটনকেন্দ্রটি বিশ্বজুড়ে আরও পরিচিতি পাবে।

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
পাহাড়ের বুক চিরে ঝরঝর শব্দে নেমে আসছে শীতল জলরাশি। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে আছড়ে পড়া সেই পানির ধারা নিচে তৈরি করেছে এক বিশাল কুণ্ড। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ের এই মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ঘিরেই প্রকৃতিপ্রেমীদের আজন্ম মুগ্ধতা। পাহাড়, অরণ্য আর জলধারার এমন মিতালি দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক ভিড় করেন এখানে।
পাহাড়ের চূড়া থেকে পাথুরে গা বেয়ে নেমে আসা পানির এই অবিরাম স্রোত নিচে তৈরি করেছে গভীর এক জলাধার, যা স্থানীয়ভাবে ‘কুণ্ড’ নামে পরিচিত। এই কুণ্ড থেকেই শান্ত জলধারা ‘মাধবছড়া’ হয়ে বয়ে চলেছে। চারপাশের ঘন সবুজ বন আর ঝরনার পতনের শব্দ মিলে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়েছে এখানে।
মাধবকুণ্ড নামের পেছনে রয়েছে নানা লোকগাথা। জনশ্রুতি আছে, শ্রীহট্টের রাজা গোবর্ধন এখানে এক ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসীর দেখা পান। সেই সন্ন্যাসীর বিসর্জনের সময় ‘মাধব, মাধব, মাধব’ ধ্বনি শোনা গিয়েছিল বলে এর নাম হয় মাধবকুণ্ড। আবার কারো মতে, মহাদেবের আরেক নাম মাধব হওয়ার কারণেই এই নামকরণ। পর্যটকদের বাড়তি পাওনা হিসেবে মূল জলপ্রপাতের পাশেই রয়েছে একটি প্রাচীন শিবমন্দির।
মাধবকুণ্ডের পাথুরে পাহাড়ের ওপরের অংশে রয়েছে ‘গঙ্গামারা ছড়া’। বর্ষাকালে ঝরনার রূপ হয় আরও প্রমত্তা। তখন মূল জলপ্রপাতের পাশে ‘পরিকুণ্ড’ নামে আরেকটি ছোট ঝরনাও জীবন্ত হয়ে ওঠে। ১৩৪২ সালে এক সন্ন্যাসীর তৈরি করা কমলা বাগান আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঝরনার পাশেই।
যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও স্থানটি বেশ সহজগম্য। মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে কুলাউড়া ও জুড়ী হয়ে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই মাধবকুণ্ডের দেখা মেলে। পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এখানে রেস্টুরেন্ট, রেস্টহাউস ও বিশ্রামের জন্য শেড তৈরি করেছে। স্থানীয়রা মনে করেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা আরও কিছুটা বাড়ানো গেলে এই পর্যটনকেন্দ্রটি বিশ্বজুড়ে আরও পরিচিতি পাবে।

আপনার মতামত লিখুন