কক্সবাজার জেলা কারাগারের অতি সংবেদনশীল পশ্চিম পাশের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে গড়ে উঠছে এক ভয়ংকর সাম্রাজ্য। সরকারি খাসজমি ও পাহাড় দখল করে সেখানে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কেটে ও বন উজাড় করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে অপরাধীদের আস্তানা। এমনকি প্রশাসনের গতিবিধি নজরদারি করতে বনের গাছে গাছে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।
মাটিয়াতলী এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই এলাকাটি চট্টগ্রামের ‘জঙ্গল সলিমপুরের’ মতো অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে। পাহাড়ের বুক চিরে মাটি বিক্রি, বন নিধন এবং মাদক ও অস্ত্র কারবারিদের অভয়ারণ্য তৈরি করা হচ্ছে এখানে। প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের ভয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না।
এলাকাবাসীর অভিযোগের আঙুল শাহাবুদ্দিন ও আবদুল আজিজের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেটের দিকে। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় শহিদ, সাহেদ ও আবু তাহেরসহ বেশ কয়েকজন এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রশাসনের তৎপরতা টের পাওয়ার জন্য তারা পুরো এলাকায় এক ধরণের নিজস্ব ‘নজরদারি নেটওয়ার্ক’ গড়ে তুলেছে।
সরকারি জমি উদ্ধারে গত ২০ জানুয়ারি (২০২৬) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা ভূমি অফিসকে চিঠি দেওয়া হলেও ছয় মাস ধরে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিয়ুর রহমান বলেন, ‘আমি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছি। পাহাড় কাটা ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগটি পেয়েছি। দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
কারাগারের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেল সুপার মো. ওবাইদুল হক। তিনি বলেন, ‘কারাগারের পাশের পাহাড়ে অবৈধ বসতি গড়ে ওঠায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমরা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও বাইরের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের একজন আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) বাদল মিঞা বলেন, ‘কাশেমের আস্তানা সম্পর্কে আমরা অবগত। সে বর্তমানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং তাকে ধরতে অভিযান চলছে।’
প্রশাসনের আশ্বাসের পরও পাহাড় কাটার মহোৎসব থামেনি। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় এবং কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
কক্সবাজার জেলা কারাগারের অতি সংবেদনশীল পশ্চিম পাশের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে গড়ে উঠছে এক ভয়ংকর সাম্রাজ্য। সরকারি খাসজমি ও পাহাড় দখল করে সেখানে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কেটে ও বন উজাড় করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে অপরাধীদের আস্তানা। এমনকি প্রশাসনের গতিবিধি নজরদারি করতে বনের গাছে গাছে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।
মাটিয়াতলী এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই এলাকাটি চট্টগ্রামের ‘জঙ্গল সলিমপুরের’ মতো অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে। পাহাড়ের বুক চিরে মাটি বিক্রি, বন নিধন এবং মাদক ও অস্ত্র কারবারিদের অভয়ারণ্য তৈরি করা হচ্ছে এখানে। প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের ভয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না।
এলাকাবাসীর অভিযোগের আঙুল শাহাবুদ্দিন ও আবদুল আজিজের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেটের দিকে। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় শহিদ, সাহেদ ও আবু তাহেরসহ বেশ কয়েকজন এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রশাসনের তৎপরতা টের পাওয়ার জন্য তারা পুরো এলাকায় এক ধরণের নিজস্ব ‘নজরদারি নেটওয়ার্ক’ গড়ে তুলেছে।
সরকারি জমি উদ্ধারে গত ২০ জানুয়ারি (২০২৬) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা ভূমি অফিসকে চিঠি দেওয়া হলেও ছয় মাস ধরে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিয়ুর রহমান বলেন, ‘আমি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছি। পাহাড় কাটা ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগটি পেয়েছি। দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
কারাগারের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেল সুপার মো. ওবাইদুল হক। তিনি বলেন, ‘কারাগারের পাশের পাহাড়ে অবৈধ বসতি গড়ে ওঠায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমরা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও বাইরের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের একজন আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) বাদল মিঞা বলেন, ‘কাশেমের আস্তানা সম্পর্কে আমরা অবগত। সে বর্তমানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং তাকে ধরতে অভিযান চলছে।’
প্রশাসনের আশ্বাসের পরও পাহাড় কাটার মহোৎসব থামেনি। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় এবং কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন