সংবাদ

দারিদ্র্য দমাতে পারেনি মেধাবী আলীকে, লক্ষ্যে এখন বুয়েট


প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০১:১০ পিএম

দারিদ্র্য দমাতে পারেনি মেধাবী আলীকে, লক্ষ্যে এখন বুয়েট
ছবি : সংবাদ

ভোরবেলা সাইকেলে চড়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে খবর পৌঁছে দেন বাবা নজরুল ইসলাম। সেই খবরের কাগজের পাতায় একদিন নিজের ছেলের সাফল্যের খবর ছাপা হবে–এমনই এক রঙিন স্বপ্ন বুনতেন তিনি। বাবার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে ছেলে মো. আলী হাছান। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে এখন সে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

আলী হাছান যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা নজরুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে পত্রিকা এজেন্ট ও বিক্রেতা হিসেবে কাজ করছেন। মা রোকেয়া বেগম গৃহিণী। সংসারের টানাপোড়েন থাকলেও ছেলের পড়াশোনার বিষয়ে কখনোই আপস করেননি এই দম্পতি।

ঝিকরগাছা উপজেলার আকিজ কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল আলী। তার অভাবনীয় এই সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, আনন্দিত শিক্ষক ও এলাকাবাসীও। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার ১৪৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও আলীর ফলাফল সবাইকে মুগ্ধ করেছে।

নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে আলী হাছান জানায়, ‘ছোটবেলা থেকেই অভাব দেখেছি, কিন্তু সেটাকে বাধা হতে দিইনি। শিক্ষকদের পরামর্শ আর বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণাই আমার মূল শক্তি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা করে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হতে চাই।’

ছেলের সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে পত্রিকা বিক্রি করি শুধু সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে। আজ মনে হচ্ছে আমার কষ্ট সার্থক। সাধ্যমতো চেষ্টা করব ছেলের প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে।’

আকিজ কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকরা মনে করছেন, আলী হাছান তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছে যে মেধা ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো সীমাবদ্ধতা জয় করা সম্ভব। স্থানীয়রা আলীর এই অর্জনকে অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য বড় একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


দারিদ্র্য দমাতে পারেনি মেধাবী আলীকে, লক্ষ্যে এখন বুয়েট

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভোরবেলা সাইকেলে চড়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে খবর পৌঁছে দেন বাবা নজরুল ইসলাম। সেই খবরের কাগজের পাতায় একদিন নিজের ছেলের সাফল্যের খবর ছাপা হবে–এমনই এক রঙিন স্বপ্ন বুনতেন তিনি। বাবার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে ছেলে মো. আলী হাছান। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে এখন সে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

আলী হাছান যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা নজরুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে পত্রিকা এজেন্ট ও বিক্রেতা হিসেবে কাজ করছেন। মা রোকেয়া বেগম গৃহিণী। সংসারের টানাপোড়েন থাকলেও ছেলের পড়াশোনার বিষয়ে কখনোই আপস করেননি এই দম্পতি।

ঝিকরগাছা উপজেলার আকিজ কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল আলী। তার অভাবনীয় এই সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, আনন্দিত শিক্ষক ও এলাকাবাসীও। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার ১৪৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও আলীর ফলাফল সবাইকে মুগ্ধ করেছে।

নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে আলী হাছান জানায়, ‘ছোটবেলা থেকেই অভাব দেখেছি, কিন্তু সেটাকে বাধা হতে দিইনি। শিক্ষকদের পরামর্শ আর বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণাই আমার মূল শক্তি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা করে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হতে চাই।’

ছেলের সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে পত্রিকা বিক্রি করি শুধু সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে। আজ মনে হচ্ছে আমার কষ্ট সার্থক। সাধ্যমতো চেষ্টা করব ছেলের প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে।’

আকিজ কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকরা মনে করছেন, আলী হাছান তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছে যে মেধা ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো সীমাবদ্ধতা জয় করা সম্ভব। স্থানীয়রা আলীর এই অর্জনকে অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য বড় একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত