সংবাদ

মহাকাশে এলিয়েন খুঁজছে চীনের দানবীয় চোখ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

মহাকাশে এলিয়েন খুঁজছে চীনের দানবীয় চোখ
ছবি : সংগৃহীত

কল্পনা করুন পাহাড়ের চূড়ায় বসানো দানবীয় আকৃতির রান্নার এক কড়াই বা ডিশ, যার আয়তন আধা কিলোমিটার। এর ভেতরে অনায়াসেই সাজিয়ে রাখা যাবে অন্তত ৩০টি ফুটবল মাঠ। শুনতে সায়েন্স ফিকশন মনে হলেও এটিই বর্তমান পৃথিবীর বাস্তব এবং সবচেয়ে বড় রেডিও টেলিস্কোপ, যার নাম 'ফাস্ট' (FAST–Five-hundred-meter Aperture Spherical Telescope)। চীনারা আদর করে একে ডাকে ‘থিয়ান ইয়ান’ বা ‘স্বর্গের চোখ’।

টেলিস্কোপের অবস্থান 

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমের গুইঝু প্রদেশের পিংতাং কাউন্টির এক গভীর পাহাড়ি উপত্যকায় এটি স্থাপন করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ের প্রাকৃতিক গর্তকে কাজে লাগিয়েই এটি তৈরি করা হয়েছে, যাতে চারপাশের পাহাড়গুলো বাইরের রেডিও তরঙ্গ থেকে একে সুরক্ষা দিতে পারে।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক মহাকাব্য

টেলিস্কোপটির ইলেকট্রনিক্স বা মেকানিক্সের চেয়েও বিস্ময়কর এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। এমন একটি অর্ধগোলাকার পাহাড়ি উপত্যকা খুঁজে পেতে বিজ্ঞানীদের সময় লেগেছিল দীর্ঘ ১০ বছর। নিখুঁতভাবে আধা কিলোমিটার ব্যাসের একটি ডিশ সেখানে বসানো ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ভূমিধস, অতিবৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস এবং ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার সক্ষমতা রেখেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হলেও ২০২১ সালে এটি বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

মূল কাজ কী?

মহাবিশ্বের সুদূরপ্রসারী ও অতি দুর্বল রেডিও সিগন্যাল শনাক্ত করাই এর প্রধান কাজ। এছাড়া এটি নিচের বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছে:

১. পালসার শনাক্তকরণ: মহাকাশের নিউট্রন স্টার বা পালসার থেকে আসা সংকেত বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বের বিবর্তন বোঝা।

২. দুর্বল রেডিও তরঙ্গ: পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের গ্যালাক্সি থেকে আসা অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ এটি ধারণ করতে পারে।

৩. ভিনগ্রহের প্রাণীর খোঁজ: মহাবিশ্বের অন্য কোথাও কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী বা এলিয়েন আছে কি না, তাদের পাঠানো কোনো সংকেত পৃথিবীতে পৌঁছাচ্ছে কি না–তা বিশ্লেষণ করা ‘ফাস্ট’-এর অন্যতম লক্ষ্য।

অনেকে এই টেলিস্কোপটিকে ‘পৃথিবীর কান’-ও বলে থাকে, কারণ এটা এতটাই সংবেদনশীল যে, চাঁদে বসে কেউ যদি মোবাইল ফোনে কথা বলে, তবে সেই সিগন্যালও শনাক্ত করতে সক্ষম এই টেলিস্কোপ। এর বিশাল আয়তন একে মহাকাশের সংকেত ধরার ক্ষেত্রে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমে পরিণত করেছে। এর আগে পুয়ের্তো রিকোর ‘আরেসিবো’ ছিল বিশ্বের বৃহত্তম টেলিস্কোপ, যাকে পেছনে ফেলে চীন এখন মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য জানান দিচ্ছে।

মহাকাশ বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী এই টেলিস্কোপটি মানবসভ্যতার জন্য এমন কিছু তথ্য নিয়ে আসতে পারে, যা হয়তো বদলে দেবে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত সব ধারণা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


মহাকাশে এলিয়েন খুঁজছে চীনের দানবীয় চোখ

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কল্পনা করুন পাহাড়ের চূড়ায় বসানো দানবীয় আকৃতির রান্নার এক কড়াই বা ডিশ, যার আয়তন আধা কিলোমিটার। এর ভেতরে অনায়াসেই সাজিয়ে রাখা যাবে অন্তত ৩০টি ফুটবল মাঠ। শুনতে সায়েন্স ফিকশন মনে হলেও এটিই বর্তমান পৃথিবীর বাস্তব এবং সবচেয়ে বড় রেডিও টেলিস্কোপ, যার নাম 'ফাস্ট' (FAST–Five-hundred-meter Aperture Spherical Telescope)। চীনারা আদর করে একে ডাকে ‘থিয়ান ইয়ান’ বা ‘স্বর্গের চোখ’।

টেলিস্কোপের অবস্থান 

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমের গুইঝু প্রদেশের পিংতাং কাউন্টির এক গভীর পাহাড়ি উপত্যকায় এটি স্থাপন করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ের প্রাকৃতিক গর্তকে কাজে লাগিয়েই এটি তৈরি করা হয়েছে, যাতে চারপাশের পাহাড়গুলো বাইরের রেডিও তরঙ্গ থেকে একে সুরক্ষা দিতে পারে।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক মহাকাব্য

টেলিস্কোপটির ইলেকট্রনিক্স বা মেকানিক্সের চেয়েও বিস্ময়কর এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। এমন একটি অর্ধগোলাকার পাহাড়ি উপত্যকা খুঁজে পেতে বিজ্ঞানীদের সময় লেগেছিল দীর্ঘ ১০ বছর। নিখুঁতভাবে আধা কিলোমিটার ব্যাসের একটি ডিশ সেখানে বসানো ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ভূমিধস, অতিবৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস এবং ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার সক্ষমতা রেখেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হলেও ২০২১ সালে এটি বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

মূল কাজ কী?

মহাবিশ্বের সুদূরপ্রসারী ও অতি দুর্বল রেডিও সিগন্যাল শনাক্ত করাই এর প্রধান কাজ। এছাড়া এটি নিচের বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছে:

১. পালসার শনাক্তকরণ: মহাকাশের নিউট্রন স্টার বা পালসার থেকে আসা সংকেত বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বের বিবর্তন বোঝা।

২. দুর্বল রেডিও তরঙ্গ: পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের গ্যালাক্সি থেকে আসা অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ এটি ধারণ করতে পারে।

৩. ভিনগ্রহের প্রাণীর খোঁজ: মহাবিশ্বের অন্য কোথাও কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী বা এলিয়েন আছে কি না, তাদের পাঠানো কোনো সংকেত পৃথিবীতে পৌঁছাচ্ছে কি না–তা বিশ্লেষণ করা ‘ফাস্ট’-এর অন্যতম লক্ষ্য।

অনেকে এই টেলিস্কোপটিকে ‘পৃথিবীর কান’-ও বলে থাকে, কারণ এটা এতটাই সংবেদনশীল যে, চাঁদে বসে কেউ যদি মোবাইল ফোনে কথা বলে, তবে সেই সিগন্যালও শনাক্ত করতে সক্ষম এই টেলিস্কোপ। এর বিশাল আয়তন একে মহাকাশের সংকেত ধরার ক্ষেত্রে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমে পরিণত করেছে। এর আগে পুয়ের্তো রিকোর ‘আরেসিবো’ ছিল বিশ্বের বৃহত্তম টেলিস্কোপ, যাকে পেছনে ফেলে চীন এখন মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য জানান দিচ্ছে।

মহাকাশ বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী এই টেলিস্কোপটি মানবসভ্যতার জন্য এমন কিছু তথ্য নিয়ে আসতে পারে, যা হয়তো বদলে দেবে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত সব ধারণা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত