বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের সংকট কাটাতে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছেছে ইরান। তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ওমানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী নৌপথ বা ‘সাময়িক রুট’ নিশ্চিত করার আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই অচলাবস্থা কাটাতে ইরান ও ওমানের এই সম্ভাব্য চুক্তিকে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যেকোনো সমঝোতা স্মারকে কিছু লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে লড়াইয়ের বদলে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য একটি বিশেষ যৌথ দল গঠন করা উচিত।’ তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তি করার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়।
তবে চুক্তি কাছাকাছি হলেও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হওয়া নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল ওমানের সঙ্গে চুক্তিই যথেষ্ঠ নয়; এই পথ সচল হওয়া নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের ওপর। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে এবং দেশটিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আপাতত নতুন কোনো সামরিক অভিযানে না গিয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কৌশল বজায় রাখবেন। যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করার ঘোষণা এলে তারা ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে পারে।
বিগত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠলেও ইরান তা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ওমান সরকার সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে হাঁটার ওপর জোর দিচ্ছে।

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের সংকট কাটাতে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছেছে ইরান। তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ওমানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী নৌপথ বা ‘সাময়িক রুট’ নিশ্চিত করার আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই অচলাবস্থা কাটাতে ইরান ও ওমানের এই সম্ভাব্য চুক্তিকে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যেকোনো সমঝোতা স্মারকে কিছু লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে লড়াইয়ের বদলে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য একটি বিশেষ যৌথ দল গঠন করা উচিত।’ তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তি করার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়।
তবে চুক্তি কাছাকাছি হলেও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হওয়া নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল ওমানের সঙ্গে চুক্তিই যথেষ্ঠ নয়; এই পথ সচল হওয়া নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের ওপর। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে এবং দেশটিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আপাতত নতুন কোনো সামরিক অভিযানে না গিয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কৌশল বজায় রাখবেন। যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করার ঘোষণা এলে তারা ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে পারে।
বিগত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠলেও ইরান তা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ওমান সরকার সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে হাঁটার ওপর জোর দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন