চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ বছর পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) বোর্ড মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল ঘোষণা করা হয়।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বোর্ডের বিভাগভিত্তিক ফল, মহানগর ও জেলাভিত্তিক ফল এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা পারফরম্যান্স–সব সূচকই এবার নিম্নমুখী।
সোমবার বেলা ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার ফলাফল বিস্তারিত তুলে ধরেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এ এম এম পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।
বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে দুই হাজারেরও বেশি। গত বছর ১১ হাজার ৮৪৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জনে। অর্থাৎ এ বছর ২ হাজার ৪৪৫ জন কম শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও দেখা গেছে চরম ধস। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা মানবিক বিভাগে; এখানে পাসের হার ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে নেমেছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশে।
দুর্গম ও পাহাড়ি জেলাগুলোতে পাসের হার সবচেয়ে বেশি কমেছে। খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার গত বছরের ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে নেমে এবার মাত্র ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ হয়েছে। রাঙামাটিতে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ছিল ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের ফলাফল বড় ধরনের ছন্দপতন হিসেবে দেখছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, এ বছর ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। সাধারণত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার তিন সপ্তাহ বিলম্বে ১০ আগস্ট ফল প্রকাশিত হলো। এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ড থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ বছর পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) বোর্ড মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল ঘোষণা করা হয়।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বোর্ডের বিভাগভিত্তিক ফল, মহানগর ও জেলাভিত্তিক ফল এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা পারফরম্যান্স–সব সূচকই এবার নিম্নমুখী।
সোমবার বেলা ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার ফলাফল বিস্তারিত তুলে ধরেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এ এম এম পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।
বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে দুই হাজারেরও বেশি। গত বছর ১১ হাজার ৮৪৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জনে। অর্থাৎ এ বছর ২ হাজার ৪৪৫ জন কম শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও দেখা গেছে চরম ধস। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা মানবিক বিভাগে; এখানে পাসের হার ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে নেমেছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশে।
দুর্গম ও পাহাড়ি জেলাগুলোতে পাসের হার সবচেয়ে বেশি কমেছে। খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার গত বছরের ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে নেমে এবার মাত্র ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ হয়েছে। রাঙামাটিতে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ছিল ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের ফলাফল বড় ধরনের ছন্দপতন হিসেবে দেখছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, এ বছর ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। সাধারণত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার তিন সপ্তাহ বিলম্বে ১০ আগস্ট ফল প্রকাশিত হলো। এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ড থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।

আপনার মতামত লিখুন