ছুটিতে বাড়ি ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল মোহনের। পরিবারের জন্য শুরু করেছিলেন পাকা ঘর তোলার কাজ। বলেছিলেন, এবার ফিরে এসে ধুমধাম করে বিয়ে করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের রিয়াদে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেছে মোহনের। শুধু মোহনই নন, একই আগুনে পুড়ে মারা গেছেন তার বড় ভাই সুমনও। দুই ছেলেকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় মা ময়না খাতুন।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর দুইটার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই কারখানায় কর্মরত অবস্থায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন শ্রমিক নিহত হন। এর মধ্যে গন্ডগোহালী গ্রামের দুই ভাই মোহন ও সুমনের মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে গন্ডগোহালী গ্রামে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকাতুর পরিবেশ। মা ময়না খাতুন বিলাপ করে বলছিলেন, “বড় ছাওয়াল সাত বছর আর মেজো ছাওয়াল দুই বছর ধরে বিদেশে। কোনোদিন ছুটিতে আসেনি। কেবল দেনা শোধ করে বাড়ির কাজ শুরু করেছিল। মোহন বলেছিল, এসে বিয়া করবে। আমার বাবাদের আর আসা হলো না।”
অগ্নিদগ্ধ হওয়ার সময় মোহন তার মাকে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেই শেষ বার্তার কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা ময়না। মোহন বলেছিলেন, ‘মাগো, আমি আর কথা কমু না। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।’
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, আগুনে পুড়ে এখন পর্যন্ত আত্রাই উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
নিহত অন্যরা হলেন–আত্রাইয়ের বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫), হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), সাগর (৩১), মজিদুল (৩৪), গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল হোসেন (৩০), কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল (৩৮) এবং উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২)।

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
ছুটিতে বাড়ি ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল মোহনের। পরিবারের জন্য শুরু করেছিলেন পাকা ঘর তোলার কাজ। বলেছিলেন, এবার ফিরে এসে ধুমধাম করে বিয়ে করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের রিয়াদে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেছে মোহনের। শুধু মোহনই নন, একই আগুনে পুড়ে মারা গেছেন তার বড় ভাই সুমনও। দুই ছেলেকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় মা ময়না খাতুন।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর দুইটার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই কারখানায় কর্মরত অবস্থায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন শ্রমিক নিহত হন। এর মধ্যে গন্ডগোহালী গ্রামের দুই ভাই মোহন ও সুমনের মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে গন্ডগোহালী গ্রামে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকাতুর পরিবেশ। মা ময়না খাতুন বিলাপ করে বলছিলেন, “বড় ছাওয়াল সাত বছর আর মেজো ছাওয়াল দুই বছর ধরে বিদেশে। কোনোদিন ছুটিতে আসেনি। কেবল দেনা শোধ করে বাড়ির কাজ শুরু করেছিল। মোহন বলেছিল, এসে বিয়া করবে। আমার বাবাদের আর আসা হলো না।”
অগ্নিদগ্ধ হওয়ার সময় মোহন তার মাকে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেই শেষ বার্তার কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা ময়না। মোহন বলেছিলেন, ‘মাগো, আমি আর কথা কমু না। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।’
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, আগুনে পুড়ে এখন পর্যন্ত আত্রাই উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
নিহত অন্যরা হলেন–আত্রাইয়ের বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫), হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), সাগর (৩১), মজিদুল (৩৪), গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল হোসেন (৩০), কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল (৩৮) এবং উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২)।

আপনার মতামত লিখুন